kalerkantho

সোমবার । ১৪ অক্টোবর ২০১৯। ২৯ আশ্বিন ১৪২৬। ১৪ সফর ১৪৪১       

বিশ্লেষকদের আশঙ্কা

আফগানিস্তানের সহিংস পরিস্থিতি সিরিয়ার চেয়েও ভয়াবহ হচ্ছে

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

১৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আফগানিস্তানের সংকট সিরিয়া পরিস্থিতির চেয়ে অনেক বেশি ভয়াবহতার দিকে যাওয়ার আশঙ্কা করছেন বিশ্লেষকরা। যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের অনুপ্রবেশের ১৭ বছর পর আফগানিস্তানে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তাতে পরিস্থিতি শুধুই খারাপের দিকে যাচ্ছে, বাড়ছে নিহতের সংখ্যা। বর্তমানে যে পরিস্থিতি দাঁড়িয়েছে, তাতে এ বছরকে আফগানিস্তানের জন্য ‘সবচেয়ে সহিংস বছর’ অ্যাখ্যা দিয়েছেন একজন বিশ্লেষক।

ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিসের আফগানিস্তানবিষয়ক বিশেষজ্ঞ জনি ওয়ালশের অভিমত, আফগানিস্তানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ যেভাবে বাড়ছে, তাতে দেশটি সম্ভবত বিশ্বের ভয়াবহতম যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বিগত বেশির ভাগ বছরকে সবচেয়ে সহিংস বছর হিসেবে অ্যাখ্যায়িত করা হয়েছে। পরিস্থিতি অব্যাহতভাবে খারাপের দিকে যাচ্ছে।’

নিহতের সংখ্যা বিচারেও আফগানিস্তানের পরিস্থিতি এখন সিরিয়ার চেয়ে খারাপ। সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের হিসাবে, চলতি বছর এখন পর্যন্ত সিরিয়ায় ১৫ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে। অন্যদিকে ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের গ্রায়েম স্মিথ জানান, এ বছর এখন পর্যন্ত আফগানিস্তানে শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে নিহতের সংখ্যা ২০ হাজারের বেশি। সুইডেনের আপসালা কনফ্লিক্ট ডাটা প্রগ্রামের হিসাবে, আফগানিস্তানে নিহতের সংখ্যা রেকর্ড ছুঁতে পারে।

আফগানিস্তানে পরিস্থিতির ভয়াবহতা বোঝাতে গিয়ে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ডেপুটি মুখপাত্র নাসরাত রাহিমি জানান, প্রতি সপ্তাহেই বিদ্রোহীদের তরফে ৩০০-৪০০ জন করে মারা পড়ছে। সরকারি বাহিনী কিংবা সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার তথ্য তিনি অবশ্য জানাননি।

বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া নিহতের সংখ্যাগুলো প্রকৃত সংখ্যার চেয়ে অনেক কম এবং মাঠপর্যায়ের অবস্থা অনেক বেশি খারাপ বলে মনে করছেন বেশির ভাগ বিশ্লেষক। এই যেমন স্মিথের অভিমত, সরকারি বাহিনীতে হতাহতের সংখ্যা ‘সম্ভবত ভয়াবহ’।

এ বছর আফগানিস্তানে হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণ সম্পর্কে পর্যবেক্ষকরা জানান, আগামী ২০ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় পার্লামেন্ট নির্বাচন ঘিরে সহিংসতা এমনিতেই বেড়েছে, তার ওপর নির্বাচনে তালেবানের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার যে চেষ্টা চলছে, তাতে সহিংসতার মাত্রা আরো বেড়েছে।

এ সহিংসতার জন্য বিদেশি হস্তক্ষেপ বিশেষত পাকিস্তানকে দায়ী করেছেন আফগানিস্তানের জেনারেল আতিকুল্লাহ আমারখিল। তাঁর অভিযোগ, তালেবান নেতাদের জন্য পাকিস্তানকে স্বর্গরাজ্য বানিয়ে রেখেছে ইসলামাবাদ সরকার এবং এ ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানকে সামাল দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আফগানিস্তানবিষয়ক কৌশলেও ব্যর্থতা রয়েছে বলে মনে করেন পর্যবেক্ষকরা। স্পেশাল ইন্সপেক্টর জেনারেল ফর আফগানিস্তান রিকনস্ট্রাকশনের (সিগার) তথ্যও বলছে, আফগান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের কৌশল খুব একটা কাজে দেয়নি। সিগারের হিসাবে, এক বছরের বেশি সময় ধরে আফগানিস্তানের ১৪ শতাংশ এলাকা তালেবানের নিয়ন্ত্রণে। অথচ কমে গেছে সরকারের নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকা। গত বছর আগস্টে যেখানে সরকার ৫৭ শতাংশ এলাকায় আধিপত্য করত, সেখানে এ বছর সংখ্যাটা ১ শতাংশ কমে গেছে। আফগানিস্তানের বাকি এলাকাগুলোর নিয়ন্ত্রণে বিভিন্ন সময় পরিবর্তন আসে।

এত কিছুর মধ্যেও আশার আলো দেখতে পান পর্যবেক্ষকরা। গত জুনে সরকার ও তালেবানের মধ্যে হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিই এ আশার কারণ। যুদ্ধের ইতি ঘটানোর চেষ্টা অব্যাহত থাকবে, তেমন আশাও তাঁরা করছেন। উইলসন সেন্টারের মাইকেল কুজেলম্যান বলেন, ‘আফগান ও মার্কিন সরকার বুঝতে পেরেছে, সব সহিংসতা আর এত বড় যুদ্ধের সমাপ্তি টানতে হলে শান্তিপ্রক্রিয়াই একমাত্র পথ।’ সূত্র : এএফপি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা