kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৮ জুন ২০২২ । ১৪ আষাঢ় ১৪২৯ । ২৭ জিলকদ ১৪৪৩

৪৪তম বিসিএস

প্রিলির আগে ৭ করণীয়

৪৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা ২৭ মে। পরীক্ষার আগমুহূর্তে করণীয় ও দরকারি পরামর্শ জানাচ্ছেন ৩৫তম বিসিএস সাধারণ শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা রবিউল আলম লুইপা

৭ মে, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৬ মিনিটে



প্রিলির আগে ৭ করণীয়

১) রিভিশন : বেশির ভাগ প্রার্থীর প্রস্তুতি এর মধ্যে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। এখন রিভিশনের সময়। এত দিন যা পড়েছেন, তা সঠিকভাবে রিভিশন না দিলে পড়াগুলো মনে না থাকার আশঙ্কাই বেশি। তাই প্রতিটি বিষয়ের জন্য ৩-৪ দিন সময়ের রুটিন করে পড়াগুলো রিভিশন দিন।

বিজ্ঞাপন

রিভিশনের অভাবে আপনি পরীক্ষার হলে কনফিউজড হয়ে নেগেটিভ মার্কিংয়ের শিকার হতে পারেন।

 

২) সাম্প্রতিক তথ্য : খুব গুরুত্বপূর্ণ না হলে এখন নতুন কিছু না পড়াই ভালো। বিগত ৬ মাসের সাম্প্রতিক তথ্যগুলো কোনো সাম্প্রতিক নোট/গাইড/ম্যাগাজিন থেকে পড়ে নিন। কারণ বিষয়ভিত্তিক বইগুলোতে যে তথ্য আপনি পড়েছেন, সেখানে সাম্প্রতিক তথ্যগুলো হয়তো যোগ করা ছিল না। বিসিএসের বর্তমান প্যাটার্নের প্রশ্নে সাম্প্রতিক তথ্য থেকে আসা এমসিকিউগুলো নম্বরের পার্থক্য গড়ে দেয়।

 

৩) মডেল টেস্ট : পরীক্ষার আগের দুই সপ্তাহ বাসায় সময় ধরে কমপক্ষে ১০টি মডেল টেস্ট দেবেন। বাজারে বিভিন্ন প্রকাশনীর মডেল টেস্ট বই বা অনলাইন মোবাইল অ্যাপস থেকে যেটি মানসম্মত সেটি বেছে নিতে পারেন। একটি মানসম্মত মডেল টেস্টের প ্রশ্নে আপনার প্রাপ্ত নম্বর ১২০-১৩০ এর নিচে নেমে গেলে নম্বর বাড়ানোর চেষ্টা করুন।

নম্বর বাড়ানোর ২ কৌশল—

ক) আরো অধিক এমসিকিউ দাগাতে হবে (আপনি ১৫০টি এমসিকিউ উত্তর করে কম নম্বর পেলে, পরের মডেল টেস্টে কনফিউজডগুলোসহ ১৭০টি এমসিকিউ উত্তর করে প্রাপ্ত নম্বরের পার্থক্য দেখতে পারেন)।

খ) নেগেটিভ নম্বর কমানোর চেষ্টা করতে হবে (অনেক এমসিকিউ দাগিয়েও যদি কম নম্বর পান, তাহলে বুঝতে হবে আপনার অনেক নেগেটিভ মার্কিং হচ্ছে)। প্রাপ্ত নম্বর বাড়ানোর আরেকটি কৌশল হলো ৫০-৫০ কনফিউশনের প্রশ্নগুলোও দাগিয়ে ফেলা। এ ক্ষেত্রে ২০টি প্রশ্ন দাগিয়ে ১০টির উত্তর সঠিক হলে আপনার ঝুলিতে ৫ নম্বর যোগ হবে। এখানে ক্ষতির চেয়ে লাভের সম্ভাবনাই বেশি।

 

৪) সময় বণ্টন : পরীক্ষায় সম্পূর্ণ ও সঠিক উত্তরের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময় বণ্টন। বাসার পরিবেশ আর পরীক্ষার হলের পরিবেশ এক নয়। তাই বাসায় মডেল টেস্ট দেওয়ার সময় ১.৫ ঘণ্টায় পরীক্ষা শেষ করার চেষ্টা করুন। এখানে কোন সাবজেক্টের জন্য কত সময় বরাদ্দ রাখবেন, সেটি আগে থেকেই নির্ধারণ করুন। আমি চূড়ান্ত পরীক্ষায় প্রথম ৬০ মিনিটে ১৩৫টি এমসিকিউ (ইংরেজি-৩৫ ও গণিত-৩০ ব্যতীত) উত্তর করতাম এবং শেষ ৬০ মিনিট বাকি ৬৫টি এমসিকিউ (ইংরেজি-৩৫ ও গণিত-৩০) এবং রিভিশনের জন্য রাখতাম। এই কৌশলটি আমার ক্ষেত্রে খুব কাজে দিয়েছিল।

 

৫) স্বতন্ত্র কৌশল : একেকজন প্রার্থীর একেক সাবজেক্টে শক্তিশালী প্রস্তুতি থাকে, আবার একেক সাবজেক্টে দুর্বলতা থাকে। ফলে আপনার দুর্বলতাকে ভয় না পেয়ে শক্তিকে পুরোপুরি কাজে লাগান। কোনো প্রার্থী যদি ইংরেজি আর গণিতে ৩৫+৩০ = ৬৫ এর মধ্যে শূন্যও পায়, তবু ২০০-৬৫ = ১৩৫ নম্বরের মধ্যে ১১০/১২০ পেয়েও সেই প্রার্থী প্রিলিতে টিকতে পারে।

 

৬) সুস্থতা : পরীক্ষার দিন পর্যন্ত শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকুন। এটিই আপনার আসল প্রস্তুতি। অনেক প্রস্তুতি নিয়েও পরীক্ষার আগে অসুস্থ হয়ে পড়লে আপনার এত দিনের প্রস্তুতি ব্যর্থ হয়ে যেতে পারে। পরীক্ষার আগের রাতে পর্যাপ্ত ঘুমাবেন। পরীক্ষার চাপে অনিদ্রা বা ‘সব ভুলে গেছি’ এ রকমটা মনে হওয়া খুবই কমন ঘটনা। এটিকে স্বাভাবিকভাবে নিন।

 

৭) আত্মবিশ্বাস : যেকোনো কাজে সফলতার জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস। অন্যের পড়াশোনার দিকে না তাকিয়ে নিজের প্ল্যানিং নিয়ে চিন্তা করুন। শেষ সময়ে টেনশনে পড়াশোনা কম হবে, এটা মাথায় রাখুন।

ফলে পরীক্ষার আগের সপ্তাহ পড়াশোনা না হলে মানসিক চাপ নেবেন না। স্ট্রেস কমানোর জন্য বন্ধুদের সঙ্গে টুকটাক আড্ডা, খেলাধুলা, গান শোনা এ রকম স্বল্প সময়ের বিনোদন ও মানসিক প্রশান্তিকে বিবেচনায় নিন। আপনাকে প্রিলিতে টিকতেই হবে ভেবে মানসিক স্ট্রেস না নিয়ে ভাবুন আপনি আপনার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করছেন, বাকিটা ভাগ্য।

 

পরীক্ষার কক্ষে করণীয়

১) আপনার রেজিস্ট্রেশন নম্বর অনুযায়ী পরীক্ষাকেন্দ্রের নাম নিশ্চিত করুন। সম্ভব হলের পরীক্ষার আগের দিন পরীক্ষাকেন্দ্র পরিদর্শন করে দূরত্ব দেখে আসুন। হাতে যথেষ্ট সময় রেখে পরীক্ষাকেন্দ্রে যাবেন।

২) একাধিক প্রবেশপত্র প্রিন্ট করিয়ে রাখুন। প্রবেশপত্রে কোনোরূপ দাগ দেওয়া নিষেধ। প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় প্রশ্নে প্রয়োজনীয় রাফ করতে পারবেন। পরীক্ষার হলে একাধিক কালো কালির কলম নিয়ে যাবেন। এ ক্ষেত্রে মোটা নিবের যেকোনো বলপেন দ্রুত বৃত্ত ভরাটের জন্য খুবই ফলপ্রসূ।

৩) ওএমআর শিটে নির্ভুল রেজিস্ট্রেশন নম্বর ও হাজিরা কাগজে প্রবেশপত্রের অনুরূপ স্বাক্ষর দিন। সাধারণত প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রে আগে থেকেই সেট কোড বসানো থাকে। কক্ষ প্রত্যবেক্ষক আপনাকে একই সেটের প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্র দিয়েছে কি না মিলিয়ে নেবেন। প্রশ্নপত্র ও উত্তরপত্রের সেট না মিললে আপনার সঠিক উত্তরগুলো কোনো কাজেই আসবে না।

ওএমআর শিটে উত্তরের সিরিয়াল ওপরে-নিচে ক-খ-গ-ঘ নাকি পাশাপাশি ক-খ-গ-ঘ সেটি খেয়াল করুন (৩৫তম বিসিএসে অনেক প্রার্থীই ৫-৬টি প্রশ্নোত্তরের বৃত্ত ভরাট করার পর সিরিয়ালের বিষয়টি লক্ষ করেছেন ও নেগেটিভ মার্ক পেয়েছেন)।

৪) প্রশ্নের উত্তর করার সময় অনেকেই ১ নম্বর প্রশ্ন থেকে উত্তর শুরু করে, আবার অনেকেই নির্দিষ্ট বিষয় (যেমন-বাংলা) ধরে ধরে উত্তর দেয়। তবে এ ক্ষেত্রে আমার পরামর্শ, মানসিক চাপমুক্ত থাকার জন্য সাধারণ জ্ঞান বা বাংলা দিয়ে উত্তর শুরু করা সর্বোত্তম। সবশেষে ইংরেজি ও গণিত উত্তর দিলে ভালো। এ ক্ষেত্রে উত্তরদানের সিকোয়েন্স হতে পারে সাধারণ জ্ঞান, বাংলা, বিজ্ঞান, ইংরেজি, গণিত। আপনার উত্তরের সাবজেক্ট সিরিয়াল আগে থেকেই ঠিক করে নেবেন। কোনো প্রশ্নের উত্তর নিয়ে কনফিউশন থাকলে সেটি নিয়ে অযথা সময় নষ্ট না করে সেটিতে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে পরের প্রশ্নে চলে যান। একটি কঠিন প্রশ্ন নিয়ে বেশি সময় নষ্ট করে, সময়ের অভাবে অনেকগুলো সহজ প্রশ্ন ছেড়ে আসাটা বোকামি। কিছু প্রশ্ন ছেড়ে আসার মানসিকতা রাখুন। আপনাকে পুরো নম্বরই পেতে হবে, এমনটি নয়।

৫) প্রশ্ন যত কঠিনই হোক পরীক্ষার পুরো সময় মাথা ঠাণ্ডা রেখে শেষ পর্যন্ত উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করে যাবেন। মনে রাখবেন, আপনার জন্য যে প্রশ্নপত্র কঠিন, সেটি আপনার সহযোদ্ধাদের জন্যও কঠিন। বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সহজ প্রশ্নে যতজন উত্তীর্ণ হয়, কঠিন প্রশ্নেও ততজনই উত্তীর্ণ হয়।

 



সাতদিনের সেরা