kalerkantho

পুলিশ হাসপাতালেও ডেঙ্গু পরীক্ষায় সংকট

সিবিসি পরীক্ষা করে ভর্তি করা হচ্ছে

ওমর ফারুক   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পুলিশ হাসপাতালেও ডেঙ্গু পরীক্ষায় সংকট

রাজধানীর রাজারবাগের কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালেও দিন দিন ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। গত সোমবার এ হাসপাতালে ভর্তি ছিল ৮৫ জন ডেঙ্গু রোগী। পাঁচ দিন পর গতকাল শনিবার সেখানে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ২০১। অন্যদিকে অন্যান্য হাসপাতালের মতো পুলিশ হাসপাতালেও ডেঙ্গু পরীক্ষার রি-এজেন্ট সংকট তৈরি হয়েছে বলে জানা গেছে। সে কারণে কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি) পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হচ্ছে। ডেঙ্গুর বিস্তার রোধে গতকাল থেকে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু করেছে। এতে ৫০ হাজার পুলিশ অংশ নিচ্ছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। 

অন্যদিকে ডিএমপি সদর দপ্তর ও প্রশাসন বিভাগ থেকে ডেঙ্গু সম্পর্কে নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। নির্দেশনা সংবলিত একটি বোর্ড টাঙিয়ে রাখা হয়েছে সদর দপ্তরের সামনেও। তাতে লেখা রয়েছে ‘সচেতন হোন, ডেঙ্গু প্রতিরোধ করুন’।

রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে পুলিশ ও তাদের পরিবারের সদস্যরা চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, এরই মধ্যে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল ভবনের আটতলার ওয়ার্ডকে ডেঙ্গু ওয়ার্ড হিসেবে ঘোষণাও করা হয়েছে। সেখানে ৬০টির মতো শয্যা রয়েছে। শয্যা সংকটের কারণে মেঝেতে রেখেও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে ডেঙ্গু রোগীদের।

গতকাল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, অনেকে জ্বর হওয়ায় ডেঙ্গু আক্রান্ত কি না, তা জানার জন্য পরীক্ষা করাতে এসেছে। তবে রি-এজেন্ট সংকটের কারণে তাদের ডেঙ্গু এনএস-১ পরীক্ষা করা যায়নি। যাদের অবস্থা মারাত্মক মনে হয়েছে, তাদের সিবিসি পরীক্ষা করা হচ্ছে। ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছে ২০১ জন।

হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. মনোয়ার হাসনাত খান কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘গত বৃহস্পতিবার রি-এজেন্ট শেষ হয়ে যাওয়ায় ডেঙ্গুর পরীক্ষা করা যাচ্ছে না। তবে লক্ষণ দেখে আমরা বুঝতে পারি। যাদের ডেঙ্গু আক্রান্ত মনে হয়, তাদের সিবিসি করানো হচ্ছে। সিবিসি টেস্টে সবই ধরা পড়ে।’ এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘রি-এজেন্টের চাহিদা পাঠানো হয়েছে। দু-একদিনের মধ্যে চলে আসবে।’

আরেক প্রশ্নের জবাবে ডা. মনোয়ার বলেন, ‘ভর্তি রোগীদের মধ্যে ৪০ পার্সেন্টের মতো পুলিশ, বাকি ৬০ পার্সেন্ট পুলিশ পরিবারের সদস্য। এখন পর্যন্ত কারো মৃত্যু হয়নি।’ এ পর্যন্ত অন্য হাসপাতালে ডেঙ্গুতে একজন নারী পুলিশের মৃত্যু হয়েছে।

পুলিশের নির্দেশনা : ডেঙ্গু সম্পর্কিত ডিএমপির নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ডেঙ্গুর কোনো ভ্যাকসিন নেই। তাই ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধের মূল মন্ত্রই হলো এডিস মশার বিস্তার রোধ এবং এই মশা যেন কামড়াতে না পারে তার ব্যবস্থা করা। নির্দেশনায় ডেঙ্গু রোগের লক্ষণ, প্রতিরোধে ব্যক্তিগত সতর্কতা, ব্যারাক এবং বাসস্থানে মশা নিধনসহ নানা বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। পুলিশ সদস্যদের মধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও প্রতিকারের বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে প্রতিটি থানা, ফাঁড়ি, ব্যারাক, পুলিশ লাইনসে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ ও ডেঙ্গুর প্রকোপ বিষয়ে নিয়মিত ব্রিফ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ডিএমপির পরিচ্ছন্নতা অভিযান : গতকাল শনিবার সকালে রাজারবাগ পুলিশ লাইনসে ডেঙ্গু প্রতিরোধী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযানের উদ্বোধন করেন ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া। অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ‘পুলিশ লাইনস এলাকায় এডিস মশার লার্ভা পেয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন।

মন্তব্য