kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

শেষ পর্যন্ত ইস্তফাই দিতে হলো অলোক বর্মাকে

‘স্বাভাবিক ন্যায়বিচার হয়নি’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১২ জানুয়ারি, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



শেষ পর্যন্ত ইস্তফাই দিতে হলো অলোক বর্মাকে

ভারতের শীর্ষ তদন্ত সংস্থা সেন্ট্রাল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (সিবিআই) প্রধানের পদ থেকে অপসারণের পর চাকরি থেকেই ইস্তফা দিলেন অলোক বর্মা। সুপ্রিম কোর্টের আদেশে সিবিআইপ্রধানের পদে ফেরার ৪৮ ঘণ্টার মাথায় তাঁকে সেখান থেকে সরানোর সিদ্ধান্ত নেয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন প্যানেল। বদলি করা দমকল বিভাগের ডিরেক্টর জেনারেলের পদে। কিন্তু সেই পদ অস্বীকার করে বর্মা অবসরের ২০ দিন বাকি থাকতেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেন।

তবে অপসারণ নিয়ে নিজের ক্ষোভ-অভিমানও চেপে রাখেননি অলোক বর্মা। সিবিআইয়ের সার্বভৌমত্বে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে বলে নাম প্রকাশ না করে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে কার্যত তোপ দেগেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক ন্যায়বিচার হয়নি। গোটা প্রক্রিয়াটাই এমনভাবে সাজানো হয়েছে, যাতে আমাকে সরানো যায়।’ এদিকে ক্ষমতায় ফিরে পূর্বসূরির যাবতীয় নির্দেশ বাতিল করলেন নাগেশ্বর রাও।

আগামী ৩১ জানুয়ারি ছিল বর্মার অবসরে যাওয়ার দিন। কিন্তু সিবিআই ডিরেক্টরের পদ থেকে সরিয়ে দমকলের ডিরেক্টরের পদে বদলি করার জেরে অবসরের ২০ দিন বাকি থাকতেই চাকরি থেকে ইস্তফা দিলেন তিনি।

সিবিআইয়ের স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানার সঙ্গে বিবাদের জেরে গত ২৩ অক্টোবর মধ্যরাতে ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় অলোক বর্মা ও রাকেশ আস্থানাকে। সেই নির্দেশ চ্যালেঞ্জ করে শীর্ষ আদালতে মামলা দায়ের করেন বর্মা। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ ছুটিতে পাঠানোর সেই নির্দেশিকা খারিজ করে দেন। ফলে পদ ফিরে পান বর্মা। গত বৃহস্পতিবার দায়িত্বভারও নিয়েছিলেন। কিন্তু এর মধ্যেই সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বৈঠকে বসে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ওই প্যানেল। সেই বৈঠকে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের কমিটি বৈঠকে বসে। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনে এ বৈঠক হয়। অলোক বর্মাকে সরানোর সিদ্ধান্ত ২-১ ভোটে পাস হয়। কমিটিতে থাকা কংগ্রেসের মল্লিকার্জুন খাড়গে এ সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী ও বিচারপতি এ কে সিক্রি অপসারণের পক্ষে ছিলেন। এরপর বর্মাকে বদলি করে পাঠানো হয় দমকলের অধিকর্তার পদে। কিন্তু সেই পদ গ্রহণ করতে অস্বীকার করে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দেন ১৯৭৯ ব্যাচের আইপিএস অফিসার অলোক বর্মা। নাম প্রকাশ না করে প্রধানমন্ত্রীকে আক্রমণ করে বর্মা বলেন, ‘বিভিন্ন বিষয়ে বাইরে থেকে আমার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছিল। সিবিআইয়ের মতো তদন্তকারী সংস্থার স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব নষ্ট করার চেষ্টা হচ্ছিল। আমি সংস্থার স্বতন্ত্রতার পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম।’ সূত্র : পিটিআই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা