kalerkantho

মশার ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন

বরগুনায় ক্রমেই বাড়ছে রোগী। গত শুক্রবার এক শিশু মারা যাওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক বেড়েছে

বরগুনা প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে




মশার ওষুধের মান নিয়ে প্রশ্ন

বরগুনার বঙ্গবন্ধু স্মৃতি কমপ্লেক্সে এক দিন পর পর ফগার মেশিন দিয়ে ওষুধ ছিটানো হয়। অথচ সেখানেই পাওয়া গেল প্রাপ্তবয়স্ক এডিস মশা। ফলে ফগার মেশিনের মাধ্যমে ছিটানো ওষুধের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এদিকে বরগুনায় ক্রমেই বেড়ে চলেছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে এরই মধ্যে ১৮ মাস বয়সী এক শিশু মৃত্যুবরণ করেছে। এ নিয়ে বরগুনাবাসী বেশ উত্কণ্ঠায় দিন পার করছে।

জানা গেছে, গত শনিবার বিকেলে বরগুনা পৌরসভা বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে দাঁড়ানো অবস্থায় স্থানীয় একজন সংবাদকর্মীকে একটি মশা কামড় দেয়। সেটি মারার পর মশাটি এডিস সন্দেহ হলে পলিথিনে মুড়িয়ে তিনি বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে আসেন। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক মো. আকতারুজ্জামান আজাদ মশাটিকে প্রাপ্তবয়স্ক এডিস মশা হিসেবে শনাক্ত করেন।

শনিবার দুপুরে বরগুনা পৌরসভার ১ নম্বর ওয়ার্ডের চরকলোনি এলাকার বাসিন্দা মো. রিয়াজ আহমেদকে তাঁর বাসায় একটি মশা কামড় দেয়। মশাটি মারার পর এটি এডিস মশার মতো দেখালে তিনি ইন্টারনেট থেকে এডিস মশার ছবি বের করে মিলিয়ে দেখেন। মৃত মশাটির এডিস মশার সঙ্গে মিল থাকায় তিনি পলিথিনে মুড়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসকদের কাছে নিয়ে আসেন। পরে হাসপাতালের চিকিৎসক মো. আকতারুজ্জামান আজাদ মশাটিকে প্রাপ্তবয়স্ক এডিস মশা হিসেবে শনাক্ত করেন।

এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মো. আখতারুজ্জামান আজাদ বলেন, ‘আমার কাছে যে মশা দুটি নিয়ে আসা হয়েছিল, দুটিই এডিস মশা। এডিস মশা কালো রঙের হয়ে থাকে এবং এর পায়ে সাদা ডোরাকাটা দাগ থাকে।’ তিনি আরো বলেন, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে এ বছর প্রথম প্রথম যেসব ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী এসেছে, তারা ছিল ঢাকাফেরত। কিন্তু পরবর্তী সময়ে দেখা গেছে, আক্রান্তদের অনেকেই ঢাকা যায়নি, এমনকি তাদের পরিবারে বা বাড়ির কেউ ঢাকা যায়নি এবং তাদের কাছেও ঢাকা থেকে কেউ আসেনি। তাই বরগুনায় এডিস মশা আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। যে মশা দুটি দেখে বরগুনায় এডিস মশার উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়েছে, মশা দুটি বংশ বিস্তারে সক্ষম।

বরগুনা জেলা নাগরিক অধিকার সংরক্ষণ কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. মনির হোসেন কামাল বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সে নিয়মিত মশা নিধনের ওষুধ দেওয়ার কথা আমরা শুনেছি, যা অন্য এলাকাগুলোতে দেওয়া হয় না। কিন্তু সেই বঙ্গবন্ধু কমপ্লেক্সেই যখন এডিস মশা পাওয়া যায়, তখন এই মশা নিধনের ওষুধের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক।’

এদিকে বরগুনার সিভিল সার্জন অফিস থেকে পাওয়া তথ্য মতে, শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বরগুনায় ৪৩ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করা হয়েছে। এদের মধ্যে বরগুনা সদর উপজেলার গৌরচিন্না ইউনিয়নের লাকুরতলা গ্রামের ইসাহাক আলীর শিশুপুত্র তাওহীদকে গত ৩০ জুলাই মঙ্গলবার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী হিসেবে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শিশুটির অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত শুক্রবার দুপুরে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এরপর সন্ধ্যায় সেখানে শিশুটির মৃত্যু হয়।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন সদর উপজেলার কদমতলার হালিমা বেগম বলেন, ‘আমি বাড়িতেই থাকি। কাছাকাছি সময়ে কোথাও বেড়াতেও যাইনি। আমার বাড়িতেও কেউ দূর থেকে বেড়াতে আসেনি। হঠাৎ আমি জ্বরে আক্রান্ত হলে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসি। এরপর পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে চিকিৎসকরা আমাকে ডেঙ্গু আক্রান্ত বলে জানান। তখনই আমি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে ভর্তি হই।’ একই কথা বলেন বাওয়ালকর এলাকার আছিয়া বেগম।

এদিকে বরগুনায় এডিস মশা শনাক্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে শহরজুড়ে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দেয়। বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহীন খান বলেন, মশা নিধনে শুধু ওষুধ দিলেই হবে না, সবাইকে সচেতন হতে হবে। ডেঙ্গু নিয়ে আতঙ্কের কিছু নেই জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই যদি নিজেদের বাড়ির আঙিনা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখি, তাহলে এমনিতেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আসবে।’

এ বিষয়ে বরগুনা পৌরসভার মেয়র মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, ‘প্রতিদিনই ফগার মেশিন দিয়ে মশার ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে। পৌরসভার পক্ষে মশার ওষুধের গুণগত মান যাচাই-বাছাই করে বিদেশ থেকে আমদানি করার সুযোগ নেই। আমরা বাজারে যে ওষুধ পাচ্ছি, সেই ওষুধই ব্যবহার করছি। সম্প্রতি মশা নিধনের ওষুধের বেশ সংকট ছিল। সরকার বিদেশ থেকে মশার ওষুধ আমদানি করছে। আমরা এখন সেই ওষুধ ব্যবহার করব।’

 

মন্তব্য