kalerkantho

শুক্রবার । ২২ নভেম্বর ২০১৯। ৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

ব্রেক্সিট : দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তিতে মে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৭ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রেক্সিট : দীর্ঘমেয়াদি ভোগান্তিতে মে

কেন্দ্রীয় লন্ডনের পার্লামেন্ট স্কয়ারে ব্রেক্সিট নিয়ে দ্বিতীয়বার গণভোটের দাবিতে গত মঙ্গলবার বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। ছবি : এএফপি

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে গত মঙ্গলবার রাতে যে ভোটাভুটি হয়ে গেল তাতে প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মের পরাজয় নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিল আরো অনেক আগেই। জানার ছিল, মে কত ভোটের ব্যবধানে পরাজিত হচ্ছেন, সেই বিষয়টি। এত বড় ব্যবধানে লজ্জাজনক হারের কথা হয়তো খোদ প্রধানমন্ত্রীও ভাবেননি। অবশ্য তেমন কোনো ভাবনা বা হারের ধাক্কা সামাল দেওয়ার জন্য সময়ও পাননি তিনি। ব্রেক্সিট ফল হাতে পাওয়া মাত্রই বিরোধী লেবার পার্টি মে সরকারের বিরুদ্ধে আস্থা ভোটের ডাক দিয়েছে। গতকাল রাতেই (বাংলাদেশ সময় রাত ১টা) এই ভোট অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল।

এই পরিস্থিতি থেকেই বোঝা যায়, ব্রিটিশ রাজনীতিতে এখন কোন মাত্রার নৈরাজ্য চলছে। মঙ্গলবার রাতে যেসব এমপি মের বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তাঁরাই গতকাল মে সরকারকে রাখবেন না ফেলবেন, সেই প্রশ্নের মুখোমুখি এসে দাঁড়ান এবং পরিস্থিতি বিচারে বলা যায়, সম্ভবত প্রথম দিন ধাক্কা খেলেও দ্বিতীয় দিন সামলে উঠবেন মে। আস্থা ভোটে পার পেয়ে যাবেন। তবে বর্তমানের চেয়েও আরো দুর্বল হয়ে পড়বে তাঁর সরকারের অবস্থান।

মের দল কনজারভেটিভ পার্টির ব্রেক্সিটপন্থী এমপিরা প্রধানমন্ত্রীর আনা চুক্তি পছন্দ করেননি। তবে কট্টর বামপন্থী জেরেমি করবিনের নেতৃত্বাধীন লেবার পার্টি তাদের এই পরিস্থিতির ফায়দা লুটুক এমনটি কোনোভাবেই বরদাশত করবেন না তাঁরা। এ ছাড়া নর্দান আইরিশ পার্টি (এই দলের সমর্থনের কারণেই হাউস অব কমন্সে মের দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রেখেছে) এবং ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টি (ডিইউপি) স্পষ্ট করেই জানিয়েছে, তারা মের সঙ্গেই আছে। যদিও এই সমর্থনের অর্থ এই নয় যে তাঁরা মনে করেন ব্রেক্সিটের জন্য মেই আদর্শ ব্যক্তি। বরং দুর্বল মে সরকারের কাছ থেকে তাঁরা একটি কঠোর ব্রেক্সিট আদায় করতে পারবেন বলেই বিশ্বাস তাঁদের। তবে আস্থা ভোটে মে সমর্থকদের সবার প্রত্যাশা একই রকম নয়। অনেকেই চাইছেন চুক্তি ছাড়াই ব্রেক্সিট হবে। আবার অনেকে ব্রেক্সিটেই আগ্রহী নন।

গত মঙ্গলবারের পরাজয়ের পর মে নিজেই পদত্যাগ করবেন, এমনটাই প্রত্যাশিত ছিল। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীদের ক্ষেত্রে দস্তুরটাও তেমনই। তবে ওই রাতেই মে জানিয়ে দেন তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন না। আপাতত মের পরিকল্পনা হচ্ছে, ভোটে জয়ী হলে তিনি আগামী সোমবার বিকল্প একটি ব্রেক্সিট পরিকল্পনা নিয়ে হাউসে ফিরবেন। তবে সমস্যা হলো, চুক্তিতে যেকোনো পরিবর্তনের ক্ষেত্রেই ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) অনুমোদন লাগবে। সে ব্যাপারেই আগ্রহী নয় এই জোট। টানা দুই বছর ধরে চলা দীর্ঘ ও তিক্ত আলোচনার পর গত নভেম্বরে এই চুক্তিতে পৌঁছায় দুই পক্ষ। গোড়া থেকেই বোঝা যাচ্ছিল এই চুক্তির বিষয়ে আগ্রহী নন ব্রিটিশ এমপিরা। গত ডিসেম্বরেই এ নিয়ে ভোটাভুটি হওয়ার কথা ছিল হাউস অব কমন্সে। মে এর ব্যাপারে সমর্থন বৃদ্ধির জন্য ভোটাভুটি পিছিয়ে জানুয়ারি মাসে নিয়ে আসেন। গত মঙ্গলবারের ফলাফল (৪৩২-২০২ ভোটে) থেকেই স্পষ্ট তাঁর উদ্দেশ্য সফল হয়নি।

তবে নতুন করে আলোচনা শুরুর ব্যাপারে মোটেই আগ্রহী নয় ইউরোপীয় কমিশন। ইউরোপীয় পরিষদের সভাপতি ডোনাল্ড টাস্ক ভোটের ফলাফল প্রকাশের পর দেওয়া এক টুইটে বলেন, ‘চুক্তি অসম্ভব, চুক্তি ছাড়া ইইউ ছেড়ে যাওয়াও কারো পছন্দ নয়। তাহলে কে একটু সাহস করে বলবে, এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে ইতিবাচক সমাধান কী হতে পারে?’ তিনি ব্রিটেনের ইইউতে থেকে যাওয়ার দিকে ইঙ্গিত করেই এ মন্তব্য করেন। তাঁর এ মন্তব্যের মধ্যে এক ধরনের আশাবাদ থাকলেও ইইউর সার্বিক প্রতিক্রিয়া হাতাশাব্যঞ্জক। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক টাস্কের এক সহকর্মী বলেন, ‘তাঁরা (ব্রিটিশ এমপিরা) এই চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছেন। চুক্তি ছাড়া ব্রেক্সিটের পক্ষপাতী নন তাঁরা। তাহলে তাঁরা কী চাইছেন সেই সিদ্ধান্ত তাঁদেরই নিতে হবে।’ তাঁর কথাতেই এক ধররেন ইতিবাচক ইঙ্গিত রয়েছে। প্রথমত, ব্রেক্সিটের বর্তমান খসড়া চুক্তি নিয়ে আবারও আলোচনা করা যেতে পারে এবং দ্বিতীয়ত, ব্রেক্সিটের জন্য বেঁধে দেওয়া সময় (২৯ মার্চ) বাড়ানো যেতে পারে। যদিও তা কোনোভাবেই জুলাইয়ের বেশি নয়। সে সময় ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নির্বাচন হবে এবং নতুন করে ব্রিটিশ এমপিদের পার্লামেন্টে ঢোকানোর ইচ্ছা সংগঠনটির নেই।

তবে ইঙ্গিত যা-ই থাক, ইইউর বাস্তব অবস্থান হচ্ছে তারা সময় বা ফের আলোচনা কোনোটিই করবে না। অর্থাৎ ব্রিটেনকে চাপের মধ্যে রাখার ইচ্ছা আছে তাদের। তবে চূড়ান্তভাবে ইইউ কী করবে তা স্পষ্ট হবে আগামী সপ্তাহ নাগাদ। সূত্র : বিবিসি, সিএনএন।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা