kalerkantho

শুক্রবার । ২২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৫ জুন ২০২০। ১২ শাওয়াল ১৪৪১

ক্ষুধার জ্বালায় নিম্নবিত্ত

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি   

২ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



একদিকে করোনাভাইরাসে সংক্রমণের আতঙ্ক, অন্যদিকে গৃহবন্দি থেকে ক্ষুধার জ্বালায় নিম্নবিত্তের মানুষ দিশাহারা। সরকারি ছুটি বাড়ানোর ঘোষণায় তাদের মধ্যে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ পর্যাপ্ত সহায়তা না পেলে তাদের পরিবার-পরিজন নিয়ে অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হবে।

সাতক্ষীরা শহরতলির বাঁকাল ইসলামপুরের মুক্তিযোদ্ধা শের আলী সিরাজের ছেলে রবিউল ইসলাম (৪২) জানান, তিনি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সামনে ফুটপাতে চায়ের স্টল খুলে চার সদস্যের সংসারের জীবিকা নির্বাহ করেন। করোনাভাইরাস সংক্রমণ রোধে গত ২৬ মার্চ থেকে জেলার সব সরকারি, আধাসরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা, যোগাযোগের জন্য সব ধরনের পরিবহন বন্ধ, কাঁচামালের দোকান, নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান ছাড়া সব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখার ঘোষণা দেওয়ায় তাঁকে দোকান বন্ধ করে দিতে হয়েছে। বৃদ্ধ মায়ের চিকিৎসা খরচ ও সন্তানদের পড়ার খরচ জোগাতে কোনো বাড়তি সঞ্চয় নেই তাঁর। তাই দোকান খুলতে চাইলেও তাঁকে বাধার মুখে পড়তে হয়।

কালীগঞ্জের পশ্চিম নলতার ভ্যানচালক রবিউল ইসলাম বলেন, ঘরে চাল না থাকায় গতকাল বুধবার সকালে ভ্যান নিয়ে রাস্তায় বের হন। পুলিশ না এলেও স্থানীয় নেতারা তাঁকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করে বাড়ি চলে যেতে বলেন।

নলতার মাগুরালী চাঁদপুরের আব্দুস সবুর জানান, নলতা বাজারে তাঁর চায়ের দোকান রয়েছে। দেবহাটার গাজীরহাটে ও সাতক্ষীরা শহরের কোনো কোনো স্থানে চায়ের দোকান খোলা থাকলেও তাঁরা তা পারছেন না। নতুন করে ১১ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করায় পুলিশ ও নেতাদের ভয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে পড়েছেন।

একইভাবে সাতক্ষীরা শহরতলির তালতলার ছোট রেস্তোরাঁর মালিক তরিকুল ইসলাম, আনন্দপাড়ার সুন্দরবন পরিবহনের সুপারভাইজার খায়রুল ইসলাম, এল্লারচরের ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেলচালক বাবুর আলী, শ্যামনগরের কাছড়াহাটির গ্রিল ও শাটার মিস্ত্রি তারক গাইন জানান, করোনা প্রতিরোধে গৃহবন্দি থাকতে গিয়ে অর্ধাহারে দিন কাটাতে হচ্ছে।

তাঁরা অভিযোগ করে বলেন, সরকারি-বেসরকারিভাবে যেসব সহায়তা দেওয়া হচ্ছে তা পাচ্ছেন না। ত্রাণ হিসেবে জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে যে পাঁচ টন চাল ও ৫০ হাজার টাকা বিতরণের ঘোষণা দেওয়া হয় তা অপর্যাপ্ত। তা ছাড়া জনপ্রতিনিধিদের পকেটের লোক ছাড়া এসব সুবিধা কেউ পাবে না। গৃহবন্দি অবস্থায় ছুটির মেয়াদ দ্বিতীয় দফায় বাড়ানোয় তাঁরা যারপরনাই অসহায় হয়ে পড়েছেন।

শহরের মাস্টারপাড়ায় গৃহপরিচারিকার কাজ করেন ধোপাপুকুরের জাহানারা বেগম। করোনাভাইরাস আতঙ্কে মালিকরা তাঁদের কাজে নিচ্ছেন না। আবার কোনো সরকারি সহায়তাও পাচ্ছেন না। তাঁদের সংসার চলবে কিভাবে।

তবে জেলা ত্রাণ ও দুর্যোগ কর্মকর্তার অফিস সূত্রে জানা গেছে, জেলা প্রশাসক সরকারি ফান্ড ও নিজ ফান্ড তৈরি করে পৌরসভা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে গরিব ও নিম্ন মধ্যবিত্তদের মধ্যে চাল, ডাল, তেল, লবণ, চিনি, সাবানসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস তাদের হাতে তুলে দিচ্ছেন। তা ছাড়া সরাসরি যোগাযোগ করলে তাদের মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে ত্রাণ দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া জেলা পুলিশ সুপারের পক্ষ থেকে বিশেষ ফান্ড তৈরি করে অসহায় মানুষদের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা