kalerkantho

ফগার মেশিন বিকল, ভরসা স্প্রে

নীলফামারীতে ৩১ ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৫ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ফগার মেশিন বিকল, ভরসা স্প্রে

নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। গত ২৫ জুলাই থেকে ডেঙ্গু রোগী আসা শুরু হয় হাসপাতালে। গতকাল রবিবার ভর্তি হয়েছে দুজন। এ নিয়ে ওই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা ৯ জন। তারা সবাই ঢাকাফেরত। তাদের মধ্যে গতকাল ভর্তি হওয়া দুজনসহ পাঁচজনের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে। অন্য চারজনের উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই দিনে ভর্তি হয়েছে তিনজন। তাঁদের মধ্যে একজনকে গতকাল রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে সিভিল সার্জন রণজিৎ কুমার বর্মণ বলেন, ‘আজ (রবিবার) পর্যন্ত জেলায় ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তারা সবাই ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এলাকায় এসেছে। তাদের মধ্যে কেউ হাসপাতালে, কেউ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে আবার কেউ সুস্থ হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘নীলফামারী আধুনিক সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং চিকিৎসার কোনো সমস্যা নেই। ডেঙ্গু যাতে না ছড়ায় সে ব্যাপারে জনগণকে সচেতন করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা মাঠে কাজ করছেন। সচেতনতামূলক মাইকিং করা হচ্ছে। জ্বর হলে সরকারি হাসপাতালে আসার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।’

এদিকে নীলফামারী পৌরসভায় মশা নিধনে ফগার মেশিন বিকল দীর্ঘদিন ধরে। ফলে মশা নিধনের জরুরি মুহূর্তে ভরসা এখন হাতে চালিত স্প্রে মেশিন। গত শনি ও রবিবার জেলা শহরের বিভিন্ন পাড়া-মহল্লা ঘুরে দেখা গেছে, পৌর মেয়রের উদ্যোগে শহরে আবর্জনা পরিষ্কার ও মশা নিধনে ওষুধ ছিটানোর কাজ চলতে। এ সময় আবর্জনা অপসারণে যন্ত্রপাতির ঘাটতি না থাকলেও ঘাটতি দেখা গেছে মশা নিধনে ব্যবহূত ফগার মেশিনের। এ কাজে কর্মরতরা জানান, পৌরসভার ফগার মেশিন বিকল থাকায় হাতে চালিত স্প্রে মেশিন দিয়ে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর কাজ চলছে। এতে করে সময় বেশি লাগছে। অন্যদিকে পৌর কর্তৃপক্ষ গত ৩১ জুলাই থেকে আবর্জনা অপসারণ ও মশা নিধন কার্যক্রম শুরু দাবি করলেও এলাকাবাসী বলছে, গত শনিবার থেকে কার্যক্রমটি দৃশ্যমান হয়েছে।

জেলা শহরের শাহীপাড়ার মোশাররফ হোসেন (৫৫) বলেন, ‘চলমান ডেঙ্গু আতঙ্কের মধ্যে জমে থাকা আবর্জনা আর মশার উপদ্রবে অনেকটাই চিন্তিত ছিলাম। গত শনিবার ও রবিবার পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদের বিশেষ উদ্যোগে বিভিন্ন পাড়া-মহল্লার আবর্জনা অপসারণ ও মশা নিধনের ওষুধ ছিটানোর কাজ দেখে অনেকটা চিন্তামুক্ত হয়েছি।’

নীলফামারী পৌরসভার জমাদার মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, ‘পৌর মেয়রের উদ্যোগে গত ৩১ জুলাই থেকে দিনমজুরির চুক্তিতে ৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ করে পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ডে আবর্জনা পরিষ্কার করা হচ্ছে। পাশাপাশি মশার বংশ বিস্তার রোধে মশা মারার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। পৌরসভার নিজস্ব ফগার মেশিন বিকল থাকায় হাতে চালিত যন্ত্র ব্যবহার করে ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। এতে করে সময় বেশি লাগছে।’

এ বিষয়ে নীলফামারী পৌরসভার মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ বলেন, ‘পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকায় বেশ কিছুদিন ধরে আবর্জনা পরিষ্কার করা যায়নি। শহরে এখনো এডিস মশার কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আমরা স্বাস্থ্য বিভাগের সঙ্গেও কথা বলেছি। তারা বলছে, এ জেলায় যারা ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছে তাদের প্রত্যেকে ঢাকা থেকে ডেঙ্গু জ্বর নিয়ে এসেছে। এর পরও এডিস মশা যাতে বংশ বিস্তার ঘটাতে না পারে এ জন্য আমরা কাজ করছি।’

তিনি আরো বলেন, ‘পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আন্দোলনে থাকায় দৈনিক মজুরিভিত্তিক ৫০ জন শ্রমিক নিয়োগ করে আবর্জনা পরিষ্কার ও মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে। ৩১ জুলাই থেকে কাজ চলছে। আগামী দুই দিনের মধ্যে গোটা পৌরসভা আবর্জনামুক্ত করা সম্ভব হবে।’ হস্তচালিত যন্ত্রে ওষুধ ছিটানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের পৌরসভার নিজস্ব ফগার মেশিন বিকল থাকায় হস্তচালিত স্প্রে মেশিন দিয়ে মশা নিধনের ওষুধ ছিটানো হচ্ছে।’

 

মন্তব্য