kalerkantho

বুধবার । ৭ ডিসেম্বর ২০২২ । ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৯ । ১২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৪

‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে পুলিশ ক্যাডারে কেন?’

পুরকৌশলে (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) স্নাতক করেছি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে। ৪০তম বিসিএসে আমার ভাইভা হয়েছিল প্রায় ২০ মিনিটের মতো। ভাইভার দিন আকাশি রঙের শার্ট ও বেগুনি রঙের টাই এবং কালো প্যান্ট ও জুতা পরে গিয়েছিলাম

১ অক্টোবর, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে পড়ে পুলিশ ক্যাডারে কেন?’

চেয়ারম্যান : আপনি কোথায় কোন বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন?

আমি : স্যার, ২০১৬ সালে পুরকৌশলে (সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং) স্নাতক সম্পন্ন করেছি রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (রুয়েট) থেকে।

চেয়ারম্যান : তাহলে তো পাস করার অনেক দিন হয়ে গেছে। কোথায় কোথায় চাকরি করেছেন?

আমি: স্যার, আমি এলজিইডির একটি প্রকল্পে কনসালট্যান্ট হিসেবে এবং বর্তমানে একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) হিসেবে কর্মরত আছি।

এক্সটার্নাল-১ : তো আপনি ইঞ্জিনিয়ার হয়ে পুলিশে আসতে চাচ্ছেন কেন?

আমি : স্যার, আমার মনে হয়—বর্তমানে খুন, ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি ইত্যাদি স্থূল অপরাধের পাশাপাশি সাইবার ক্রাইমসহ তথ্য-প্রযুক্তিনির্ভর সূক্ষ্ম অপরাধ অনেকাংশে বেড়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

এ ক্ষেত্রে একজন প্রকৌশলী তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তা নিয়ে অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে পারেন। এ ছাড়া সংবিধানের ‘২৯(১)’ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগ বা পদ লাভের ক্ষেত্রে সব নাগরিকের জন্য সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে, স্যার।

এক্সটার্নাল-১: আপনার নিজ জেলার নাম কী?

আমি: স্যার, আমার নিজ জেলা কুড়িগ্রাম।

এক্সটার্নাল-১ : কুড়িগ্রাম জেলা মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন কয় নম্বর সেক্টরভুক্ত ছিল এবং সেক্টর কমান্ডারের নাম বলেন।

আমি : স্যার, কুড়িগ্রাম জেলা মুক্তিযুদ্ধকালীন ৬ ও ১১ নম্বর সেক্টরে আংশিকভাবে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ৬ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার ছিলেন উইং কমান্ডার এম কে বাশার। ১১ নম্বর সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের নাম এই মুহূর্তে মনে করতে পারছি না বলে দুঃখিত।

চেয়ারম্যান : আচ্ছা, পুলিশের ইমেজ সংকট নিয়ে কিছু বলুন।

আমি: স্যার, আমি মনে করি দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বাদে পুলিশ সব সময় সাধারণ মানুষের আস্থার প্রতীক হয়ে থেকেছে। যেকোনো বিপদে মানুষের পাশে থাকে পুলিশ। উদাহরণস্বরূপ— করোনাকালে পুলিশের মানবিক ভূমিকা সর্বমহলে প্রশংসিত হয়েছে। আপনজনের লাশও যখন কেউ বহন করেনি, তখন পুলিশ সেই লাশ কাঁধে তুলে নিয়েছে নিঃসংকোচে। আর এমন মানবিক পুলিশই হতে চাই আমি।

চেয়ারম্যান : দেশের উন্নয়নের সঙ্গে পুলিশের ভূমিকাকে আপনি কিভাবে মেলাবেন?

আমি : স্যার, বাংলাদেশ পুলিশের মূলনীতি হলো ‘শান্তি, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, প্রগতি’। অর্থাৎ দেশের শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা গেলেই প্রগতি বা উন্নয়ন টেকসই করা সম্ভব।

এক্সটার্নাল-২ : ১৫ আগস্ট ১৯৭৫-এ একজন পুলিশ সদস্য শহীদ হন। তাঁর নাম বলতে পারবেন?

আমি : জি স্যার। তিনি হলেন এ এস আই সিদ্দিকুর রহমান।

এক্সটার্নাল-২ : আচ্ছা ধরুন, আপনি এক জায়গায় গিয়ে দেখলেন একটি খুন হয়েছে এবং উত্তেজিত জনতা ব্যাপক ভাঙচুর করেছে। আপনার সঙ্গে ফোর্স নেই। এ ক্ষেত্রে কী করবেন?

আমি : স্যার, এ ক্ষেত্রে প্রথমেই আমি ওয়াকিটকির মাধ্যমে আমার ফোর্সকে ঘটনাস্থলে আসতে বলব এবং উত্তেজিত জনতাকে আইন নিজেদের হাতে না তুলে নিতে অনুরোধ জানাব। এ ছাড়া ক্রাইম সিন সংরক্ষণের জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করব (এই উত্তরে বিজ্ঞ স্যারেরা খুব একটা সন্তুষ্ট হতে পারেননি বলে মনে হলো। )

 

চেয়ারম্যান : করোনায় কতজন পুলিশ সদস্য শহীদ হয়েছেন?

আমি: স্যার, ৫০ জনেরও বেশি। (স্যার উত্তর নিলেন)

এক্সটার্নাল-২ : বসফরাস প্রণালি কোন দুটি মহাদেশকে পৃথক করেছে?

আমি : স্যার, এশিয়া ও আফ্রিকা। (সঠিক উত্তর—এশিয়া ও ইউরোপ)।

চেয়ারম্যান : যে প্রশ্নের উত্তর না পারবেন সেটি জানেন না বলাই ভালো, ঠিক আছে?

আমি : দুঃখিত স্যার।

চেয়ারম্যান : বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম আইজিপির নাম বলতে পারবেন?

আমি : স্যার, বাংলাদেশ পুলিশের প্রথম আইজিপি ও প্রথম স্বরাষ্ট্রসচিব আবদুল খালেক।

চেয়ারম্যান : তো আপনি পুলিশ হলে আমরা বিপদে পড়লে সাহায্য করবেন তো? (হাসি)

আমি: স্যার, আমি বৈধ উপায়ে আমার কার্যপরিধির মধ্যে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব যদি সেই সুযোগ পাই।

চেয়ারম্যান : ঠিক আছে। আপনি এবার আসতে পারেন।

সবশেষে সালাম ও ধন্যবাদ জানিয়ে সার্টিফিকেট হাতে নিয়ে খুব সতর্কতার সঙ্গে সন্তর্পণে দরজা খুলে আবার বন্ধ করে বেরিয়ে এলাম।

 গ্রন্থনা : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

 

 



সাতদিনের সেরা