kalerkantho

শনিবার । ২৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ৬ জুন ২০২০। ১৩ শাওয়াল ১৪৪১

গাইবান্ধায় চায়ের দোকানে আড্ডা, গাড়িতে গাদাগাদি

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

১ এপ্রিল, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাইবান্ধায় চায়ের দোকানে আড্ডা, গাড়িতে গাদাগাদি

গাইবান্ধা : সামাজিক দূরত্ব রক্ষার নিয়ম মানা হচ্ছে না। ছবিটি জেলা শহরের পুরাতন বাজারের। ছবি : কালের কণ্ঠ

গাইবান্ধায় করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে সুরক্ষার জন্য সামাজিক দূরত্ব রক্ষার সরকারি ঘোষণা অনেকে মানতে চাইছেন না। বাজার, বন্দর, চায়ের দোকানে আড্ডাবাজি চলছে। জেলা শহরসহ সর্বত্র অটোরিকশায় গাদাগাদি করে চলাচল বন্ধ হচ্ছে না।

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, জেলা শহরের সেতু সড়ক থেকে দারিয়াপুর-লক্ষ্মীপুর, জেলা পরিষদের সামনে থেকে নাকাইহাট সড়ক, বড় মসজিদের সামনে থেকে বাদিয়াখালী-সাঘাটা-ফুলছড়ি, পুরাতন বাজারের গেট থেকে বালাসিঘাট-মদনেরপাড়া-কালীরবাজার সড়কে অটোবাইক, অটোরিকশা, মিনি ট্রাক ও বড় ট্রাক অবাধে যাতায়াত করছে। এসব এলাকাসংলগ্ন রাস্তায় মানুষের গাদাগাদি চলাফেরা অবাধে চলছে।

একই চিত্র ফুলছড়ি, সাঘাটা, সদর, সাদুল্যাপুর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায়। সাঘাটার শিক্ষক বেগম শিরিনা ইসলাম বলেন, ‘এখানকার হাটবাজার ও বন্দর এলাকার চিত্র দেখলে অবাক হতে হয়। মনেই হয় না দেশ এত বড় বিপর্যয়ের মুখে দাঁড়িয়ে। ছুটি পেয়ে ঢাকা থেকে আসা মানুষ হোম কোয়ারেন্টিনে থাকার নির্দেশ অমান্য করে বন্ধুবান্ধব নিয়ে আড্ডাবাজি চালাচ্ছে। প্রশাসনের কঠোর হওয়া প্রয়োজন।’

রামচন্দ্রপুরের সমাজসেবী ও সংবাদকর্মী হেদায়েত ইসলাম বলেন, ‘এলাকার সচেতন মানুষ বোঝানোর চেষ্টা করছেন। তার পরও সবাইকে নিয়মের ভেতরে আনা সম্ভব হচ্ছে না। কেউ কথা শুনতে রাজি না। অথচ দেশ ও মানুষের স্বার্থে এ ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি।’

ফুলছড়ির মদনের পাড়ায় কাজ করতে আসা উন্নয়নকর্মী রায়হান ইসলাম বলেন, ‘যানবাহনে গায়ের সঙ্গে গা লাগিয়ে ভিড়ে ঠাসাঠাসি করে যাতায়াত করছে মানুষ। অথচ করোনাভাইরাস প্রতিরোধে একজন মানুষের থেকে আরেকজন মানুষের দূরত্ব নির্দিষ্ট করা হয়েছে। এমনকি দোকানে কেনাকাটা করতে গেলেও কতটা দূরত্বে লাইন করে দাঁড়াতে হবে সে ব্যাপারে সরকারি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সড়কগুলো ও তার পাশের দোকানপাটে সেই নিয়ম একেবারে মানা হচ্ছে না।’

শহর অঞ্চলে মানুষ সচেতন। তবে কিছু গ্রামাঞ্চলে এই প্রবণতা রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে বোঝানো হচ্ছে।

খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার

পরিদর্শক, গাইবান্ধা সদর থানা 

এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বাড়িতে থাকার জন্য বলা হলেও সে নির্দেশ অমান্য করে ব্যবসায়ীরা ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান অর্ধেক খোলা রেখে দোকানের সামনে বসে আড্ডা দিচ্ছেন এবং বেচাকেনা করছেন। এ অবস্থা জেলা শহরের স্টেশন রোড ও অন্য এলাকাগুলোতে দেখা যাচ্ছে।

এ ব্যাপারে গডদিঘির মোড়ের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যবসায়ী বলেন, ‘প্রশাসনের কঠোরতা অবলম্বন ও নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করলে এ অবস্থা থেকে উত্তরণ সম্ভব।’

গাইবান্ধা সদর থানার পরিদর্শক খান মোহাম্মদ শাহরিয়ার বলেন, ‘শহর অঞ্চলে মানুষ অনেক সচেতন। তবে কিছু গ্রামাঞ্চলে এই প্রবণতা রয়েছে। পুলিশ ও প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনার মারাত্মক ঝুঁকি সম্পর্কে মানুষকে বোঝানো হচ্ছে। লিফলেট বিলি করা হচ্ছে। আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা