kalerkantho

শুক্রবার ।  ২৭ মে ২০২২ । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯ । ২৫ শাওয়াল ১৪৪

৪৩ তম বিসিএস

প্রিলিতে ফেল? এখন যা করতে পারেন

রবিউল আলম লুইপা, ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)

২৯ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রিলিতে ফেল? এখন যা করতে পারেন

বিসিএস প্রিলিতে ফেল করে পরেরবার সব ধাপে পাস করে ক্যাডার হয়েছেন, এমন বহু উদাহরণ আছে

কিছুদিন আগেই ৪৩তম বিসিএস প্রিলিমিনারির ফল প্রকাশিত হলো। আবেদন করা ৪ লাখ ৩৫ হাজার ১৯০ জন প্রার্থীদের মধ্যে ৯৬.৫ শতাংশই এই পর্বে ফেল করেছেন। পাস না করে অনেকেই মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন, ফেসবুকে হতাশা প্রকাশ করছেন। অথচ এই একটি পরীক্ষা বা বিসিএসই জীবনের শেষ বা একমাত্র গন্তব্য না, আরো অনেক পথ খোলা আছে।

বিজ্ঞাপন

অথবা পরবর্তী সময়েও আরো ভালোভাবে প্রস্তুতি নিয়ে এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার সুযোগ (বয়স থাকলে) আছে। বিসিএস প্রিলিতে ফেল করে পরেরবার অংশ নিয়ে ফার্স্ট চয়েসের ক্যাডার পেয়েছেন, এমন উদাহরণ বহু রয়েছে।

আজ নিজের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু পরামর্শ দেব, যা অনেক চাকরিপ্রার্থীরই কাজে আসবে। আমি বিসিএস ক্যাডার হওয়ার আগে ৩ বছর বেকার ছিলাম, পদে পদে অনেক হোঁচট খেয়েছি। সময়ের ব্যবধানে সব ভুলে পরে নতুন করে শুরু করেছি।

যাঁরা এই বিসিএসের প্রিলিতে খারাপ করেছেন, মন খারাপ হওয়াটা স্বাভাবিক হলেও ভেঙে পড়বেন না। চাকরির প্রস্তুতি পরিকল্পনা নতুন করে ঠিক করুন। সবচেয়ে বড় কথা, প্রিলিতে খারাপ করলেও অনেকেরই প্রিলির পড়া অনেকটাই সম্পন্ন করা আছে! বিসিএসের প্রিলির প্রস্তুতি দিয়ে সরকারি ব্যাংকের প্রিলিগুলোতেও টিকে যাওয়া সম্ভব। এ ছাড়া পরবর্তী সময়ে বিসিএসে অংশ নিলে তখন প্রিলির প্রস্তুতি নিতেও খুব একটা বেগ পেতে হবে না। তবে এবারের প্রস্তুতিতে যে ভুলগুলো ছিল, সেগুলো পরেরবার সংশোধন করে নিতে হবে।

৪৪তম বিসিএসের আবেদন প্রক্রিয়া চলমান আছে। এই প্রিলির তারিখ ঘোষণা দিলে অন্তত রিভাইস দিলেই অনেকাংশেই প্রস্তুতি হয়ে যাওয়ার কথা। অনেক ভালো প্রার্থীও হয়তো ফেল করেছেন অল্প নম্বরের জন্য বা কিছু ছোটখাটো ভুলের কারণে; যেমন—অজানা প্রশ্নের উত্তর দিতে গিয়ে নেগেটিভ মার্কস পেয়ে, যা এড়ানোর সুযোগ ছিল। যাঁদের প্রধান লক্ষ্য বিসিএস, কিন্তু ৪৩তম প্রিলিতে ফেল করেছেন, পরেরবার আবার অংশ নেবেন, তাঁরা আত্মবিশ্বাসী হলে চাইলে লিখিত পরীক্ষার আগাম প্রস্তুতির জন্য কোচিংয়েও ভর্তি হতে পারেন। তাহলে একই সঙ্গে পরবর্তী সময়ের প্রিলি ও লিখিত—দুটোরই প্রস্তুতি চলতে থাকবে। পরেরবার বিসিএসের (৪৪তম) প্রিলিতে পাস করলে অনেকটাই এগিয়ে থাকবেন, তা ছাড়া এই প্রস্তুতি দিয়ে অন্যান্য চাকরির পরীক্ষায়ও অংশ নিতে পারবেন। বিসিএসের বাইরেও সরকারি ব্যাংক, দুদক, এনএসআই, পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডসহ সব পরীক্ষায় ভাইভা দিতে চাইলে লিখিত পরীক্ষায় ভালো করতে হয়, যা বিসিএস লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি দিয়েই সেরে ফেলা যায়। সম্প্রতি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর বেশ কয়েকটি বড় ধরনের সমন্বিত নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। বয়স শেষের দিকে হলে, সরকারি চাকরির পাশাপাশি বেসরকারি চাকরির জন্য চেষ্টা করতে থাকুন।

অনেকে বিসিএস নিয়ে সিরিয়াস হতে গিয়ে অন্যান্য সুযোগ হাতছাড়া করেন। এই চাকরিটা না হলেও ভালো কোনো বিকল্প পেয়ে যাবেন হয়তো। এ রকম বহু দৃষ্টান্ত আছে। পরিচিতদের মধ্যে অনেকেই আছেন, যাঁরা বিসিএসে সফল হননি কিন্তু অন্য চাকরিতে ভালো অবস্থানে গিয়েছেন।



সাতদিনের সেরা