kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

বুঝেশুনেই প্রস্থানকাল বেছেছেন নিকি হ্যালি

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বুঝেশুনেই প্রস্থানকাল বেছেছেন নিকি হ্যালি

নিকি হ্যালে এমন একসময় ট্রাম্প প্রশাসন থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন যখন তাঁর মর্যাদা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক সম্ভাবনাও উজ্জ্বল থেকে উজ্জ্বলতর হয়ে উঠছে। এর আগে যেসব শক্তিশালী রাজনৈতিক খেলোয়াড় ট্রাম্প প্রশাসন ছেড়েছেন বা বলা ভালো ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন তার সঙ্গে হ্যালের প্রস্থানকে মেলানো যায় না। বরং বলা যেতে পারে এই প্রস্থানের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের মার্কিন এই রাষ্ট্রদূতের রাজনৈতিক সম্ভাবনার আরো কিছু নতুন দুয়ার খুলে গেল।

বিদায় বেলায় হ্যালেকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন ট্রাম্প। ভবিষ্যতে কোনো একসময় আমরা হয়তো ট্রাম্পের প্রশংসার এই অংশটি প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারের বিজ্ঞাপনে দেখব। রাজনৈতিকভাবে তেমন উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়েই পথচলা শুরু করেছেন হ্যালে। আগামী দিনগুলোতে বিষয়টি আরো স্পষ্ট হবে। হ্যালের আকস্মিক বিদায়ে ওয়াশিংটনের অনেকেই ভাবতে শুরু করেছেন, এখুনি কেন? তবে রাজনৈতিকভাবে এ প্রশ্নটি হবে, এখুনি নয় কেন?

ওয়াশিংটনে অনেকেরই ধারণা, ভবিষ্যতে প্রেসিডেন্ট পদে লড়তে যাচ্ছেন হ্যালে। হয়তো এ কারণেই হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পকে পাশে নিয়ে সাংবাদিকদের তিনি জানিয়েছেন, তেমন কিছু অন্তত ২০২০ সালেই ঘটতে যাচ্ছে না। এর মধ্যেই নিজের রাজনৈতিক পোর্টফোলিওতে আরো ঘষামাজা করবেন তিনি। এমনিতেও কোনো ধরনের স্বার্থ সংঘাতে না জড়িয়ে ট্রাম্পের জঙ্গলে বেশি দিন টিকে থাকা কঠিন। প্রেসিডেন্টের সঙ্গে দৃশ্যমানভাবে সংকটে জড়ানোর আগেই এ পদ থেকে সরে গেলেন তিনি। তাঁর বিদায় কোনোভাবেই সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী রেক্স টিলারসনের মতো অসম্মানজনক হয়নি। অথবা সাবেক জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা এইচ আর ম্যাকমাস্টারের সঙ্গে তাঁর তুলনা চলে না। নিউ জার্সির সাবেক গভর্নর ক্রিস ক্রিস্টি, ট্রাম্পের সাবেক রাজনৈতিক গুরু স্টিভ ব্যানন—ট্রাম্প প্রশাসন থেকে খেদানো ব্যক্তির তালিকা ছোট নয়। তা ছাড়া হ্যালে এখনো যথেষ্ট জনপ্রিয়। তাঁর গ্রহণযোগ্যতার হার ৬৩%, যা খোদ ট্রাম্পের চেয়ে ২০% বেশি।

ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির প্রচ্ছদ পৃষ্ঠা হচ্ছেন হ্যালে। যেমন জাতিসংঘকে তিনি ট্রাম্পের মন মতো ছকে ঢেলে সাজাতে চেয়েছেন। আবার ঠিক এই নীতির মধ্যেও নিজেকে আটকে রাখতে চাননি তিনি। যেমন রাশিয়া বা মানবাধিকার প্রসঙ্গে ঠিক ট্রাম্পের সঙ্গে পায়ে পা মিলিয়ে হাঁটার ইচ্ছা তাঁর ছিল না। পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ে নিজের একটা আলাদা অবস্থান তৈরির ইচ্ছা তাঁর ছিল। একই সঙ্গে ছিল প্রেসিডেন্ট পদপ্রার্থী হিসেবে নিজের যোগ্যতা বাড়ানোর আকাঙ্ক্ষা। ট্রাম্প প্রশাসন থেকে দূরে থাকার ফলে এর ব্যর্থতার দায়ভার বা কেলেঙ্কারি কোনোটিই তাঁকে স্পর্শ করবে না। বরং নিরাপদ দূরত্ব রেখে নিজের অবস্থানকে আরো জোরালো করতে পারবেন তিনি। যার ইঙ্গিত পদত্যাগপত্রেই তিনি দিয়েছেন। জানিয়েছেন, দেশের স্বার্থে সময়মতো নিজের মতামত প্রকাশ করবেন।

ফলে হ্যালের জন্য এটিই ছিল পদ ছাড়ার আদর্শ সময়। সূত্র : সিএনএন।

 

মন্তব্য