kalerkantho

স্থানীয়ভাবে আক্রান্ত একজন

নাটোরে বাড়ছে রোগী পরীক্ষার কিট সংকট

নাটোর প্রতিনিধি   

৪ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নাটোরে বাড়ছে রোগী পরীক্ষার কিট সংকট

স্বাস্থ্যঝুঁকি : নাটোর শহরে মশক নিধনে স্প্রে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন পৌর মেয়র উমা চৌধুরী (সাদা-কালো শাড়ি পরা)। এটি অবশ্যই প্রশংসনীয় কাজ। কিন্তু নিরাপত্তা সরঞ্জাম (মুখোশ ও গ্লাভস) ছাড়াই স্প্রে করায় মেয়রসহ জনপ্রতিনিধিরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়তে পারেন। ছবি : কালের কণ্ঠ

নাটোরে ক্রমেই ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। অন্যদিকে ডেঙ্গু রোগীর পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কিট সংকট দেখা দিয়েছে। এ পর্যন্ত জেলায় অর্ধশতাধিক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা থেকে আসা রোগী ছাড়াও একজন স্থানীয়ভাবে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে। নাটোর সদর হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে ১০ জন। গতকাল শনিবার সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চারজনকে ভর্তি করা হয়েছে। নাটোর সদর হাসপাতালে এ পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছে ১৬ জন ডেঙ্গু রোগী।

এদিকে শহরের বেসরকারি সততা ক্লিনিকে গতকাল শনাক্ত হয়েছে দুজন। এ পর্যন্ত ওই ক্লিনিকে শনাক্তের সংখ্যা ২৩ জন। তবে আতঙ্কের কারণ হলো, স্থানীয় পর্যায়ে ডেঙ্গুর আক্রান্ত হওয়া। গতকাল নাটোর হাসপাতালে নলডাঙ্গা থানার পিপরুল গ্রামের আব্দুর রশিদের সাত বছরের মেয়ে জ্যোতিকে ডেঙ্গু রোগী হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। আব্দুর রশিদ জানান, তাঁরা গ্রামেই থাকেন। দীর্ঘদিন ঢাকায় যাননি। এদিকে ঈদের ছুটিতে ঢাকা থেকে মানুষ এলাকায় এলে এর পরিমাণ বাড়ার শঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।

এ ছাড়া নাটোর সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষার কিট সংকট দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকা থেকে সদর হাসপাতালে মোট ১২০টি কিট বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা প্রায় শেষের দিকে। নতুন করে কিট বরাদ্দ না হলে ডেঙ্গু রোগ নির্ণয়ে সমস্যার সৃষ্টি হবে। এ ছাড়া হাসপাতালে বেডের সংকট রয়েছে। এ বিষয়ে নাটোর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক (আরএমও) ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, ‘ঢাকা থেকে ঈদের ছুটিতে লোকজন নাটোরে এলে রোগীর সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। সে ক্ষেত্রে কিট সরবরাহের জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আমাদের সব ধরনের প্রস্তুতি রয়েছে। আশা করি ভালোভাবেই সব কিছু সামলাতে পারব।’

মশা নিধন শুরু : এডিস মশা নিধনে নাটোর পৌরসভার পক্ষ থেকে পৌর এলাকার বিভিন্ন স্থানে মশা নিধন শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার ছুটির দিনে মশা নিধনে স্প্রে কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন নাটোর পৌর মেয়র উমা চৌধুরী। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন পৌর পরিষদের সদস্য ও পৌরসভার পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা। অন্যদিকে গতকাল শনিবার স্টেশন বাজার এলাকায় মশা নিধনে ড্রেনে স্প্রে করা অব্যাহত আছে।

পৌর মেয়র উমা চৌধুরী বলেন, ‘বিভিন্ন সংকটের কারণে মশা নিধন বিলম্বিত হয়েছে। এখন নাটোর পৌর এলাকার প্রতিটি ওয়ার্ডে মশা নিধন অভিযান অব্যাহত থাকবে।’ তিনি আরো বলেন, ‘মশা নিধনে যে ওষুধ লাগে, সেটা আমরা পাচ্ছি না। সে কারণে কেরোসিন দিয়েই স্প্রে কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হয়েছে।’ অন্যদিকে নাটোর পৌরসভায় মশা নিধনে একটি নষ্ট ফগার মেশিন রয়েছে। সেটি মেরামতের জন্য গতকাল বগুড়াতে পাঠানো হয়েছে। মেরামাত হয়ে এলে ফগার মেশিন ব্যবহার করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা