kalerkantho

শনিবার ।  ২৮ মে ২০২২ । ১৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৬ শাওয়াল ১৪৪

‘ধরো, তুমি দেশের ডেলিগেট; ইংরেজিতে স্পিচ দাও’

বিসিএস ভাইভা

১৪ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



‘ধরো, তুমি দেশের ডেলিগেট; ইংরেজিতে স্পিচ দাও’

মো. বায়েজীদ সরদার মুন,প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত,৪০তম বিসিএস

পড়াশোনা করেছি পদার্থবিজ্ঞানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। ৪০তম বিসিএসই আমার জীবনের প্রথম বিসিএস। ভাইভা বোর্ডে ২০ থেকে ২২ মিনিটের মতো ছিলাম। ভাইভায় ইংরেজি স্পিচ, বাংলা ও ইংরেজি উচ্চারণ এবং আবৃত্তি আমার ক্ষেত্রে ট্রাম্প কার্ড হিসেবে কাজ করেছে!

আমি : May I Come in Sir?

চেয়ারম্যান : আসো, বসো।

বিজ্ঞাপন

চেয়ারম্যান : পড়াশোনা করেছ কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে?

আমি : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে।

(চেয়ারম্যান স্যার ‘বনলতা সেন’ কবিতার কয়েক লাইন বলার পর বললেন, ‘এর পরে তুমি বলো...। ’ আমি পরের কয়েক লাইন আবৃত্তি করলাম। চেয়ারম্যান স্যার কবিতার লাইন ধরে ধরে মর্মার্থ জিজ্ঞেস করলেন দুবার। দুবারই ‘দুঃখিত’ বললাম। )

চেয়ারম্যান : তুমি কবিতা পড়ো?

আমি : জি স্যার, পড়ি।

চেয়ারম্যান : তোমার উচ্চারণ সুন্দর। আবৃত্তি শুনেই বোঝা যায় যে তুমি কবিতা পড়ো।

আমি : ধন্যবাদ, স্যার।

চেয়ারম্যান : তাহলে তোমাকে আজকে কবিতা থেকেই প্রশ্ন করি...‘স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’

পড়েছ?

আমি : জি স্যার, পড়েছি। (কবির নামসহ কবিতা জানা ছিল, কিন্তু ওভারস্মার্টনেস দেখাইনি। )

[‘স্বাধীনতা শব্দটি কিভাবে আমাদের হলো’ কবিতাটির কবির নাম নির্মলেন্দু গুণ]

চেয়ারম্যান : এই কবিতায় কবি একটি বিশেষ উদ্যানের কথা বলেছেন, এখানে মুসলিমদের পরাজয় হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আবার বলেছিলেন মুসলিমদের বিজয়ও হয়েছে একই সঙ্গে।

(সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের যে ঐতিহাসিক তাৎপার্য, সেটি নিয়ে বলা শুরু করেছিলাম। চেয়ারম্যান স্যার অনেক কিছু এক্সপ্লেইন করে বুঝিয়ে দিচ্ছিলেন, তারপর বললেন, ‘এখন বলো...। ’ কিছুক্ষণ চুপ থাকায় এক্সটার্নাল স্যার বললেন, ‘স্যার তো তোমাকে অনেক ক্লু দিয়েছেন, এর পরও পারছ না?’ আমি বলার চেষ্টা করায়ই এক্সটার্নাল স্যার কিছুটা রেগে বললেন, ‘এতক্ষণে পারলে হবে! তুমি তো কথাই বোঝো না!’ আসলে করোনার কারণে স্যাররা ডাবল মাস্ক পরে প্রার্থীর বসার জায়গা থেকে অনেকটা দূরত্বে ছিলেন। এ ছাড়া চেয়ারম্যান স্যার কিছুটা নিচু স্বরে কথা বলছিলেন। তাই সব কথা শুনতে পাইনি। )

এক্সটার্নাল-১ :  তোমার প্রথম পছন্দ কী?

আমি : পররাষ্ট্র।

চেয়ারম্যান : ব্যাংকে আছ দেখছি, পোস্টিং কোথায়? কেমন লাগছে?

(আমি উত্তর দিলাম)

চেয়ারম্যান : (হোয়াইট বোর্ডে যেতে ইশারা করলেন) গোয়াইনঘাট উপজেলা কোথায়, ম্যাপে দেখাও। (ভারতের কয়েকটি রাজ্যের নাম ম্যাপের মধ্যে লিখে দেখাতে বললেন। এটি আমি বেশ ভালোভাবেই পারলাম। ম্যাপ নিয়ে আমার এমনিতেই আগ্রহ ছিল সব সময়। )

চেয়ারম্যান : তুমি কী করতে পছন্দ করো?

আমি : স্যার, ট্রাভেলিং পছন্দ করি।

চেয়ারম্যান : দেশের বাইরে কখনো গিয়েছ?

আমি : জি না, স্যার। এখনো যাওয়া হয়নি।

চেয়ারম্যান : দেশের মধ্যে কোথায় গিয়েছ?

আমি : দেশের মধ্যে আমি অনেক ঐতিহাসিক ও দর্শনীয় স্থানে গিয়েছি। (স্থানের নাম বলিনি। অনেক কিছুই বলা যেত। )

চেয়ারম্যান : তোমার মা-বাবা কী করেন?

আমি : বাবা অবসরে, তিনি বিডিআরে (বিজিবি) ছিলেন আর মা হাউসওয়াইফ।

এক্সটার্নাল-২ : ধরো, আমরা কোনো দেশের ডেলিগেট, এখন তুমি একটি স্পিচ দেবে ইংরেজিতে, regarding economic diplomacy to attract FDI. তোমার সময় এক মিনিট।

আমি : Excellencies, Distinguished Guests, Ladies and Gentleman, Greetings and Assalamu Alaikum, I have the Honor to represent my country Government of the People’s Republic of Bangladesh. Bangladesh is on the highway of development under the charismatic leadership of our Honorable Prime minister Sheikh Hasina. Bangladesh is going to be a developing country. It will graduate finally from a least developing country in 2026. Bangladesh has fulfilled the criteria of united nations committee for development policy in 2018 and 2021 consecutively. Bangladesh has taken development initiatives such as vision 2041 and delta plan 2100. Per capita income, GDP growth rate etc...

(আমি দাঁড়িয়ে শুরু করতে যাওয়ায় স্যার বসেই বলতে বললেন। প্রায় দুই মিনিট বলার পর চেয়ারম্যান স্যার বললেন, ‘ঠিক আছে, তুমি আসো। ’ এখানে আমার আরো অনেক কিছু বলার ছিল, যা বলতে পারিনি স্যার শেষ করতে বলায়। তবে উচ্চারণ ও ফ্লুয়েন্সি ঠিকঠাকই ছিল। স্যারদের অভিব্যক্তি দেখে মনে হয়েছিল, আমার স্পিচ উনাদের ভালো লেগেছে।

 গ্রন্থনা : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

 



সাতদিনের সেরা