kalerkantho

বুধবার । ২৫ চৈত্র ১৪২৬। ৮ এপ্রিল ২০২০। ১৩ শাবান ১৪৪১

‘ঢাহাত দূরের কতা, জীবনে মমিনসিং দেহে নাই’

ফুলবাড়িয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘ঢাহাত দূরের কতা, জীবনে মমিনসিং দেহে নাই’

সাদিয়া আক্তার তানহা

পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী সাদিয়া আক্তার তানহা (১১)। খুবই চঞ্চল প্রকৃতির মেয়ে। মহল্লার শিশুদের সঙ্গে ছোটাছুটি ও খেলাধুলায় মত্ত থাকত। আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে তেমন একটা যেত না। আর ঢাকা শহর তো কখনো যাওয়াই হয়নি। টিভিতে সে মানুষের ডেঙ্গু জ্বরের কথা শুনেছে। এরই মধ্যে হঠাৎ তাঁর হালকা জ্বর হয়। জ্বরের সঙ্গে পেট ও বুক ব্যথা। ফুলবাড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে নিয়ে যায় তার পরিবার। চিকিৎসক শিশুটির সিভিসি টেস্ট করে দেখতে পান তার রক্তে প্লাটিলেট কাউন্ট রয়েছে ২০ হাজার। সাদিয়া আক্তারকে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে সিভিসি, এনএস-১ এন্টিজেন পরীক্ষা করার পর দেখা যায়, শিশুটি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় সাদিয়া আক্তার তানহা প্রথম ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়। সে পৌর সদরের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের গৌরীপুর মহল্লার কাঠ ব্যবসায়ী তারা মিয়ার মেয়ে। সাদিয়া আলহেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্রী। মেয়েটি ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে আশপাশে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়। ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চার দিন চিকিৎসা শেষে সাদিয়াকে গত বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতাল থেকে বাড়িতে নেওয়া হয়।

সাদিয়া বলে, ‘শরীল দুর্বল লাগে। আগের মতো পেট ও বুক ব্যথা করে না।’ ঢাকা বা কোনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়েছিলে কি না জানতে চাইলে সাদিয়া বলে, ‘ঢাকা জীবনেও যাই নাই। দুই মাস আগে রঘুনাথপুর (ফুলবাড়িয়া উপজেলার রাধাকানাই ইউনিয়নে রঘুনাথপুর গ্রাম) খালার বাড়ি গিয়েছিলাম।’

সাদিয়ার বাবা তারা মিয়া বলেন, ‘ঢাহাত (ঢাকা) দূরের কতা, কোন সোমে মমিনসিংও গেছে না। তানহার বাইতই (বাড়ি) জ্বর অইছে। ডাক্তার পরীক্ষা কইরা কইছে ডেঙ্গু জ্বর অইছে। মমিনসিং হাসপাতালে চিকিৎসা কইরা এহন ভালা অইছে।’

আবাসিক মেডিক্যাল কর্মকর্তা ডা. মো. হারুন আল মাকসুদ বলেন, ‘যেহেতু মেয়েটি নিজ বাড়িতে জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার পর পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়েছে, তাহলে অবশ্যই ওই এলাকায় এডিস মশা রয়েছে। মশক নিধনের দ্রুত ব্যবস্থা না করলে আরো আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা