kalerkantho

চার মাসে পাবনার বাইরে না গিয়েও আক্রান্ত রঞ্জু

পাবনা প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



পাবনা সদরের মনোহরপুর এলাকার বক্কার মালিথার ছেলে রঞ্জু মালিথা (১৮) পেশায় রংমিস্ত্রির সহকারী। ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হয়ে পাঁচ দিন ধরে পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের ২ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ এই ওয়ার্ডটিকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা করে দিয়েছে। এই ওয়ার্ডের ৯ নম্বর বেডের রোগী তিনি।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের এই ওয়ার্ডে গতকাল শনিবার দুপুর পর্যন্ত ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ৩১ জন। হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার (আরএমও) ডা. আল আকসার আনন কালের কণ্ঠকে জানান, ওয়ার্ডে ভর্তি ৩১ রোগীর মধ্যে ৩০ জনই রাজধানী ঢাকা থেকে পাবনা এসে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বলে তাঁরা জেনেছেন। কিন্তু রঞ্জু মালিথা জানিয়েছেন, তিন-চার মাসে তিনি পাবনার বাইরে কোথাও যাননি। গত সোমবার সকাল থেকে প্রচণ্ড জ্বরসহ অন্যান্য উপসর্গ দেখা দিলে তাঁকে পাবনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বিকেলে রক্ত পরীক্ষা করে তাঁর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।

পাবনার সিভিল সার্জন ডা. মেহেদী ইকবাল জানান, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের কীটত্বত্তবিদ মো. হেলাল উদ্দিনের নেতৃত্বে একটি মেডিক্যাল টিম ৩১ জুলাই থেকে পাবনার বিভিন্ন স্থানে অনুসন্ধান চালিয়ে গতকাল পর্যন্ত পাবনার কোথাও এডিস মশা বা এডিস মশার লার্ভার অস্তিত্ব পাননি। সে ক্ষেত্রে পাবনার বাইরে না যাওয়া রোগী কিভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলো, এ নিয়ে অনুসন্ধান শুরু হয়েছে। সিভিল সার্জন আরো জানান, প্রথমত, এমনটি হওয়ার কথা না। কিভাবে হলো, তা অনুসন্ধান করে বের করার চেষ্টা চলছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের কনসালট্যান্ট ডা. মুহম্মদ হাবিবুল্লাহ কালের কণ্ঠকে জানিয়েছেন, বাস, ট্রেন, লঞ্চ বা অন্য কোনো যানবাহনে কোনোভাবে এডিস মশা পাবনায় চলে এলে সেখান থেকেও ডেঙ্গু স্থানীয় পর্যায়ে বিস্তার ঘটাতে পারে। এরপরও বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চলছে।

পাবনা জেনারেল হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. রঞ্জন কুমার দত্ত জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল বিকেল পর্যন্ত) হাসপাতালে ১৩ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে গত ১২ দিনে হাসপাতালে ভর্তি ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৭৪ জনে।

মন্তব্য