kalerkantho

সিবিসি পরীক্ষার যন্ত্র নষ্ট বিপাকে রোগীরা

জামালপুর হাসপাতাল

জামালপুর প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সিবিসি পরীক্ষার যন্ত্র নষ্ট বিপাকে রোগীরা

সিবিসি পরীক্ষার প্রতিবেদন না পাওয়ায় জামালপুর সদর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সামনে রোগীর স্বজনরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। ছবি : কালের কণ্ঠ

জামালপুর ২৫০ শয্যা সদর হাসপাতালের ডেঙ্গু রোগীদের ‘সিবিসি’ (কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট) পরীক্ষার সেল কাউন্টার মেশিন বিকল হয়ে গেছে। গতকাল শনিবার সকালে যন্ত্রটি বিকল হওয়ায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ডেঙ্গু রোগী ও তাদের স্বজনরা বিপাকে পড়েছে। বিক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনরা সিবিসি প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করতে থাকলে প্যাথলজি থেকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, আপাতত সিবিসি পরীক্ষা বন্ধ থাকবে। রোগীদের বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হবে।  

জামালপুর সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছেই। গত ২৪ ঘণ্টায় আরো নতুন করে ১২ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এই প্রথম এত রোগী এক দিনে ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে এই হাসপাতালের নারী ও পুরুষ মেডিসিন ওয়ার্ডে এবং জরুরি বিভাগের অস্থায়ী ওয়ার্ডে সর্বমোট ৪১ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসাধীন। এ নিয়ে গত ২২ জুলাই থেকে গতকাল পর্যন্ত জামালপুর সদর হাসপাতালে ৬০ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন বলে একাধিক সূত্রে জানা গেছে।

জামালপুর সদর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, এই প্যাথলজিতে গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ডেঙ্গু রোগীদের সিবিসি পরীক্ষা করাতে ১৫০ টাকা করে ফি নেওয়া হচ্ছিল। পরে এ নিয়ে অভিযোগ ওঠায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নির্দেশে গতকাল সকাল থেকে বিনা মূল্যে সিবিসি পরীক্ষা করানোর ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু গতকাল সকাল থেকেই সিবিসি সেল কাউন্টার যন্ত্রটি বিকল হয়ে গেছে। এতে করে রোগী ও তাদের স্বজনরা বিপাকে পড়ে যান।

বিনা মূল্যে সিবিসি পরীক্ষার আশায় গতকাল শনিবার সকালে ৩০ জন ডেঙ্গু রোগীর রক্তের সিবিসি পরীক্ষার জন্য তাদের রক্তের নমুনা জমা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মাত্র সাতজন রোগীর রক্ত পরীক্ষা করার পর থেকে সিবিসি পরীক্ষার সেল কাউন্টার যন্ত্রটি বিকল হয়ে যায়। এতে করে বাকি রোগীদের রক্ত পরীক্ষা করা সম্ভব হয়নি। ডেঙ্গু রোগী ফারহানা ইয়াসমিন মীমের বাবা ফেরদৌস আলম বাদল অভিযোগ করে বলেন, ‘গতকাল (শুক্রবার) হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ বন্ধ থাকায় আমার মেয়ের সিবিসি পরীক্ষা করাতে পারিনি। আজ (শনিবার) সকাল ৮টার দিকে রক্ত নিয়েছে। এখন বলছে আজকে পরীক্ষা হবে না। তাদের নাকি যন্ত্র নষ্ট হয়ে গেছে। এখানে বিনা মূল্যে পরীক্ষা করাতে পারতাম। এখন বাইরে থেকে টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হবে। মাঝখান থেকে কয়েক ঘণ্টা সময় নষ্ট করা হলো।’ প্যাথলজি বিভাগের সামনে জড়ো হওয়া ক্ষুব্ধ রোগীর স্বজনদের অনেকেই একই রকমের ক্ষোভ প্রকাশ করে সিবিসি সেল কাউন্টার যন্ত্রটি দ্রুত সময়ের মধ্যে চালু করার দাবি জানান।  

এ বিষয়ে জামালপুর সদর হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘রক্তের সিবিসি পরীক্ষার সেল কাউন্টার যন্ত্রটি একটি আধুনিক ডিজিটাল যন্ত্র। এই যন্ত্র দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে সিবিসি প্রতিবেদন বের করা যায়। আসলে যন্ত্রটি নষ্ট হয়নি। বৈদ্যুতিক সমস্যা বিশেষ করে বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে উন্নত মানের আর্থিং ব্যবস্থা না থাকায় যন্ত্রটি মাঝেমধ্যেই সমস্যা করছিল। কিন্তু আজকে একেবারেই চালু করা যাচ্ছে না। তাই সিবিসি পরীক্ষা বন্ধ হয়ে গেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে যন্ত্রটি সচল করার চেষ্টা করা হবে।’

মন্তব্য