kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৯ নভেম্বর ২০১৯। ৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

তুরস্কের অর্থনীতি ধ্বংস করার হুমকি ট্রাম্পের

হুঁশিয়ারি উড়িয়ে দিয়েছে আংকারা, কুর্দিদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ চলবে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তুরস্কের অর্থনীতি ধ্বংস করার হুমকি ট্রাম্পের

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তুরস্ক যদি সিরিয়ায় কুর্দি যোদ্ধাদের (মিলিশিয়া) ওপর হামলা চালায়, তাহলে তাদের অর্থনীতি ধংস করে দেওয়া হবে। সিরিয়ায় মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের পর কুর্দি বাহিনীর ওপর হামলা হতে পারে, এই আশঙ্কার প্রেক্ষাপটে রবিবার এক টুইট বার্তায় তিনি এই সতর্কবার্তা দিলেন। একই সঙ্গে তিনি কুর্দি যোদ্ধাদেরও আংকারাকে উসকানি না দেওয়ার আহ্বান জানান। তবে এর কয়েক ঘণ্টার মাথায় তুরস্ক বলেছে, তারা কুর্দি মিলিশিয়াদের ওপর হামলা অব্যাহত রাখবে এবং তাদের মতে কুর্দিরা সন্ত্রাসী।

ট্রাম্পের প্রধান কূটনীতিক তথা মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেওর চলমান মধ্যপ্রাচ্য সফরের সময় ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি এলো। ক্রমবর্ধমান তুর্কি-মার্কিন উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে ইসলামিক স্টেটের (আইএস) বিরুদ্ধে যুদ্ধরত কুর্দি বাহিনীর ভাগ্য নিয়ে অন্য মিত্রদের আশ্বস্ত করতে ওই অঞ্চলে সফর করছেন পম্পেও। একই সঙ্গে ওয়াশিংটনের কুর্দি মিত্রদেরও ভরসা দিতে চান তিনি।

মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের ঘোষণার পর কুর্দি বাহিনীর সুরক্ষার বিষয়টি সামনে চলে আসে। কুর্দিরা মনে করছে, মার্কিন সেনারা চলে গেলে তাদের ওপর তুরস্ক হামলা চালাতে পারে। এ অবস্থায় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে তুরস্কের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে তুরস্ক সাড়া দিচ্ছে না। গত শনিবার আবুধাবিতে পম্পেও বলেছেন, তাঁরা এ নিয়ে আংকারার সঙ্গে চুক্তিতে পৌঁছার প্রত্যাশা করছেন।

রবিবার প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প টুইটারে বলেন, কুর্দিদের আঘাত করা হলে তুরস্ক অর্থনৈতিকভাবে ধংস হবে। একই সঙ্গে তিনি কুর্দিদের সুরক্ষায় ওই অঞ্চলে ৩০ কিলোমিটারের একটি ‘নিরাপদ অঞ্চল’  তৈরির ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তবে একইভাবে আমি চাই না, কুর্দি বাহিনী তুরস্ককে উসকানি দিক।’ তবে ঠিক কোন এলাকা নিয়ে, কাদের তত্ত্বাবধানে ও অর্থায়নে কে বা কারা ওই ‘নিরাপদ অঞ্চল’ গড়ে তুলবে, তা নির্দিষ্ট করেননি ট্রাম্প।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট টুইটারে আরো বলেন, ‘আইএস নির্মূলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপের কারণে তুরস্ক, রাশিয়া, ইরান ও সিরিয়া সবচেয়ে বেশি উপকৃত হয়েছে। আমরাও উপকৃত হয়েছি। কিন্তু এখন সময় হয়েছে সেনাদের ঘরে ফিরিয়ে আনার। এই অন্তহীন যুদ্ধের শেষ হোক।’

সিরিয়ার উত্তরাঞ্চলে কুর্দি মিলিশিয়া বাহিনী কুর্দিস পিপলস প্রটেকশন ফোর্সকে (ওয়াইপিজে) সঙ্গে নিয়ে আইএসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে মার্কিন বাহিনী। আর ওয়াইপিজির সঙ্গে যোগসূত্র রয়েছে তুরস্কে নিষিদ্ধ কুর্দিস্তান ওয়ার্কার্স পার্টির (পিকেকে)। তুরস্ক ওয়াইপিজিকে সন্ত্রাসী সংগঠন বলে থাকে। অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্টের হুঁশিয়ারিকে উড়িয়ে দিয়েছে তুরস্ক। ট্রাম্পের বার্তার কয়েক ঘণ্টার মাথায় গতকাল সোমবার দেশটি অঙ্গীকার ব্যক্ত করে বলেছে, তারা ‘সন্ত্রাসী’ কুর্দি বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখবে। গতকাল তুর্কি প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ানের মুখপাত্র ইব্রাহিম কালিন টুইটারে এক বিবৃতিতে বলেন, ‘আইএস ও কুর্দি বাহিনী ওয়াইপিজির মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা