kalerkantho

শনিবার । ১০ ফাল্গুন ১৪২৬ । ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২০। ২৮ জমাদিউস সানি ১৪৪১

রাজবাড়ী

কখনো ঢাকা যায়নি সালমা ও স্বর্ণালী

রাজবাড়ী প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



কখনো ঢাকা যায়নি সালমা ও স্বর্ণালী

রাজবাড়ীতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। এদিকে রাজধানী ঢাকায় না গিয়েও জেলার অনেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছে। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে ভর্তি থাকা ডেঙ্গু আক্রান্ত ১২ জন রোগীর মধ্যে সালমা বেগম ও স্বর্ণালী বেগম নামের দুই নারীকে পাওয়া গেছে, যাঁরা কখনো রাজধানী ঢাকায় যাননি। এর পরও তাঁরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

রাজবাড়ী সদর হাসপাতালের তৃতীয় তলার মেডিসিন ওয়ার্ডে স্থাপিত ডেঙ্গু কর্নারে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পাঁচজন নারী ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি রয়েছেন। এর মধ্যে সদর উপজেলার পাঁচুরিয়া ইউনিয়নের বিষ্ণুপুর গ্রামের মৃত আজম মোল্লার স্ত্রী সালমা বেগমও রয়েছেন। তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার তিনি জ্বরে আক্রান্ত হন। যে কারণে বৃহস্পতিবার তিনি রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসেন। ওই সময় চিকিৎসক তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার পরামর্শ দেন। সেই সঙ্গে রক্ত পরীক্ষা করাতে বলেন। গত শনিবার বিকেলে পরীক্ষার রিপোর্ট পেয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে তাঁর ডেঙ্গু হয়েছে।

সালমা বেগম আরো বলেন, তাঁর স্বামী তিন বছর আগে মারা গেছেন। এইচএসসি প্রথম বর্ষে পড়া একমাত্র মেয়েকে নিয়ে তিনি স্বামীর বাড়িতে বসবাস করেন। তিনি কখনো রাজধানী ঢাকায় যাননি এবং ঢাকা থেকে তাঁর কোনো আত্মীয়-স্বজনও বাড়ি আসেনি। তাহলে কিভাবে এমন হলো তা তিনি বুঝতে পারছেন না।

তাঁর পাশে থাকা স্বজন জুলেখা বেগম জানান, তাঁরা এখন আতঙ্কিত। কারণ এভাবে যদি গ্রামাঞ্চলে ডেঙ্গু বিস্তার লাভ করে, তাহলে তাঁরা মা-বাবা, স্বামী, ছেলে-মেয়েকে নিয়ে কোথায় যাবেন।

পাশের সিটে অবস্থান করা সদর উপজেলার বরাট ইউনিয়নের চরকাশিমা গ্রামের দুবাইপ্রবাসী রিয়াজুল মোল্লার স্ত্রী স্বর্ণালী বেগম (২১) বলেন, তিনিও কখনো রাজধানী ঢাকায় যাননি। গত রবিবার থেকে তাঁর জ্বর। এ অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তিনি সদর হাসপাতালে চিকিৎসক দেখিয়ে রক্ত পরীক্ষা করান। ওই দিনই রক্ত পরীক্ষার রিপোর্টে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। তিনিও বুঝতে পারছেন না কিভাবে তিনি ডেঙ্গু আক্রান্ত হলেন। তাঁর আড়াই বছর বয়সী একটি মেয়ে শিশু রয়েছে। তবে তিনি জানিয়েছেন, গত শুক্রবার ঢাকা থেকে তাঁর দেবর, দেবরের স্ত্রী ও সন্তানরা বেড়াতে আসে। তবে তারা সবাই সুস্থ রয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা