kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

নারায়ণগঞ্জফেরতদের নিয়ে শেরপুরে অস্বস্তি

নমুনা পরীক্ষায় জেলায় কোনো নতুন সংক্রমণ মেলেনি

শেরপুর প্রতিনিধি   

৯ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নারায়ণগঞ্জফেরতদের নিয়ে শেরপুরে অস্বস্তি

শেরপুরে করোনা আক্রান্ত দুই নারীর সংস্পর্শে আসা কারো শরীরে সংক্রমণের প্রমাণ মেলেনি। তবে ট্রাক ভরে নারায়ণগঞ্জ থেকে আসাদের নিয়ে অস্বস্তি বিরাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগে। পুলিশও তাদের খোঁজে মাঠে নেমেছে।

জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত রবিবার শেরপুরে দুই নারীর শরীরে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়ে। এতে জেলার সর্বত্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। এই আতঙ্কের মধ্যে গত মঙ্গলবার শেরপুর স্বাস্থ্য বিভাগে একটি স্বস্তির খবর আসে। করোনা আক্রান্ত ওই দুই নারীর সংস্পর্শে আসা ১৮ আত্মীয়-স্বজনসহ মোট ২৭ জনের নমুনা নেওয়া হয়। সেই নমুনা ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের করোনা ইউনিটে পরীক্ষা করে তাদের শরীরে করোনাভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। গতকাল জেলার লকডাউন করা এলাকার আরো ৩০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। আজ সেসব নুমনা পরীক্ষার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যালে পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন সিভিল সার্জন ডা. আনওয়ারুর রউফ।

জেলার করোনাবিষয়ক সমন্বয়কারী চিকিৎসক শেরপুর সদর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার-পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোবারক হোসেন বলেন, ‘করোনা আক্রান্ত দুই নারীর পরিবারের সদস্যসহ ২৭ জনের নমুনা পরীক্ষায় কভিড-১৯ নেগেটিভ ফলাফল এসেছে। এটা একটি স্বস্তির খবর। তা ছাড়া আক্রান্ত ওই দুই নারী জেলা হাসপাতালের আইসোলেশনে ভালো অবস্থায় রয়েছেন।’ তবে ডা. মোবারক আরেকটি অস্বস্তির খবর জানিয়ে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ এখন দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ করোনা সংক্রমিত এলাকা। লকডাউন থাকা সত্ত্বেও মঙ্গল ও বুধবার ভোরে করোনার ভয়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে শেরপুরে অন্তত চার ট্রাক লোক এসেছে। তাদের নিয়ে আমরা অস্বস্তির মধ্যে রয়েছি। তাদেরকে খুঁজে বের করতেই হবে। কারণ তাদেরকে কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে হবে।’

স্থানীয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ থেকে আগতরা শেরপুর সদর উপজেলার চরমোচারিয়া ইউনিয়নের নলবাইদ ও পাকুড়িয়া ইউনিয়নের তিলকান্দি এলাকার লোক বলে জানা গেছে। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জের একটি পীরের দরবারে মাহফিল শেষে শেরপুরের কয়েকজন মুরিদ এলাকায় ফিরে এসেছে বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে ৩০ জনের একটি তালিকা পাওয়া গেছে। তাদের প্রত্যেককে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে ওই এলাকার আটটি বাড়ি লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। ওই এলাকার স্বাস্থ্য সহকারী তাদের বিষয়ে খোঁজখবর করছেন। কিন্তু অন্যদের এখনো কোনো হদিস মেলেনি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন ও পুলিশ তাদের হন্যে হয়ে খুঁজছে।

এ ব্যাপারে শেরপুর সদর থানার ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমরা লকডাউন করা এলাকার হোম কোয়ারেন্টিনে থাকা পরিবারগুলোর ঘরে ঘরে গিয়ে খাদ্য সহায়তা পৌঁছাতে চেষ্টা করছি। নারায়ণগঞ্জ থেকে আগতদের খুঁজতে এরই মধ্যে ব্যাপক তৎপরতা বাড়ানো হয়েছে। যারা ঢুকেছে তাদের তথ্য সংগ্রহ করে চিহ্নিত করে বাধ্যতামূলক ১৪ দিন হোম কোয়ারেন্টিনে থাকতে কাজ করছি। এরই মধ্যে নলবাইদ এলাকায় কিছু মানুষকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিলকান্দি এলাকায়ও খোঁজখবর চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা