kalerkantho

মঙ্গলবার । ১২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৬  মে ২০২০। ২ শাওয়াল ১৪৪১

মালিকদের চিঠি দিয়েছে বিজিএমইএ

বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা

এম সায়েম টিপু   

২৭ মার্চ, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বন্ধ হচ্ছে পোশাক কারখানা

করোনাভাইরাসের কারণে অবশেষে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে দেশের গার্মেন্ট কারখানা। কঠিন পরিস্থিতিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কারখানা বন্ধের জন্য শিল্প মালিকদের কাছে গতকাল বৃহস্পতিবার চিঠি দিয়েছে বিজিএমইএ। একই সঙ্গে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়া এবং কাঁচামাল সংকটের কারণেও কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে না বলে জানানো হয়েছে তৈরি পোশাক খাতের সংগঠনটি। সে ক্ষেত্রে আগামীকাল শনিবার ও পরশু রবিবার পর্যায়ক্রমে বন্ধ হয়ে যাবে সব গার্মেন্ট কারখানা। তবে কারখানা বন্ধের আগে যেন শ্রমিকদের চলতি মার্চ মাসের মজুরি পরিশোধ করা হয় সে ব্যাপারেও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে।

জানতে চাইলে সংগঠনের সহসভাপতি আরশাদ জামাল দিপু কালের কণ্ঠকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের পরিপ্রেক্ষিতে পরিচালনা পরিষদের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। এর ফলে মালিকরা মার্চের যেদিনই ছুটি দিক, শ্রমিকদের পুরো মার্চ মাসের মজুরি দিতে হবে। একই সঙ্গে ছুটি ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধ করবেন মালিকরা। এরপর কারখানা ছুটি দীঘায়িত হলে শ্রম আইনের ১৬ ধারা প্রযোজ্য হবে। তিনি বলেন, বিজিএমইএর পক্ষ থেকে আজ (গতকাল) বৃহস্পতিবার সব সদস্য কারখানা মালিককে চিঠি দেওয়া হয়েছে। সে ক্ষেত্রে কাল (আজ) যেহেতু শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটি, তাই শনি ও রবিবার থেকে হয়তো কারখানা বন্ধ করা শুরু হবে।

আরশাদ জামাল আরো বলেন, কারখানা মালিকরা যে যার সুবিধা মতো যাতে কারখানা বন্ধ করতে পারেন সে জন্য আমরা দিনক্ষণ নির্ধারণ করে বন্ধের কথা বলিনি, আমরা তাঁদের অনুরোধ জানিয়েছি বন্ধের জন্য। এর আলোকে কোনো কারখানা মালিক হয়তো ১০ দিন, কেউ ১৫ দিন বা তার চেয়ে বেশি দিন বন্ধ করতে পারেন। তবে আমরা মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছি, যাতে বন্ধের আগে যেন শ্রমিকদের চলতি মার্চ মাসের মজুরি দিয়ে দেওয়া হয়। আশা করব মালিকরা সেটা করবেন।

রপ্তানি আদেশ বাতিলের বিষয়ে তিনি বলেন, গতকাল বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ২৬৫ কোটি ডলারের রপ্তানি আদেশ বাতিল হয়েছে। প্রতিদিনই বাড়ছে আদেশ বাতিল। এভাবে রপ্তানি আদেশ বাতিল হওয়ায় কারখানা চালু রাখা যাচ্ছে না। তা ছাড়া কাঁচামালেরও সংকট দেখা দিয়েছে।

বন্ধের সময় শ্রমিকদের অবস্থানের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিজিএমইএ সভাপতি রুবানা হক কালের কণ্ঠকে বলেন, কারখানা বন্ধ হলেও শ্রমিকরা এই অবস্থায় ঝুঁকি নিয়ে ঢাকা ছাড়বেন না বলে আশা করছি। তবে এ ব্যাপারে নিজ নিজ কারখানার মালিকরা তাঁদের প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেবেন।

কারখানা বন্ধের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে শ্রমিক নেতা সিরাজুল হক রনি কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘সরকারের নীতিমালা অনুসারে কারখানা বন্ধের এই সিদ্ধান্ত ইতিবাচক। তবে আমাদের আশা ছুটির আগে শ্রমিকদের ন্যায্য পাওয়া পরিশোধ করবেন মালিকরা। একই সঙ্গে এই ছুটি যেন দীর্ঘায়িত না হয়।

বিকেএমইএও নির্দেশ দিয়েছে বন্ধের

কাজ না থাকলে বিকেএমইএর আওতাভুক্ত পোশাক কারখানাগুলো বন্ধ রাখার পরামর্শ দিয়েছে বিকেএমইএ। এই পরামর্শের আলোকেই আজ শুক্রবার থেকে কারখানা বন্ধ রাখার জন্য কারখানার মালিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে সংগঠনের পক্ষ থেকে। সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সম্ভব হলে আপনার কারখানা বন্ধ রাখার জন্য আমরা সবিনয়ে অনুরোধ জানাচ্ছি।’ একই সঙ্গে যথাসময়ে মার্চ মাসের বেতন পরিশোধের ব্যাপারে এখনই কারখানা মালিকদের পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।

সেলিম ওসমানের পাঠানো ওই পরামর্শে আরো বলা হয়, ‘এরই মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি সব কার্যালয় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। আমাদের জানা তথ্য মতে, অনেক প্রতিষ্ঠানও সরকারের নির্দেশনা অনুসারে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত কারখানা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা