kalerkantho

মঙ্গলবার । ২১ জানুয়ারি ২০২০। ৭ মাঘ ১৪২৬। ২৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪১     

ইদলিবে অভিযান শুরু আসাদ বাহিনীর

ভাগ্য নির্ধারণী বৈঠকে ইরান-রাশিয়া-তুরস্ক

কালের কণ্ঠ ডেস্ক   

৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভাগ্য নির্ধারণী বৈঠকে ইরান-রাশিয়া-তুরস্ক

সিরিয়ার অন্যতম বিদ্রোহী অধ্যুষিত ইদলিব প্রদেশে সরকারপক্ষ রাসায়নিক অস্ত্র হামলা চালানোর গোপন প্রস্তুতি নিচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের এমন দাবি উত্থাপনের মধ্যে এ অঞ্চলের ভাগ্য নির্ধারণে বৈঠকে বসেছেন ইরান, রাশিয়া ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট। সিরিয়া যুদ্ধে সরাসরি জড়িত এই তিন দেশের প্রেসিডেন্ট গতকাল শুক্রবার ইরানের রাজধানী তেহরানে বৈঠকে বসেন।

গত সাত বছরের গৃহযুদ্ধে সিরিয়া এমনিতেই বিধ্বস্ত। তার ওপর ইদলিবে নতুন করে চরম মাত্রার যুদ্ধ শুরু হলে সেখানকার বিপর্যস্ত মানবিক পরিস্থিতি পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে, এমন আশঙ্কার মধ্যে গতকাল ইদলিব ইস্যু নিয়ে বৈঠক করেন ইরানের প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানি, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট  ভ্লাদিমির পুতিন ও তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়িপ এরদোয়ান। বলা দরকার, গতকাল সকাল থেকে ইদলিবে সরকারবিরোধীদের অবস্থান লক্ষ্য করে নতুন করে বিমান হামলা শুরু হয়েছে। 

এর আগে সিরিয়ায় নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের দূত জিম জেফরি দাবি করেন, সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদের অনুগত বাহিনী বিদ্রোহীদের ওপর রাসায়নিক হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, এমন প্রমাণ যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আছে। এ দাবির ভিত্তিতে গত সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর হুঁশিয়ারি দেয়, সিরিয়ার সরকার বা তাদের মিত্র বাহিনী রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করলে এর জবাব দিতে যুক্তরাষ্ট্র ছাড়বে না। এখানে বলা দরকার, সিরিয়ার গৃহযুদ্ধে সরকারপক্ষকে সমর্থন ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে ইরান ও রাশিয়া। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র সমর্থন দিচ্ছে বিদ্রোহী পক্ষকে। নিজেদের স্বার্থ অনুসারে তুরস্কের সমর্থনও সিরিয়ার কয়েকটি বিদ্রোহী গোষ্ঠীর প্রতিই আছে।

গতকালের বৈঠকে তুরস্কের প্রেসিডেন্ট অন্য দুই দেশের প্রেসিডেন্টের প্রতি ইদলিবে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। তাঁর মতে, ইদলিবে যুদ্ধবিরতি করা গেলে সেটাই হবে তাঁদের বৈঠকের জন্য এক জয়।

ইদলিবে গত বছর এপ্রিলে রাসায়নিক অস্ত্র হামলায় ৮০ জন নিহত হয়। পশ্চিমা গোষ্ঠী, জাতিসংঘ ও রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা (ওপিসিডাব্লিউ) ওই হামলার জন্য আসাদ সরকারকে দায়ী করে আসছে। অন্যদিকে সরকাপক্ষ এ দাবি বরাবরই অস্বীকার করে চলেছে। দুই পক্ষের বাগিবতণ্ডার মধ্যে আবারও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, সিরিয়ার সরকার ইদলিবে রাসায়নিক অস্ত্র হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

সিরিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিবে প্রায় ২৯ লাখ মানুষের বাস। এর মধ্যে ১০ লাখ শিশু। ইদলিবে প্রায় ৩০ হাজার সরকারবিরোধী যোদ্ধা রয়েছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করেন। বিদ্রোহী অধ্যুষিত এ এলাকার অর্ধেক অধিবাসী এরই মধ্যে কমপক্ষে একবার ঘরবাড়ি ছাড়তে বাধ্য হয়েছে। আবার যুদ্ধ বাধলে সে ক্ষেত্রে তাদের যাওয়ার আর কোনো জায়গাই নেই। জাতিসংঘের হিসাবে, পুরোদমে যুদ্ধ শুরু হলে ইদলিবের প্রায় আট লাখ মানুষ বাস্তুহারা হতে পারে।

ইদলিব ইস্যু নিয়ে ইরান, রাশিয়া ও তুরস্ক বৈঠকে বসলেও এতে অনুপস্থিত রয়েছে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ পক্ষ যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র : বিবিসি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা