kalerkantho

মঙ্গলবার । ১৫ অক্টোবর ২০১৯। ৩০ আশ্বিন ১৪২৬। ১৫ সফর ১৪৪১       

প্যারিসে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন

বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, গণগ্রেপ্তার

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৯ ডিসেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বিক্ষোভকারীদের ওপর কাঁদানে গ্যাস, গণগ্রেপ্তার

প্যারিসে ইয়েলো ভেস্ট পরা আন্দোলনকারীরা গতকাল আবারও রাস্তায় নেমে ব্যারিকেডে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির চেষ্টা চালায়। ছবি : এএফপি

ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে গতকাল শনিবার আবারও তীব্র বিক্ষোভ করে ইয়েলো ভেস্ট আন্দলনকারীরা। এ নিয়ে টানা চতুর্থ সপ্তাহের মতো তাদের বিক্ষোভ চলছে। গতকাল প্যারিসের কেন্দ্রে প্রায় পাঁচ হাজার বিক্ষোভকারী জড়ো হয়ে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁর পদত্যাগ দাবি করে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে গতকাল পুলিশও শক্তি প্রদর্শন করে। তারা কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে এবং ৪৮১ বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করে। গত সপ্তাহেও একইভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেছিল পুলিশ।

প্যারিসের বিখ্যাত ক্যাম্পস-এলিজে এভিনিউয়ে গতকাল বিক্ষোভকারীরা ‘ম্যাখোঁ পদত্যাগ কর’ বলে স্লোগান দেয়। ড্যানিস নামের এক ট্রাকচালক বলেন, তিনিও অন্যদের মতোই ম্যাখোঁর প্রেসিডেন্ট প্রাসাদের দিকে অগ্রসর হওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। তাঁর অভিযোগ, ম্যাখোঁ শুধু ধনীদের প্রেসিডেন্ট। ৩০ বছর বসয়ী ড্যানিস নরম্যান্ডি বন্দর থেকে শুধু বিক্ষোভের জন্যই প্যারিসে এসেছেন। বলছিলেন, ‘আমি আমার ছেলের জন্য এখানে এসেছি। আমি চাই না ও এমন একটি দেশে বাস করুক, যেখানে গরিবরা বঞ্চিত হয়।’

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বাড়ার প্রতিবাদে ১৭ নভেম্বর থেকে সড়ক অবরোধের মাধ্যমে এই বিক্ষোভ শুরু হয় এ কর্মসূচিতে ট্যাক্সিচালকদের ব্যবহৃত ইয়েলো ভেস্ট পরে অংশ নিচ্ছে আন্দোলনকারীরা। এ কারণে প্রতিবাদটি ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে।

গতকাল এই আন্দোলনের একটি সমন্বিত রূপ দেখা যায় ফ্রান্সজুড়ে। বিক্ষোভকারীরা বহু রাস্তা ব্যারিকেড দিয়ে বন্ধ করে দেয়। প্রধানমন্ত্রী এডুয়ার্দো ফিলিপে বলেন, প্যারিস পুলিশ গতকাল ক্যাম্পস-এলিজে এভিনিউ এবং প্যারিসের বিভিন্ন রেলস্টেশন থেকে ৪৮১ জনকে আটক করেছে। এদের মধ্যে বহু ব্যক্তিকে আটক করা হয় সঙ্গে মুখোশ, হাতুড়ি, গুলতি ও পাথর বহনের জন্য। এগুলো দিয়েই পুলিশের ওপর হামলা চালানো হয়।

গতকাল বিক্ষোভ হবে, এমন আশঙ্কা থেকে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে দোকানপাট, জাদুঘর, আইফেল টাওয়ার এবং বহু মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। ফুটবল খেলা ও কয়েকটি কনসার্টও বাতিল করা হয়। গত সপ্তাহেও প্রায় একই ধরনের সহিংসতা প্রত্যক্ষ করে প্যারিস। ওই দিন দুই শতাধিক গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ম্যাখোঁ সরকারের মূল সংকট শুরু হয় গত সপ্তাহ থেকেই। একটা পর্যায়ে এসে যেকোনো সময় জরুরি অবস্থা জারি করা হতে পারে—এমন আশঙ্কাও তৈরি হয়। চাপে পড়ে প্রথমে জ্বালানি তেলের ওপর আরোপিত কর ছয় মাসের জন্য স্থগিত করা হয়। পরে কর একেবারেই তুলে নেওয়া হয়। তবে তাতে সমস্যার সমাধান হয়নি। গতকালও একইভাবে বিক্ষোভে নামে ইয়েলো ভেস্টধারীরা।

এবারের বিক্ষোভের আগে গত শুক্রবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাস্তানের বলেন, ‘গত তিন সপ্তাহে একটি দৈত্য তৈরি হয়েছে, যার নিয়ন্ত্রণ এর সৃষ্টিকারীদের হাতেও নেই।’ এই বিক্ষোভের বিষয়ে শূন্য সহনশীলতা দেখানো হবে বলেও হুঁশিয়ার করে দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গত শুক্রবার বিকেলে এ আন্দোলনের স্বঘোষিত মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। তাঁরা বৈঠক শেষে আন্দোলনকারীদের রাস্তায় না নামার জন্যও আহ্বান জানান। তবে তাতে কোনো কাজ হয়নি।

ফিলিপে জানান, দেশজুড়ে ৮৯ হাজার পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। শুধু প্যারিসেই রয়েছে আট হাজার পুলিশ। প্যারিসের রাস্তায় বেশ কয়েকটি সাঁজোয়া যানও অবস্থান নিয়েছে।

এ পরিস্থিতিকে প্রেসিডেন্ট ম্যাখোঁর জন্য ‘বড় ধরনের পরাজয়’ হিসেবেই দেখছেন পর্যবেক্ষকরা। জলবায়ু পরিবর্তন রোধ ও বাজেট ঘাটতি মেটাতে ম্যাখোঁ জ্বালানির ওপর বাড়তি করারোপ খুবই প্রয়োজনীয় বলে আগে মন্তব্য করেছিলেন। সূত্র : এএফপি, বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা