kalerkantho

সোমবার। ১৭ জুন ২০১৯। ৩ আষাঢ় ১৪২৬। ১৩ শাওয়াল ১৪৪০

তুরস্কের টিভিতে খাশোগির কনস্যুলেটে ঢোকার ফুটেজ

উদ্ধারে ট্রাম্পের সহযোগিতা চাইলেন খাশোগির বাগদত্তা
সৌদি আরব থেকে আসা ১৫ সদস্যের বিশেষ দলের ব্যাপারে তদন্ত শুরু

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১১ অক্টোবর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



তুরস্কের টিভিতে খাশোগির কনস্যুলেটে ঢোকার ফুটেজ

ইস্তাম্বুলের সৌদি কনস্যুলেটে নিখোঁজ প্রখ্যাত সাংবাদিক এবং রিয়াদের কঠোর সমালোচক জামাল খাশোগির একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে তুরস্কের টিভি চ্যানেল। এতে খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার মুহূর্তটি দেখানো হয়েছে। যেখানে খাশোগিকে সৌদি কনস্যুলেটের ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

এ ছাড়া সৌদি আরব থেকে আসা ১৫ সদস্যের বিশেষ একটি দলের ভিডিও প্রকাশ করেছে তারা। এই দলই ওই দিন সকালেই তুরস্কে পৌঁছে এবং ব্যক্তিগত বিমানযোগে ওই দিনই সৌদি আরবে ফিরে যায়। অভিযোগ রয়েছে খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার পিছে এই দলটির ভূমিকা রয়েছে। এই দল দুটির পরিচয়ের ব্যাপারে তদন্ত শুরু করেছে তুরস্কের পুলিশ।

এদিকে খাশোগির তুর্কি বাগদত্তা হাতিস সেনগিস গতকাল তাঁর হবু স্বামীকে খুঁজে পেতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হস্তক্ষেপ করার অনুরোধ জানিয়েছেন। সেনগিসকে বিয়ে করতে পূর্ববর্তী বিয়ের ডিভোর্সের কাগজ সংগ্রহের জন্য খাশোগি গত ২ অক্টোবর সৌদি কনস্যুলেটে যান। এ সময় সেনগিস কনস্যুলেটের বাইরেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁর দাবি, খাশোগি কনস্যুলেট থেকে আর বের হননি। অভিযোগ রয়েছে, সৌদি যুবরাজ সালমানের তীব্র সমালোচক খাশোগিকে সৌদি আরব অপহরণ অথবা হত্যা করেছে। যদিও রিয়াদ এ অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে বাতিল করে দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য ও জাতিসংঘ।

এমন এক পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল ভিডিও ফুটেজগুলো প্রকাশ করে তুরস্কের ২৪ টিভি। প্রথম ফুটেজে দেখা যায়, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াশিংটন পোস্টের সাংবাদিক খাশোগি সৌদি কনস্যুলেটে প্রবেশ করছেন। তখন ঘড়িতে বাজে স্থানীয় সময় দুপুর  ১টা ১৪ মিনিট। বলা হচ্ছে এর পর থেকেই তিনি নিখোঁজ। পরের ফুটেজগুলোতে সৌদি আরব থেকে আসা দুটি দলকে দেখা যায়। এদের মোট সদস্যসংখ্যা ১৫। দুটি ব্যক্তিগত বিমানযোগে তাঁরা ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে নামেন। দুটির সময়ই খাশোগি কনস্যুলেটে প্রবেশের আগে। পরে তাঁদের একটি কালো মিনিবাসে করে কনস্যুলেট থেকে বের হয়ে যেতেও দেখা যায়। তুরস্কের আকসাম পত্রিকার এডিটর ইন চিফ মুরাট কেলকিতলিওগলু বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন ওই মিনিবাসে খাশোগি ছিলেন। মিনিবাসটি সরাসরি বিমানবন্দরে গিয়ে ব্যক্তিগত বিমানে উঠে সৌদি আরবে যায়। মাঝে একটি বিমান দুবাই এবং অন্যটি মিসরে যাত্রাবিরতি করে। তুরস্কের পুলিশ এই দুটি বিমানের ব্যাপারে তদন্ত করছে।

খাশোগির প্রসঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যুক্তরাজ্য। গতকাল দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেরেমি হান্ট সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আদেল আল-জুবাইরকে ফোন করে এ ব্যাপারে অবস্থান স্পষ্ট করার আহ্বান জানান। হান্ট বলেন, ‘বন্ধুত্ব নির্ভর করে অভিন্ন মূল্যবোধের ওপর।’ জাতিসংঘও দ্রুত স্বতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।

এদিকে খাশোগির বাগদত্তা সেনগিস ওয়াশিংটন পোস্টে লেখা এক নিবন্ধে বলেছেন, ‘আমি খাশোগির নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পের সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা বিয়ের পরিকল্পনা করছিলাম। আমাদের জীবনের পরিকল্পনা করছিলাম। জামাল অত্যন্ত মূল্যবান একজন মানুষ। অনুসরণযোগ্য গবেষক এবং একজন সাহসী মানুষ যিনি নিজের নীতির জন্য লড়াই করছিলেন। তিনি যদি তুরস্কে নিহত বা অপহৃত হন আমি জানি না আমি কী নিয়ে বেঁচে থাকব।’ সূত্র : বিবিসি, এএফপি।

মন্তব্য