kalerkantho

রবিবার। ১৭ নভেম্বর ২০১৯। ২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টেরেসা মের হুঁশিয়ারি

চুক্তি বাতিল করলে ব্রেক্সিটও বাতিল

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



চুক্তি বাতিল করলে ব্রেক্সিটও বাতিল

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টেরেসা মে পার্লামেন্ট সদস্যদের প্রতি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, ‘আমার চুক্তি গ্রহণ করুন অন্যাথায় ব্রেক্সিট বাতিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে।’ ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে ব্রিটেনের বের হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে যে চুক্তির প্রস্তাব তৈরি করা হয়েছে, তা নিয়ে আজ মঙ্গলবার ব্রিটিশ পার্লামেন্ট হাউস অব কমন্সে ভোটাভুটি হবে। এর আগে গতকাল সোমবার ব্রিটেনের স্টোক অন ট্রেন্টের শ্রমিকদের এক জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় এ কথা বলেন মে। এই ব্রিটিশ অঞ্চলটি ব্রেক্সিটপন্থী হিসেবে পরিচিত।

ওই ভাষণে মে বলেন, চুক্তি ছাড়াই ইইউ থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেয়ে পার্লামেন্টের নিক্তি হয়তো হয় ব্রেক্সিট পুরোপুরি বাতিল করে দেওয়ার দিকেই বেশি ঝুঁকে আছে। এই ভাষণে মে আরো বলেন, ‘২০১৬ সালের গণভোটের ফলাফল বাস্তবায়নে ব্যর্থ হলে তা ব্রিটিশ রাজনীতির জন্য ভয়ংকর ফলাফল বয়ে আনতে পারে।’ ওই ভোটে খুব অল্প ব্যবধানে ব্রেক্সিটপন্থীরা জয় পায়।

এদিকে একদল এমপি জানিয়েছেন, মের ব্রেক্সিট চুক্তি পার্লামেন্টে ব্যর্থ হলে ব্রেক্সিটপ্রক্রিয়ার দায় তাঁরা নেওয়ার পরিকল্পনা করছেন। এই চুক্তি ব্যর্থ হলে বিরোধী লেবার দলও মের বিরুদ্ধে আস্থা ভোট আনবে। ওই ভোটে মে উতরাতে না পারলে আগাম সাধারণ নির্বাচনের সম্ভাবনা তৈরি হবে। তাদের উদ্দেশ্যও তেমনই। এদিকে ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ব্রিটেনকে ব্রেক্সিটপ্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে আগামী ২৯ মার্চের মধ্যে ব্রিটেনের ইইউ ছাড়ার কথা। ইউরোপীয় কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, এই সময়ের মধ্যে ব্রেক্সিটপ্রক্রিয়া পূর্ণাঙ্গ রূপে সম্পন্ন করা সম্ভব নয়।

হাউস অব কমন্সকে উদ্দেশ করে গতকাল মের একটি চূড়ান্ত বিবৃতিও প্রকাশের কথা ছিল। আজকের ভোটের আগে এটিই মের শেষ চেষ্টা হওয়ার কথা।

আজ মের চুক্তি যদি সমর্থন না পায় (তেমন সম্ভাবনাই বেশি) তাহলে হয়তো এমপিরা একটি পার্লামেন্টারি কমিটি গঠন করবেন। ব্রেক্সিটপ্রক্রিয়া সম্পন্ন করার দায়িত্ব পাবে এই কমিটি। কনজারভেটিভ দলের নিক বোলেস এই প্রস্তাবের উদ্যোক্তা। তিনি বলেন, এই উদ্যোগ ব্রেক্সিট সম্পন্ন করবে, যা মে সরকার করে দেখাতে পারেনি। এই কমিটির তৈরি পরিকল্পনা পার্লামেন্টও পাস করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। বিবিসি রেডিওকে গত সোমবার তিনি বলেন, ‘হাউস যদি এই সমঝোতা চুক্তি পাস করে তাহলে সরকার এর বাস্তবায়ন করতে আইনগতভাবে বাধ্য থাকবে।’ তবে তার পরিকল্পনার বিরোধিতা করছেন অনেকেই। তাঁরা মনে করেন এর মাধ্যমে সরকারকে ক্ষমতা থেকে ফেলে দেওয়া যেতে পারে।

এদিকে বিরোধীদলীয় লেবার নেতারা বহু দিন ধরেই পার্লামেন্টে অনাস্থা প্রস্তাবের পক্ষে কাজ করছেন। এর আগেও তাঁরা এই প্রস্তাব একবার তুলেছেন, তবে সফল হয়নি। লেবার নেতা জেরেমি করবিন তেমন ঘোষণা দিয়েও রেখেছেন। বিবিসিকে তিনি গত রবিবার বলেন, ‘আমরা পছন্দমতো সময়ে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনব। শিগগিরই এমন একটা ঘটনা ঘটতে যাচ্ছে।’ সূত্র : সিএনএন।

 

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা