kalerkantho

শনিবার । ২৫ জুন ২০২২ । ১১ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৪ জিলকদ ১৪৪৩

বিসিএস পরামর্শ

বিসিএসে ভালো করার উপায়

৪০তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে প্রথম হয়েছেন কাজী ফাইজুল করীম। পড়াশোনা করেছেন ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড কমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট)। বিসিএসে তাঁর ভালো করার পেছনের গল্প ও নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে প্রার্থীদের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।

২৮ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিসিএসে ভালো করার উপায়

যখন থেকে প্রস্তুতি : বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার সময় থেকেই প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। আমি লাস্ট সেমিস্টার পরীক্ষা শেষে বিসিএসের প্রস্তুতিমূলক পড়াশোনা শুরু করি। প্রিলির জন্য সিলেবাস ধরে ধরে প্রতিটি টপিকের ওপর বিস্তারিত পড়াশোনা করেছি। শুধু বাজারের প্রচলিত বইয়ের ওপরই নির্ভর করিনি, গুরুত্বপূর্ণ কোনো টপিক সম্পর্কিত যতটুকু তথ্য ইন্টারনেট ও পত্রিকায় পেয়েছি, সংগ্রহের চেষ্টা করেছি।

বিজ্ঞাপন

নোট করে বিষয়বস্তুর ওপর বিস্তারিত পড়াশোনা করার কারণে এগুলো লিখিত পরীক্ষার জন্যও কাজে দিয়েছে। বিসিএস পরীক্ষার আগে জীবনযাপন ও সময় ব্যবস্থাপনাকে এমনভাবে সাজিয়েছি, যাতে দিনের সর্বোচ্চ সময়টুকু পড়াশোনার জন্য দিতে পারি।

 

প্রিলি পাস নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব : বেশির ভাগ প্রার্থীই প্রিলিমিনারি পাস করবেন কি না এ নিয়ে দুশ্চিন্তার কারণে ফলের আগে লিখিত পরীক্ষার জন্য তেমন প্রস্তুতি নেন না। অথচ প্রিলির পর থেকেই লিখিত পরীক্ষার জন্য জোর প্রস্তুতি নেওয়া উচিত। লিখিত পরীক্ষার সিলেবাস অনুযায়ী প্রতিদিনের সময় ভাগ করে প্রতিটি টপিকের ওপর তথ্যনির্ভর প্রস্তুতি নিতে হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে পর্যাপ্ত ডাটা, কোটেশন, ম্যাপ ব্যবহার করতে পারলে ভালো হয়। ম্যাথ ও মেন্টাল অ্যাবিলিটির জন্য বিগত বছরের প্রশ্নগুলো বিশ্লেষণ করে বেশি বেশি চর্চা করা জরুরি। বাংলা প্রথম ও দ্বিতীয় পত্রে ভালো প্রস্তুতির জন্য কিছু সহায়ক বই ব্যবহার করা যেতে পারে। ইংরেজিতে প্যাসেজ কয়েকবার এমনভাবে পড়তে হবে, যাতে মূলভাব আয়ত্ত করা যায়। গ্রামার ও ভোকাবুলারির ওপর জোর দিতে হবে। লিখিত পরীক্ষায় কোনো নাম্বার ছেড়ে আসা যাবে না। তাই পরীক্ষার হলে সময় ব্যবস্থাপনা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

খেয়াল রাখুন : ১. শুধু ডাইজেস্ট পড়ে প্রিলি প্রস্তুতির মানসিকতা দূর করতে হবে।

২. সিলেবাস না বুঝে অগোছালো প্রস্তুতি থেকেও বিরত থাকতে হবে।

৩. যেসব বিষয়ে দুর্বলতা আছে, সেসব বিষয়ে বেশি সময় দিতে গিয়ে তুলনামূলক সহজ বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেন না অনেকে। ফলে সহজ বিষয়েও খারাপ করে বসেন।

৪. প্রস্তুতি নিরবচ্ছিন্ন রাখতে অনেকেই ফেসবুক ডি-অ্যাক্টিভ রাখেন। দরকারি তথ্যের জন্য ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়া সহায়ক। আমি সতর্ক থেকেছি, পড়াশোনার সময় ফেসবুকের নেতিবাচক কোনো প্রভাব যাতে না পড়ে! বিসিএস প্রস্তুতির জন্য আমার আলাদা একটি ফেসবুক আইডি ছিল, সেখানে প্রস্তুতিসংক্রান্ত অনেক কিছুই শেয়ার করে রাখতাম। এটা অনেকটা ভার্চুয়াল নোটবুকের মতো কাজ করেছে।

কঠিন বিষয়ে করণীয় : আমার মতে, বিসিএসের সিলেবাস সব বিভাগের পড়াশোনার সংমিশ্রণ। বিজ্ঞান ব্যাকগ্রাউন্ডের শিক্ষার্থীরা যে খুব বেশি এগিয়ে থাকে, বিষয়টি তেমন নয়। চেষ্টা করলে সবার জন্যই কঠিন বিষয়গুলো আয়ত্ত করা সম্ভব। আমার ক্ষেত্রে বাংলা সাহিত্য, ইংরেজি সাহিত্য ও সাধারণ জ্ঞানের কিছু টপিক মনে রাখা কঠিন ছিল। অনেকের কাছে বিজ্ঞান ও গণিত কঠিন লাগতে পারে। কারো কাছে আবার ইংরেজি ও বাংলা ব্যাকরণ কঠিন। তবে চেষ্টা করলে সব বিষয়েই ভালো করা সম্ভব। কঠিন বিষয়গুলোর ওপর বাড়তি জোর দিতে হবে, বিশেষ করে কঠিন টপিকগুলো নোট করে পড়লে পরবর্তী সময়ে মনে রাখা সহজ হবে।

 

বিষয় অনুযায়ী গুরুত্ব : প্রিলিমিনারির জন্য বাংলাদেশ বিষয়াবলি ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া উচিত। এই দুই বিষয়ে ভালো করলে প্রার্থীর আত্মবিশ্বাস বেড়ে যায়, যা পরীক্ষার হলে খুব গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া বাংলা ও ইংরেজি অংশের সাহিত্য ও ব্যাকরণ অংশকে টার্গেট করে প্রস্তুতি নিতে হবে। এ বিষয়গুলোতে ভালো করলে প্রিলিমিনারিতে পাসের সম্ভাবনা অনেকটাই বেড়ে যায়। ভূগোল, মানসিক দক্ষতা, আইসিটি একটু গুছিয়ে পড়লেই ভালো করা সম্ভব।

 

ভাইভার প্রস্তুতি : ভাইভায় ভালো করার পূর্বশর্ত হলো নিজের প্রতি আত্মবিশ্বাস না হারানো। ভাইভা বোর্ডে আপনার বডি ল্যাংগুয়েজ, আর্টিকুলেশন, রিঅ্যাকশনের ওপর অনেক কিছুই নির্ভর করে। ভাইভা বোর্ডে বিনয়ের সঙ্গে উত্তর দেবেন। মুক্তিযুদ্ধ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বর্তমান সরকারের উন্নয়ন কর্মযজ্ঞ, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ জানা জরুরি। ভাইভায় নিয়ন্ত্রিত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করবেন। বোর্ডের সদস্যরা আপনার উত্তরের সূত্র ধরেই পরবর্তী প্রশ্ন করতে পারেন। বাসায় অবসর সময়ে নিজে নিজে ইংরেজিতে কথা বলার অভ্যাস করতে পারেন, তাহলে ভাইভায় ইংরেজিতে প্রশ্ন করা হলে সাবলীলভাবেই ইংরেজিতে উত্তর দিতে পারনে।

     অনুলিখন : জেলি খাতুন

 



সাতদিনের সেরা