kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

রুহানির অভিযোগ

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ‘অর্থনৈতিক সন্ত্রাস’

ইরানের ওপর আরোপিত মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে অর্থনৈতিক সন্ত্রাস হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি। যুক্তরাষ্ট্র ২০১৫ সালে ইরানের সঙ্গে সই হওয়া পরমাণু চুক্তি থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করার পর থেকেই ইরানের তেল বিক্রি থেকে শুরু করে অন্য ক্ষেত্রে ক্ষতিকর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এই নিষেধাজ্ঞার কথা উল্লেখ করেই গতকাল শনিবার এ মন্তব্য করেন রুহানি।

টেলিভিশনে প্রচারিত এক ভাষণে রুহানি বলেন, ‘ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যায্য ও অবৈধ নিষেধাজ্ঞা আমাদের জাতির বিরুদ্ধে স্পষ্ট সন্ত্রাসী তৎপরতা।’ আফগানিস্তান, চীন, পাকিস্তান, রাশিয়া ও তুরস্কের পার্লামেন্ট স্পিকারদের নিয়ে আয়োজিত সন্ত্রাস ও আঞ্চলিক সহযোগিতা বিষয়ক এক সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার সময় এ কথা বলেন রুহানি। ওই ভাষণটি ইরানের টেলিভিশন থেকে সরাসরি সম্প্রচার করা হয়।

ভাষণে রুহানি বলেন, ‘আমরা সর্বাত্মক হামলার মুখে পড়েছি, যা শুধু আমাদের স্বাধীনতা ও পরিচয়কেই হুমকির মুখে ফেলেনি বরং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বকেও ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।’ সম্মেলনে উপস্থিত অন্য দেশগুলোও যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে যে নিষেধাজ্ঞা ও চাপের মুখে পড়েছে সে কথাও উল্লেখ করেন রুহানি। তিনি বলেন, ‘তারা যখন চীনকে বাণিজ্য নিয়ে চাপের মধ্যে ফেলে আমরা সবাই ক্ষতিগ্রস্ত হই। এই চাপ যখন তুরস্কের ওপর আসে আমরা সবাই শাস্তি পাই। যেকোনো সময় তারা রাশিয়াকে হুমকি দিচ্ছে। আমরা সবাই বুঝতে পারছি আমাদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘তারা যখন ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তখন আমরা সবাই আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, জ্বালানি নিরাপত্তা এবং টেকসই উন্নয়নের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হই। বাস্তবতা হলো, তারা আমাদের সবার ওপরই নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে। আজ আমরা সবাই এখানে বসেছি তাদের জানাতে যে আমরা এ ধরনের ঔদ্ধত্য সহ্য করব না।’

একই সঙ্গে ইউরোপকে সতর্ক করে রুহানি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে অগ্রাহ্য করে ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়ার তাদের প্রচেষ্টার বেশির ভাগই হুমকির মুখে পড়েছে। ইউরোপ শুরু থেকেই পরমাণু চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহারের ঘোর বিরোধী। তারা এই চুক্তি কী করে বহাল রাখা যায় তার পথ খুঁজে পাওয়ারও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আফগানিস্তান থেকে চোরাচালান প্রতিরোধী ইরানের উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে রুহানি বলেন, ‘তাদের বুঝতে হবে ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে তারা মাদক ও সন্ত্রাসবিরোধী লড়াইয়ে তেহরানের তৎপরতাকেও দুর্বল করছে।’

ইউরোপীয় ইউনিয়ন বেশ কিছুদিন থেকেই ইরানে অর্থ সরবরাহ চালু রাখার জন্য বিশেষ পরিশোধ ব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন প্রতিহিংসাপরায়ণ হয়ে উঠতে পারে—এমন আশঙ্কায় বহু দেশই তাদের সঙ্গে সহযোগিতা করছে না। সন্ত্রাস সম্পর্কিত এটি এই দেশগুলোর দ্বিতীয় সম্মেলন। প্রথমটি অনুষ্ঠিত হয় গত ডিসেম্বরে ইসলামাবাদে। সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা