kalerkantho

বুধবার । ১৩ নভেম্বর ২০১৯। ২৮ কার্তিক ১৪২৬। ১৫ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

‘এক্সিবিশনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষিত হয়’

মেহেরুন এন ইসলাম, সেমস গ্লোবাল-ইউএসএর প্রেসিডেন্ট এবং এশিয়া প্যাসিফিকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক

১৪ মার্চ, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘এক্সিবিশনে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষিত হয়’

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশে শুরুটা কী করে?

মেহেরুন এন ইসলাম : আমাদের যাত্রা শুরু ১৯৯২ সালে। প্রথমবারের মতো দেশে বেসরকারিভাবে প্রদর্শনী শুরু করি। আমরা যখন শুরু করি, তখন শুধু ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলা এবং বাটেক্সপো হতো। আমি দেখলাম প্রাইভেট সেক্টর থেকে কিছুই হয় না। বাইরের দেশগুলোতে দেখেছি ব্যবসার প্রসারে বেসরকারি খাতের অবদান অনেক। সিঙ্গাপুরেও দেখলাম আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর আয়োজন বেসরকারিভাবে হতো। আমিও বাংলাদেশে বিষয়টি শুরুর পরিকল্পনা করলাম। কাজটি তখনকার প্রেক্ষাপটে বেশ চ্যালেঞ্জিং ছিল।

আমরা শুরু করলাম নির্মাণসামগ্রী ও যন্ত্রপাতির প্রদর্শনী দিয়ে। অনেকে বিষয়টি সহজভাবে নেয়নি। নির্মাণসামগ্রীর প্রদর্শনীর বিষয়টি অনেকের কাছে ছিল হাস্যকর; কিন্তু আমরা সফল হলাম। আমার যুক্তি ছিল, নির্দিষ্ট পণ্যের বাজার সৃষ্টি করতে পণ্যকেন্দ্রিক প্রদর্শনীর আয়োজন করাটা সবচেয়ে কার্যকর। পণ্যটি টার্গেট অডিয়েন্সের কাছে পৌঁছাতে পারাটাই মূল কথা। কোনো পণ্যের টার্গেট অডিয়েন্স মাত্র এক হাজারও হতে পারে। এটাও যথেষ্ট; কিন্তু আপনাকে সম্ভাব্য সব পক্ষকে একত্র করতে হবে। নির্মাণসামগ্রীর প্রদর্শনীর জন্য আপনাকে যেতে হবে স্থপতিদের কাছে, সিভিল ইঞ্জিনিয়ারের কাছে, নির্মাণসামগ্রীর বিক্রেতা, সরকারি যেসব সংস্থা জড়িত তাদের কাছে। তখন মানুষ বাড়ি করার সময় ঠিক করে রড, সিমেন্ট, বালু কিনে মিস্ত্রি ডেকেই কাজ শুরু করে দিত। ডিজাইন করে বাড়ি তৈরির বিষয়টি এসেছে অনেক পরে।

আমাদের প্রথম প্রদর্শনী বেশ সফল হয়েছিল। নতুন ধারার হলেও টার্গেট অডিয়েন্সদের বেশ সাড়া পেয়েছিলাম। পরের বছর কম্পিউটার, তথ্য-প্রযুক্তি এবং অফিস ইকুইপমেন্টের প্রদর্শনী করলাম। ২০০০ সালে আমরা আবাসন খাতের প্রদর্শনী করি। পরের বছর থেকে রিহ্যাব আবাসন খাতের প্রদর্শনী শুরু করে। এখন বেসিস, কম্পিউটার কাউন্সিল—এরাও প্রদর্শনীর আয়োজন করে।

 

কালের কণ্ঠ : প্রদর্শনীর প্রয়োজনটা কেমন?

মেহেরুন এন ইসলাম : এক্সিবিশন হচ্ছে সরাসরি যোগাযোগ। আপনি বিজ্ঞাপন দিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে বিজ্ঞাপনে ঠিক যতটুকু কথা দেওয়া হলো কনজ্যুমার ঠিক ততটুকু তথ্যই কিন্তু পায়। এ ধরনের একটি বিজ্ঞাপন দেখে অন্য পণ্যের সঙ্গে তুলনা করার সুযোগ থাকে না। আবার ধরুন, টিভি বিজ্ঞাপনে ভোক্তার প্রতিক্রিয়া জানা যায় না। ভোক্তার বাড়তি তথ্য জানার সুযোগও থাকে না; কিন্তু আপনি যখন একটি প্রদর্শনীতে যাচ্ছেন, সেখানে আপনি একই ছাদের নিচে সব পক্ষকে পাচ্ছেন। যদি একটি অটোমোবাইলের এক্সিবিশনে যান, সেখানে ভিন্ন ভিন্ন মডেল, ফিচার, দরদাম ঘুরে ঘুরে চেক করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। এক্সিবিশনে  সাপোর্টিং প্রতিষ্ঠানও থাকে। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান, কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান, লিগ্যাল সেবাদান প্রতিষ্ঠান থাকে। অর্থাৎ আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকে সব ধরনের পক্ষকে একটি এক্সিবিশনে একত্র করার।

 

কালের কণ্ঠ : ১৯৯২ সালের অর্থনীতির পরিধির হিসাবে এক্সিবিশনের কনসেপ্ট নিয়ে কাজ করা অনেকটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। এটা সামলে নিলেন কী করে?

মেহেরুন এন ইসলাম : আমাকে অনেকে বলেছিল যে আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন? তবে আমার আত্মবিশ্বাস ছিল। আমি মনে করতাম, আপনি যদি সঠিক পণ্য নিয়ে সঠিক জায়গায় নক করতে পারেন, বিজয়ী হবেনই। ১৯৯২ সালে আমাদের জাতীয় অর্থনীতির দিকে তাকালে স্বাভাবিকভাবেই উপলব্ধি করা যায়, তখন কাজটা কতটা চ্যালেঞ্জিং ছিল। আমাদের প্রচেষ্টা ছিল, পরিশ্রম করে গেছি, সফলতাও এসেছে।

 

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশে অটোমোবাইলের ইভেন্ট কতটা কার্যকর?

মেহেরুন এন ইসলাম : অটোমোবাইলের ইভেন্ট নিয়ে আমরা কাজ করছি ১৪ বছর ধরে। শুরুতে অটোমোবাইলের মার্কেট খুব ছোট ছিল। তখন খুব দাপট ছিল রিকন্ডিশন্ড গাড়ির। আমরা চিন্তা করেছিলাম, নতুন গাড়ির মার্কেট তৈরি করতে না পারলে একসময় বাজার আরো ছোট হয়ে যাবে। তাই নতুন গাড়িকে প্রাধান্য দিয়ে এক্সিবিশনের পরিকল্পনা করলাম। স্টাডি করে দেখলাম, মূলত আমরা রিকনডিশনড গাড়ির জাংক মার্কেটে পরিণত হচ্ছি। তখন ভাবলাম, ভবিষ্যতের জন্য এখন থেকে নতুন গাড়িকে প্রমোট করতে হবে। প্রথম দিকে খুব সাড়া পাইনি। প্রথম চার বছর পকেট থেকে টাকা খরচ করে প্রদর্শনী চালাতে হয়েছে। তবে একটি প্রদর্শনী ভালো সাড়া তৈরি করতে পারে। কারণ এটি শুধু এক্সিকিউটর বা ভোক্তারা নয়, নীতিনির্ধারক পর্যায়ের ব্যক্তিরাও দেখেন। তাঁদের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সুবিধা হয়।

 

কালের কণ্ঠ : বাংলাদেশের অটোমোবাইল বাজার ফোকাস করতে সেমস কী কী বিষয় তুলে আনবে?

মেহেরুন এন ইসলাম : আমাদের প্রথম ফোকাস থাকবে যারা অংশগ্রহণ করছে, তাদের স্বার্থ সংরক্ষণ করা। পাশাপাশি ভোক্তা বা টার্গেট লোকজনের কথাও মাথায় রাখতে হয়। একজন বায়ার বা ভিজিটর যে লেভেলেরই হোক না কেন, তার জন্যও সমাধান রাখতে হবে।

 

কালের কণ্ঠ : সামনে সেমস আর কিসের ইভেন্ট নিয়ে পরিকল্পনা করছে?

মেহেরুন এন ইসলাম : বর্তমান বিশ্বের সামনে কোন হুমকিটা অপেক্ষা করছে সেটা দেখতে হবে। সে দৃষ্টিকোণ থেকে আমরা পানি নিয়ে কাজ শুরু করেছি। লোকসান দিয়েই কাজটা করে যাচ্ছি। আরো কয়েক বছর লোকসান দিয়ে যেতে হবে। তবে আমি মনে করি, পানি নিয়ে আমাদের একটি সমাধানে আসা প্রয়োজন। কারণ পানি একসময় তেলের চেয়ে দামি হবে। 

 

সাক্ষাৎকার নিয়েছেন শায়েখ হাসান

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা