kalerkantho

রবিবার । ১৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৩১  মে ২০২০। ৭ শাওয়াল ১৪৪১

শনাক্তের এক মাস

শয্যা আছে, রোগী নেই

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



শয্যা আছে, রোগী নেই

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল

করোনা আতঙ্কে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। এ হাসপাতালের বহির্বিভাগে আগে দেড় হাজারের মতো রোগী চিকিৎসা নিত। এখন চিকিৎসা নিচ্ছে ৬০০-৭০০ রোগী। তা ছাড়া গড়ে প্রতিদিন অর্ধেক শয্যাই খালি পড়ে থাকছে।

গতকাল হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, আগে প্রতিটি ওয়ার্ডের মেঝেতেও রোগীর ভিড় থাকত, এখন তা নেই। হাসপাতালের কার্ডিওলজি বিভাগে গড়ে যেখানে ১৬০ জন রোগী থাকত, এখন তা নেমে এসেছে ৪০-৫০ জনে। এই ওয়ার্ডে আগে সহজে শয্যা পেত না রোগীরা। কিন্তু এখন ভর্তি হলেই মিলছে শয্যা।

এই ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধান রইচ উদ্দিন বলেন, ‘আমরা চিকিৎসা দিচ্ছি। কোনো রোগীই আমরা ফিরিয়ে দিচ্ছি না। কিন্তু যানবাহনের কারণে ও আতঙ্কে রোগী কমে গেছে।’

হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন এক রোগীর স্বজন আলতাফ হোসেন জানান, চিকিৎসকরা পিপিই পরেই চিকিৎসা দিচ্ছেন। তার পরও রোগীর শরীরে প্রেসার মাপা থেকে শুরু করে নানা পরীক্ষা করতে গিয়ে অনেকটাই ইতস্ততবোধ করছেন তাঁরা। আরেক রোগীর স্বজন আলিয়া খাতুন বলেন, ‘রাতে ডাক্তার পাওয়া যায় না। ফলে রোগী নিয়ে বিপাকে পড়তে হয়।’

এদিকে গতকাল রাজশাহী বিভাগের আরো ৩৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে চারজন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে ভর্তি আছে। তাদের পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত রাজশাহী জেলায় কারো করোনা সংক্রমণ হয়নি বলে জানা গেছে।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এখানে ১৫টি ভেন্টিলেটর প্রস্তুত আছে। আরো পাঁচটি আসছে। ভেন্টিলেটরের মাধ্যমে মুমূর্ষু রোগীদের কৃত্রিমভাবে শ্বাসযন্ত্র চালু রাখা হয়। জ্বর-সর্দি, কাশি ও শ্বাসকষ্টজনিত কারণে চারজনকে হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

এদিকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের করোনা পরীক্ষা ল্যাবে ৩৬ জনের নমুনা পরীক্ষা চলছে। এর মধ্যে রাজশাহী জেলার চার, সিরাজগঞ্জের ৯, পাবনার আট, বগুড়ার ছয়, জয়পুরহাটের পাঁচ ও রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অবজারভেশন ওয়ার্ডে থাকা চারজনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।

অন্যদিকে ১ এপ্রিল ল্যাবটি চালুর পর গত সাত দিনে মোট ১৩৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে বগুড়া থেকে আসা একজনের নমুনায় করোনা পজিটিভ রিপোর্ট পাওয়া গেছে।

বগুড়া থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হলেও তাঁর বাড়ি রংপুর বলে জানা গেছে। বাসে যাত্রারত অবস্থায় করোনা সন্দেহে তাঁকে বাস থেকে বগুড়ায় নামিয়ে দেওয়া হয়। পরে স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনের পরামর্শে তাঁর নমুনা সংগ্রহ করে এ হাসপাতালের করোনা ল্যাবে পাঠানো হয়।

লালমনিরহাট সদর হাসপাতাল

লালমনিরহাট প্রতিনিধি

লালমনিরহাট সদর হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ১০০টি। তবে আগে সেখানে গড়ে প্রতিদিন ১৪০-১৫০ জন রোগী ভর্তি থাকত। কিন্তু করোনাভাইরাস আতঙ্কে তা নেমে এসেছে ৬০-৭০ জনে। ফলে শয্যা খালি পড়ে থাকছে। অন্যদিকে হাসপাতালের বহির্বিভাগেও রোগীর সংখ্যা অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত মঙ্গলবার বহির্বিভাগে রোগী এসেছিল মাত্র ১৫৬ জন। ফলে সব কিছু মিলে অনেকটাই নীরব জেলার একমাত্র বড় হাসপাতালটি। সরেজমিনে খোঁজ নিয়ে এসব তথ্য জানা গেছে।

আরো জানা গেছে, বর্তমানে হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের ১১ জন কনসালট্যান্ট বহির্বিভাগে চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তাঁদের সঙ্গে আছেন তত্ত্বাবধায়ক ও আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার। তবে হাসপাতালটির ১৯টি মেডিক্যাল অফিসারের সব পদই শূন্য। জরুরি বিভাগ ও করোনা চিকিৎসার জন্য সদর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে আনা সাতজন চিকিৎসক ও দুজন উপসহকারী কমিউনিটি মেডিক্যাল অফিসার দায়িত্ব পালন করছেন।

এদিকে করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য সদর হাসপাতালের সাত, রেলওয়ে হাসপাতালের ১৬ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটে চারটি আইসোলেশন শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তবে সেখানে আইসিইউ সুবিধা নেই। আর করোনা রোগী পরিবহনের জন্য একটি অ্যাম্বুল্যান্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে। বর্তমানে নার্সিং ইনস্টিটিউটে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে আছেন এক যুবক। তিনি বেশ কয়েক দিন আগে গাইবান্ধার সাদুল্যাপুর থেকে শহরের বাসায় ফিরেছেন। জ্বর, কাশি ও গলা ব্যথা নিয়ে ভর্তি হওয়া ওই যুবকের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজের ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

গত মঙ্গলবার দুপুরের দিকে সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, অন্য সময় যেখানে করিডর, টিকিট কাউন্টার বা বহির্বিভাগের চিকিৎসকদের কক্ষের সামনে ভিড় লেগে থাকত, এখন তা অনেকটাই ফাঁকা। এর পরও যারা আসছে তাদেরকে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করে চিকিৎসাসেবা নিতে হ্যান্ডমাইকে বারবার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে। আর চিকিৎসক-কর্মীরাও যতটা সম্ভব সাবধানে থেকে সবার চিকিৎসা দিচ্ছেন। তবে বর্তমানে হাসপাতালে জ্বর-কাশির মতো চিকিৎসার জন্য আলাদা কর্নার চালু করা হয়েছে। বহির্বিভাগে আসা রোগীদের অনেকে জানায়, তাদের মাঝে করোনাভাইরাসের ভয় আছে, তবু বিনা মূল্যে সেবা নিতে হাসপাতালে আসছে তারা।

হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. মঞ্জুর মোর্শেদ দোলন বলেন, ‘আমাদের লোকবলের সংকট রয়েছে। তবু আমরা হাসপাতালে আসা সবাইকে সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।’ বর্তমানে করোনাভাইরাস আতঙ্কে হাসপাতালে রোগী আসা কমে গেছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

সিভিল সার্জন ডা. নির্মলেন্দু রায় বলেন, ‘রংপুরে ল্যাব চালু হওয়ার পর প্রথমবারের মতো জেলার দুজন সন্দেহভাজনের নমুনা পাঠানো হয়েছিল। তাদের একজন করোনামুক্ত এবং অন্যনের ফলাফল এখনো পাওয়া যায়নি। আর আজ (মঙ্গলবার) একজন মৃত ব্যক্তিসহ দুজনের নমুনা পাঠানো হয়েছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা