kalerkantho

রংপুরে কিট সংকটে পরীক্ষা বন্ধ

সীমিত কিট দিয়ে দু-একটিতে শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হলেও তা দ্রুত বন্ধের আশঙ্কা

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



উত্তরবঙ্গের অন্যতম চিকিৎসাকেন্দ্র রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা এখনো শুরু হয়নি। এর ওপর শনাক্তকরণ পরীক্ষার কিট সংকট দেখা দেওয়ায় বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেও ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা (এনএসওয়ান) ব্যাহত হচ্ছে। সীমিত কিট দিয়ে দুই-একটিতে শনাক্তকরণ পরীক্ষা করা হলেও তা দ্রুত বন্ধের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ জুলাই থেকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর ভিড় বেড়েই চলছে। গতকাল রবিবার পর্যন্ত ১৫ জন শিশু, ১১ জন নারীসহ ১১২ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাদের মধ্যে ২০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়ে হাসপাতাল ছেড়েছে। বাকিদের বিশেষ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।

হাসপাতালে ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষার সুযোগ না থাকায় রোগীরা বাইরে থেকে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতো। কিন্তু কিটের অভাবে গত ১ আগস্ট থেকে রংপুরের অন্যতম ডায়াগনস্টিক সেন্টার আপডেট, ৩ আগস্ট থেকে পপুলার ডায়াগানস্টিক সেন্টারসহ রোগ নির্ণয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো ডেঙ্গু শনাক্তকরণ পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছে। এ ছাড়া ল্যাবএইড গত শনিবার পর্যন্ত মাত্র ৩০টি কিট দিয়ে ও রংপুর কমিউনিটি হাসপাতাল চাহিদার অনেক কম কিট দিয়ে নামমাত্র ডেঙ্গু পরীক্ষা অব্যাহত রেখেছে।

এ বিষয়ে আপডেট ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক (সমন্বয়কারী) নিয়ামুল আতিকুর রহমান পুলক বলেন, ‘কিট না পাওয়ায় ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি।’ তবে কিটপ্রাপ্তির সঙ্গে সঙ্গে আবার ডেঙ্গু পরীক্ষা চালু করার আশ্বাস দেন তিনি। একই ধরনের কথা জানান রংপুর পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের প্রধান সমন্বয়কারী আব্দুল আহাদ। তিনি বলেন, শনিবার পর্যন্ত সেবা দেওয়া গেছে। এরপর কিট না থাকায় বন্ধ আছে।

রংপুর কমিউনিটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক আশরাফুল আলম আল-আমিন বলেন, ‘ঢাকার একটি প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিটি কিট ১৪০ থেকে ১৮০ টাকায় সংগ্রহ করে বেশ কিছুদিন ধরে আমরা ডেঙ্গু পরীক্ষা চালিয়ে আসছিলাম। সর্বশেষ গত বুধবার ১০০ কিটের অর্ডার দিলে তারা মাত্র ১০টি দিতে সক্ষম হয়।’

ল্যাবএইড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের নির্বাহী কর্মকর্তা (রিপোর্ট) অপু বলেন, শনিবার ঢাকা অফিস থেকে মাত্র ৩০টি কিট দেওয়া হয়েছে। তা দিয়ে ব্যাপক চাহিদা পূরণ করতে হিমশিম খেতে হয়েছে।

এদিকে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়াদের মধ্যে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা করাতে আগ্রহী ইব্রাহীম আলী, হুমায়ুন কবীর, চান মিয়াসহ অনেকে অভিযোগ করেন, অনেক ডায়াগনস্টিক সেন্টারে আগে এ রোগের পরীক্ষা হলেও বর্তমানে হচ্ছে না। তাঁরা সরকারিভাবে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালসহ সব সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষা শুরুর দাবি জানান।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক ডা. সুলতান আহমেদ বলেন, ‘আমরা নিজস্ব উদ্যোগে হাতে গোনা কিছু কিট এনে ডেঙ্গু পরীক্ষা করছি। তবে এটি সবার জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি। যদি কেউ হাসপাতালে ভর্তি হন এবং চিকিৎসক তাঁর ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বলেন, অবশ্যই তাঁর পরীক্ষা করা হবে।’

রংপুরের জেলা প্রশাসক আসিব আহসান বলেন, ‘ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলোতে কী কারণে ডেঙ্গু পরীক্ষা হচ্ছে না, আমরা তা খতিয়ে দেখে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে সঠিক ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য অবগত করব। যদি কোনো সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান কিট থাকার পরও বেশি অর্থের জন্য প্রতারণা শুরু করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

মন্তব্য