kalerkantho

সোমবার । ২১ অক্টোবর ২০১৯। ৫ কাতির্ক ১৪২৬। ২১ সফর ১৪৪১       

ভারী যানে সফল তাঁরা

হাতে জমানো টাকা আছে; কিন্তু কিসে বিনিয়োগ করবেন সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না? চাইলে হতে পারেন পরিবহন ব্যবসায়ী। তার আগে শুনে নিন দুই সফল বাণিজ্যিক পরিবহন ব্যবসায়ীর গল্প

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ভারী যানে সফল তাঁরা

মো. ফিরোজ হোসেন, লাব্বাইক প্রতিষ্ঠানের তিনটি বাসের মালিক

২০১৬ সালের কথা। হাতে কিছু জমানো টাকা ছিল। ঢাকায় ছোটখাটো অনেক ব্যবসা করেছি; কিন্তু কোনোটায় স্থায়ী হতে পারিনি। কী করব, কিভাবে চলব, চিন্তায় পড়ে যাই। কাছের এক বন্ধুর পরামর্শ চাইলাম। সে বলল, তার মামা পরিবহন ব্যবসা করে ভালো আয় করছেন। প্রথমে একটি বাস দিয়ে ব্যবসা শুরু করে এখন তিনটির মালিক। তার কথা মনে ধরল। সময় করে তার মামার সঙ্গে দেখা করতে যাই। আমার ক্যাশ কম। তাই বন্ধুর মামা ছোট পরিবহন ব্যবসা করতে বললেন। বললেন লেগুনার কথা। এরপর কিছু লেগুনাচালকের সঙ্গে কথা বললাম। একটা লেগুনা দিয়ে মাসে কত টাকা আয় হয়, এ ব্যবসায় কী কী সমস্যা আছে—এসব জানলাম। তার কথা শুনে মোটামুটি ধারণা হলো এটা দিয়ে কোনো রকম চলা যাবে। পরে ভাবলাম, ভবিষ্যতে বড় কিছু হবে না। তুলনা করলাম, লেগুনার জন্য কত, আর বাসের জন্য কত বিনিয়োগ লাগবে। হিসাব করে পরে সিদ্ধান্ত নিলাম বাসই নামাব। এরপর লাব্বাইক কম্পানির অফিসে গেলাম। সেখানে ভালো পরামর্শ পেলাম। তাদের পরামর্শে সোজা চলে যাই একটি বাস বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানে। তারা আমাকে শর্তসাপেক্ষে গাড়ি দিতে রাজি হলো। শর্ত ছিল গাড়ির চেসিসের দাম ১৪ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। আমি নগদ দিই তিন লাখ টাকা। বাকি টাকা একটি ব্যাংক থেকে তারা লোনের ব্যবস্থা করে দেয়। এর জন্য অবশ্য অনেক কাগজপত্র লেগেছে। কী কী কাগজ লাগবে সেটা বাস কম্পানি আর ব্যাংকই জানিয়ে দেবে। ১২টি চেক, ছবি, আইডি কার্ডের ফটোকপি—এসব তো লাগবেই। স্ট্যাম্পে সইও করা লেগেছে। মাসিক কিস্তি ঠিক করা হলো ৩৫ হাজার ৪০০ টাকা। পাঁচ বছরের কিস্তি। চেসিস নিয়ে আবার পাঁচ লাখ টাকা খরচ করে গাড়ির বডি তৈরি করলাম। এরপর রুটে গাড়ি নামাই। দেখলাম, মাসিক কিস্তি দিয়ে আমার মাসে ৪০ হাজার টাকার মতো লাভ থাকছে। এক বছর পরে একই নিয়মে আরেকটি গাড়ি নামাই। আমার একটি গাড়ি এক দিন ভালোভাবে চললে সব খরচ বাদ দিয়ে তিন হাজার টাকা থাকে। ফিরোজ আরো বলেন, রাস্তায় কিছু ঝামেলা হয়। কাগজপত্র পুরোপুরি ঠিক থাকলে খুব একটা ঝামেলা হয় না। তবে উটকো ঝামেলাগুলো দূর করলে পরিবহন ব্যবসা বিনিয়োগের বেশ ভালো একটি ক্ষেত্র বলে মনে করি।

মো. সফিউল্লাহ পণ্য পরিবহন ব্যবসায়ী

বিদেশ থেকে কিছু টাকা ক্যাশ নিয়ে দেশে ফিরি। কিছুদিন যেতেই দেখি সব খরচ হয়ে যাচ্ছে। চিন্তা করলাম টাকাগুলো কাজে লাগাতে হবে। অনেক আইডিয়া এলেও পণ্য পরিবহনটাকেই বেছে নিই। ক্যাশ যা ছিল তার সঙ্গে জমি বিক্রি করে মোট ২০ লাখ টাকা জোগাড় করি। একটি বাস কম্পানির অফিসে যাই। সেখান থেকে সব ধরনের ধারণা দেয় তারা। পণ্য পরিবহন ব্যবসা করলে লাভ-ক্ষতি, যাত্রী পরিবহন ব্যবসার লাভ-ক্ষতি সব বোঝায়। শেষ পর্যন্ত তারা একটি বড় ট্রাক কেনার পরামর্শ দেয়। যদিও আমার ধারণা ছিল না, তবু তাদের কথায় রাজি হই। তারাই গাড়ি নামানোর সব নিয়ম-কানুন বলে দেয়। তাদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়ে ডাউন পেমেন্ট দিই ১৫ লাখ টাকা। চেসিস বা ইঞ্জিনের দাম ধরা হয় ৩৬ লাখ টাকা। বডি তৈরির খরচ হয় প্রায় পাঁচ লাখ টাকা। মাসিক কিস্তুি ধরা হলো ৫৭ হাজার টাকা।

আমার গাড়ি ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে গেলে সব খরচ বাদ দিয়ে ১৬ হাজার টাকা পাই। তবে একটি ভাড়া পেতে মাঝেমধ্যে এক সপ্তাহও অপেক্ষা করতে হতো। আবার রুটের জ্যামের কারণে গাড়ি রাস্তায় বেশি সময় থাকলেও সমস্যা হয়। এতে ভাড়া পেতেও একটু সমস্যা হতো। তবু মাস শেষে যে আয়টা আসত তাতে চলে যেত। আমার শুরুর দিকে কিস্তি পরিশোধ করে মাসে ৩০ হাজার টাকা থাকত। এরপর আরো দুটি বড় ট্রাক নামাই। আর একটি ছোট পিকআপ। ছোট পিকআপ থেকে ভালো আয় আসত না। বড়টা থেকেই ভালো আয় আসে। আমার পাশাপাশি গাড়িগুলো দেখভাল করত আমার ভাগ্নে। সে-ও একটি গাড়ির চালক। সে বিদেশে যাওয়ায় ব্যবসায় একটু ভাটা পড়েছে। কারণ ভালো ড্রাইভার পাওয়া যায় না। আবার রুটের জ্যামের কারণেও বেশি ট্রিপ দেওয়া যায় না, বিশেষ করে দক্ষ ও ভালো ড্রাইভারের বড় সংকট আছে। রাস্তার প্রশস্ততার তুলনায় গাড়িও অনেক বেশি। সামগ্রিক বিচারে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে ব্যবসাটি ভালো। তবে নিজে থেকে দেখভালটা করতে হবে।

শ্রুতলিখন : গাজী খায়রুল আলম

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা