kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

সাতক্ষীরায় করোনা

২৩ হাজার জেলে পরিবার পায়নি খাদ্য সহায়তা

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘করোনাভাইরাস নিয়ে আতঙ্ক চলছে। নদীতে মাছ ধরতে যেতে নিষেধ করেছে কোস্ট গার্ড। ঘরে খাবার নাই। বয়সের ভারে শরীরটাও ভালো যাচ্ছে না। ডাঙ্গায় কাজ-কাম করে খাব, সে উপায়ও নাই। করোনার কারণে কোথাও কেউ কাজে ডাকে না। আমাদের জীবন কাটছে অতিকষ্টে। যাদের নুন আনতে পান্তা ফুরায় তাদের আবার বেঁচে থাকা! এই আছি কোনোরকম।’ সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপকূলের বয়োবৃদ্ধ জেলে রমজান আলী কেমন আছেন তা এভাবেই জানালেন।

জেলার সর্বদক্ষিণে সুন্দরবনের কোলঘেঁষা উপকূলীয় উপজেলা শ্যামনগরের হরিনগর ও কৈখালী গ্রামের আবু বকর, জমাদ্দার আলীসহ অনেকেই জানায়, করোনাভাইরাস প্রতিরোধের চেয়ে তাদের কাছে তিন বেলা খেয়ে বেঁচে থাকাটাই এখন দায় হয়ে পড়েছে। স্থানীয় কোনো জনপ্রতিনিধির সহযোগিতা তারা পাচ্ছে না।

এদিকে জনসমাগম ও চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে। এতে কর্মজীবী মানুষ, বিশেষ করে উপকূলীয় জেলেপল্লীর জেলেরা কাজ হারিয়ে বিপাকে পড়েছে। সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে তারা। সব মিলিয়ে গত কয়েক দিনে তাদের জীবন হয়ে উঠেছে দুর্বিষহ। যথাসময়ে শ্যামনগরের জেলেদের কাছে খাদ্য সহায়তা না পৌঁছানোর কারণে ২৩ হাজার জেলে পরিবার মানবেতর জীবন যাপন করছে। জেলেরা জানায়, অন্য পেশার মানুষ ১২ মাস আয়-রোজগার করতে পারলেও তাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। বছরে কয়েক দফা মাছ শিকারে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। এ জন্য সঞ্চয় বলতে তাদের হাতে অবশিষ্ট কিছু থাকে না, যা বিপদের সময়ে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবে।

ক্ষুধার তাড়নায় নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাঝেমধ্যে কেউ মাছ ধরতে নদীতে নামলে ভ্রাম্যমাণ আদালত আটক করে জেল-জরিমানা ও জাল-নৌকা জব্দ করেন। এ কারণে এখন কেউ মাছ ধরতেও নামছে না।

উপজেলার গাবুরা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মাসুদুল আলম জানান, করোনাভাইরাস প্রতিরোধে জেলেদের নদীতে মাছ ধরতে যাওয়া বন্ধ থাকলেও তাদের জন্য আলাদাভাবে কোনো খাদ্য সহায়তা বরাদ্দ নেই। তবে তারা সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির আওতায় (ফেয়ার প্রাইজ) ১০ টাকা কেজিতে চাল কিনতে পারবে। গত দুই দিনে শতাধিক গরিব ও অসহায় পরিবারকে সরকারি খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে বলে জানান।

পদ্মপুকুর ইউপি চেয়ারম্যান ভবতোষ কুমার মণ্ডল জানান, করোনাভাইরাস সচেতনতায় জেলেসমাজসহ তাঁর এলাকায় সাধারণ মানুষও ঘরবন্দি। কাউকেই বাইরে যেতে দেওয়া হচ্ছে না। এ অবস্থায় জেলেসহ শ্রমিক শ্রেণির মানুষ বেশি সমস্যায় আছে। তিনি আরো জানান, আদিবাসী, মুণ্ডা সম্প্রদায়, আশ্রয়ণ প্রকল্প ও গুচ্ছগ্রামের গরিব-অসহায়দের জন্য খাদ্য সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জেলেদের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ পাওয়া যায়নি।

শ্যামনগর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা তুষার কুমার মজুমদার বলেন, করোনা সতর্কতায় জেলেরা এখন কর্মহীন হয়ে পড়েছে। শুধু শ্যামনগর উপজেলায়ই ২৩ হাজার ১৭৮ জন জেলে রয়েছে। কর্মহীন এসব জেলেকেও সরকারি-বেসরকারি সাহায্য-সহযোগিতা দেওয়া জরুরি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা