kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যুক্তরাষ্ট্র-রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র চুক্তি

ট্রাম্পের ঘোষণায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উদ্বেগ বাড়ছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

২৩ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে হঠাৎ করেই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যকার পরমাণু অস্ত্র বিষয়ক চুক্তি। ডোনাল্ড ট্রাম্প ওই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেওয়ার পরপরই কয়েকটি দেশ উদ্বেগ জানিয়েছে। ফ্রান্স বলছে, ইউরোপের নিরাপত্তায় চুক্তিটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। চীন বলেছে, চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর আগে যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই দ্বিতীয়বার ভেবে দেখা উচিত। এ ছাড়া স্নায়ুযুদ্ধের সময় সই হওয়া চুক্তিটি টিকিয়ে রাখা যায় কি না, সে বিষয়ে আলোচনায় বসতে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রকে আহ্বান জানিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন।

দুই দেশের মধ্যে ১৯৮৭ সালে সই হওয়া চুক্তিটির নাম ‘ইন্টারমিডিয়েট রেঞ্জ নিউক্লিয়ার ফোর্সেস ট্রিটি’ (আইএনএফ)। তাতে স্বাক্ষর করেন যুক্তরাষ্ট্রের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগ্যান ও সোভিয়েত ইউনিয়নের নেতা মিখাইল গর্বাচেভ। চুক্তিতে বলা হয়, কোনো দেশ এমন ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করতে পারবে না, যেটি ৩১০ থেকে ৩৪০০ মাইল দূরে আঘাত হানতে সক্ষম। কিন্তু অনেক দিন ধরেই ট্রাম্প প্রশাসন অভিযোগ করে আসছে, পশ্চিমাদের নিশানা বানিয়ে মস্কো ‘৯এম৭২৯’ মডেলের ক্ষেপণাস্ত্র মোতায়েন করেছে, যা ৩১০ মাইলের চেয়ে বেশি দূরত্ব অতিক্রম করতে পারে; যদিও মস্কোর অভিযোগ, ওয়াশিংটনের নীতির কারণেই চুক্তি বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে না।

এ অবস্থায় গত শনিবার ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা চুক্তিটি মেনে চলছি। কিন্তু রাশিয়া ওই চুক্তি লঙ্ঘন করছে। এ কারণে আমরা চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর পরিকল্পনা করেছি।’

ট্রাম্পের এমন ঘোষণার পর গতকাল টেলিফোনে তাঁর সঙ্গে কথা বলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাখোঁ। দুজনের কথোপকথনের পর এক বিবৃতিতে ম্যাখোঁর দপ্তর জানায়, ‘ইউরোপের কৌশলগত নীতির স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আইএনএফ যে খুবই গুরুত্বপূর্ণ, সে বিষয়টি ট্রাম্পকে আমাদের প্রেসিডেন্ট অবহিত করেছেন।’

ইউরোপীয় কমিশনের মুখপাত্র মাজা কোচিজানচিচ সাংবাদিকদের বলেন, ‘এ ধরনের একটি চুক্তি সংরক্ষণের জন্য যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার নিজেদের মধ্যে আরো কথাবার্তা বলা প্রয়োজন।’

এই চুক্তি থেকে সরে দাঁড়ানোর একটি কারণ হিসেবে চীনের প্রসঙ্গও টেনেছিলেন ট্রাম্প। তাঁর মতে, চুক্তির বাইরে থাকায় চীন স্বাধীনভাবে পরমাণু অস্ত্র তৈরি করছে।

ট্রাম্পের এমন অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হুয়া চুনিং বলেন, ‘চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে দাঁড়ানোর আলোচনায় চীনের নাম ওঠা কোনোভাবেই সমীচীন নয়।’ তিনি আরো বলেন, ‘এ ধরনের একটি চুক্তি ভেস্তে গেলে অনেক ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। তাই বিষয়টি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অবশ্যই দ্বিতীয়বার ভেবে দেখা উচিত।’

দুই দিনের সফরে গত রবিবার মস্কো পৌঁছেছেন ট্রাম্পের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জন বোল্টন। সেখানে রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ ছাড়াও দেশটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে তাঁর বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকোভ বলেছেন, রাশিয়া কখনোই শত্রুপক্ষের ওপর প্রথমে হামলা চালাবে না; এমনকি কেউ পরমাণু হামলার হুমকি দিলেও। পরমাণু যুদ্ধ বাধলে রুশরা শহীদ হিসেবে স্বর্গে যাবে—রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের এমন মন্তব্যের পরপরই পেসকভের বিবৃতি এলো। সূত্র : এএফপি।

 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা