kalerkantho

সোমবার । ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১১ রবিউস সানি ১৪৪১     

আতঙ্কে ভিন্নমতের নির্বাসিত সৌদিরা

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে সাংবাদিক জামাল খাশোগির হত্যাকাণ্ডের পর ভিন্নমতাবলম্বী নির্বাসিত সৌদি নাগরিকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই আশঙ্কা করছে, দূতাবাসে ডেকে তাদেরও একই ধরনের ফাঁদে ফেলা হতে পারে।

সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের সমালোচক ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক জামাল খাশোগি এ মাসের গোড়ার দিকে ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে প্রয়োজনীয় কাগজ সংগ্রহ করতে গেলে তাঁকে হত্যা করা হয়। সৌদি কর্তৃপক্ষও বিষয়টি স্বীকার করেছে।

নির্বাসনের জন্য মূলত তিনটি দেশকে বেছে নেয় সৌদি আরবের নাগরিকরা। পাসপোর্ট নবায়নসহ নানা কাজে তাদের সৌদি দূতাবাসের দ্বারস্থ হতেই হয়। অভিযোগ রয়েছে, এই সুযোগই কাজে লাগাতে চাইছে সৌদি কর্তৃপক্ষ।

ওমর আবদুল আজিজ (২৭) বাস করেন কানাডায়। নতুন পাসপোর্ট করার জন্য এ বছরের গোড়ার দিকে তিনি কয়েকজন সৌদি কর্মকর্তার সহযোগিতা চান। তাঁকে দূতাবাসে যেতে বলা হয়। ফাঁদে ফেলা হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি যাননি। ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, তাদের কাছে ওই সব কর্মকর্তার সঙ্গে আবদুল আজিজের কথোপকথনের কয়েকটি টেপ আছে।

জর্জটাউনের সৌদি শিক্ষাবিদ আবদুল্লাহ আলাউদ বলেন, ওয়াশিংটনে একই ধরনের ফাঁদে পড়তে যাচ্ছিলেন তিনি। আলাউদের বাবা ধর্মীয় নেতা সালমান আল-আওদা সৌদি আরবে বন্দি এবং তাঁর বিরুদ্ধে বিচার চলছে। আলাউদ পাসপোর্ট নবায়ন করতে চাইলে তাঁকে দেশে ফিরে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। তিনি বলেন, ‘আমি জানতাম এটা ফাঁদ। এখন মেয়াদোত্তীর্ণ পাসপোর্ট নিয়েই বসে আছি।’

প্রিন্স বিন সালমান বাদশাহর উত্তসূরি নির্ধারিত হওয়ার পর থেকে এই সংকট বাড়ছে। বিদেশে থাকা তাঁর সমালোচকদের নানা ফাঁদে ফেলে দেশে ফিরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে। এ অভিযোগ দিয়ে সৌদি তথ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানায়।

খাশোগি এক বছর আগে ভার্জিনিয়ায় নির্বাসনে যান। তাঁর বহু বন্ধু ও স্বজন সৌদি আরবে বন্দি। খাশোগি খোলামেলাভাবেই প্রিন্স বিন সালমানের সমালোচনা করতেন। ২ অক্টোবর ইস্তাম্বুলে সৌদি কনস্যুলেটে যাওয়ার পর আর ফেরেননি খাশোগি। এ সময়ের মধ্যে বেশ কয়েকবারই ‘গল্প’ পাল্টায় সৌদি আরব। পরে তীব্র আন্তর্জাতিক চাপের মুখে তারা মেনে নেয় খাশোগিকে হত্যা করা হয়েছে।

কমিটি টু প্রটেক্ট জার্নালিস্টসের শেরিফ মানসুর কারনেজ ফর মিডল ইস্ট সেন্টারে লেখেন, ‘এখানে সবচেয়ে দৃঢ় ও ভীতিকরভাবে যে বার্তাটি পাওয়া যাচ্ছে তা হলো, কেউ সৌদি আরবের নৃশংস শাসকদের হাত থেকে নিরাপদ নয়।’

জানা গেছে, হত্যা করার আগে সৌদি আরবের পক্ষ থেকে খাশোগির সঙ্গে বেশ কয়েকবার যোগাযোগ করা হয়। জ্যেষ্ঠ পদে চাকরির প্রস্তাব দিয়ে তাঁকে দেশে ফেরার কথাও বলা হয়। খাশোগির এক বন্ধু জানান, এগুলো ফাঁদ হতে পারে—এমন আশঙ্কায় তিনি ওই সব প্রস্তাব গ্রহণ করেননি।

প্রিন্স বিন সালমান দায়িত্বে আসার পর থেকেই সৌদি আরবের পরিস্থিতি পাল্টাচ্ছে। বিদেশে আশ্রয় চাওয়া সৌদিদের সংখ্যা গত এক বছর দ্বিগুণ বেড়েছে। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা জানায়, ২০১৫ সালে এই সংখ্যা ছিল ৫৭৫ জন। সেখান থেকে বেড়ে ২০১৭ সালে এ সংখ্যা দাঁড়ায় এক হাজার ২৫৬-তে।

তবে এ ধরনের নৃশংসতা দিয়ে বিরোধী কণ্ঠস্বর বন্ধ করা প্রসঙ্গে আলাউদ বলেন, ‘খাশোগির ঘটনার মধ্য দিয়ে অপরাধীরা আমাদের বার্তা দিয়েছে, শাসকদের বিরুদ্ধে সামান্যতম বিরোধিতার আওয়াজ পেলেও তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হবে। তবে এভাবে কি বিরোধী কণ্ঠ দমন করা যায়? খাশোগির কণ্ঠ আগের চেয়েও অনেক বেশি জোরালো হয়েছে।’ সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা