kalerkantho

মঙ্গলবার। ১৮ জুন ২০১৯। ৪ আষাঢ় ১৪২৬। ১৪ শাওয়াল ১৪৪০

ক্ষতি মোকাবেলায় ব্যয় ২.২৫ ট্রিলিয়ন ডলার

জলবায়ু পরিবর্তনের ‘ভয়াবহতার’ কথা বিশ্বাস করেন না ট্রাম্প

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষয়ক্ষতি মোকাবেলার খরচ আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে। জাতিসংঘ বলছে, গত ২০ বছরে এ বাবদ সোয়া দুই ট্রিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। এরও আগের ২০ বছরের তুলনায় সর্বশেষ ২০ বছরের খরচ ২৫০ শতাংশ বেড়েছে বলে জানায় সংস্থাটি। অতীতের এমন অবস্থা দেখেও জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ভবিষ্যৎ শঙ্কা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কোনো মাথাব্যথা নেই।

জাতিসংঘের দুর্যোগজনিত ঝুঁকি মোকাবেলাবিষয়ক সংস্থা ইউএনআইএসডিআর গতকাল বুধবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ঝড় ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের সংখ্যা ও তীব্রতা উভয়ই চরম হারে বাড়ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবেলায় গত চার দশকে ব্যয় করা অর্থের খতিয়ান তুলে ধরে সংস্থাটি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের কারণে ১৯৭৮-১৯৯৭ মেয়াদে ব্যয় হয়েছে ৮৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার।

পরের ২০ বছরে চিত্র আরো ভয়াবহ। এ ব্যাপারে বেলজিয়ামের ইউনিভার্সিটি ক্যাথলিক দি লুভেইনের সেন্টার ফর রিসার্চ অন দ্য এপিডেমিওলজি অব ডিজাস্টারসের এক প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে ইউএনআইএসডিআর জানায়, ১৯৯৮-২০১৭ মেয়াদে খরচ করতে হয়েছে সোয়া দুই ট্রিলিয়ন ডলার। প্রাকৃতিক দুর্যোগের ক্ষতি মোকাবেলায় যেসব রাষ্ট্রকে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করতে হয়েছে সেগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, জাপান ও ভারত।

ইউএনআইএসডিআর স্বীকার করে নিয়েছে, বিশ্বব্যাপী ঘটে যাওয়া সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ আমলে নিয়ে তারা খরচের এ খতিয়ান তৈরি করেনি। বরং গত ২০ বছরে ঘটে যাওয়া ছয় হাজার ৬০০টির বেশি প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে ব্যয় করা অর্থের পরিমাণ তারা নির্ণয় করেছে। তাতে যে চিত্র উঠে এসেছে, এর ভয়াবহতা নিয়ে বিশেষজ্ঞরা উদ্বিগ্ন।

অথচ উদ্বেগ নেই যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে আগামী দুই দশকে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির যে আশঙ্কা নিয়ে বিজ্ঞানীরা হরদম আলোচনা করছেন, সমাধানের রাস্তা দেখাচ্ছেন, সেগুলো নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে চলেছেন এ রিপাবলিকান নেতা। গত সোমবার প্রকাশিত জাতিসংঘের এক প্রতিবেদন ট্রাম্পের কাছে উপস্থাপন করা হলে পরদিন মঙ্গলবার তিনি বলেন, ‘ওটা আমাকে দেওয়া হয়েছে। প্রতিবেদনটা কারা তৈরি করেছে, তা আমি দেখতে চাই।’ তিনি এটাও বলেন, ‘প্রতিবেদনটা আমি দেখব, অবশ্যই দেখব।’

জাতিসংঘের গত সোমবারের ওই প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, ২০৩০ সাল নাগাদ বৈশ্বিক উষ্ণতা দেড় ডিগ্রি পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর ফলে দাবানল, বন্যা ও খাদ্যঘাটতির মতো দুর্যোগের মুখে পড়বে বিশ্বের লাখ লাখ মানুষ।

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত এ ঝুঁকির ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে ট্রাম্প বরাবরই সন্দিহান। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হতে না হতেই তিনি বলেছিলেন, জলবায়ু নিয়ে পরিবেশবাদীদের কথাবার্তা ধাপ্পবাজি ছাড়া কিছু নয়। গত মঙ্গলবারও তাঁর কণ্ঠে এ ব্যাপারে ছিল না কোনো উদ্বেগ। সূত্র : এএফপি, সিএনএন।

মন্তব্য