kalerkantho

শুক্রবার । ৭ মাঘ ১৪২৮। ২১ জানুয়ারি ২০২২। ১৭ জমাদিউস সানি ১৪৪৩

রবিউল আলম লুইপা : ৩৫তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা)

বিসিএস আবেদনে ১০ পরামর্শ

৪৪তম বিসিএসে বিভিন্ন ক্যাডারে নিয়োগ পাবেন ১৭১০ জন। অনলাইনে (bpsc.teletalk.com.bd) এই বিসিএসের আবেদন প্রক্রিয়া চলবে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত। ঠিকঠাক আবেদনের ক্ষেত্রে কিছু বিষয়ে লক্ষ রাখুন—

১৫ জানুয়ারি, ২০২২ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বিসিএস আবেদনে ১০ পরামর্শ

 

অভিজ্ঞ কারো সহযোগিতায় বা দরকারি তথ্য জেনে নিজেই আবেদন ফরম পূরণের চেষ্টা করুন। আর যদি কম্পিউটারের দোকান থেকে আবেদন করেন, তাহলে অবশ্যই সময় নিয়ে খেয়াল করে পূরণ করবেন এবং তথ্যগুলো বারবার যাচাই করে নেবেন। আবেদনের সময় করা কিছু ভুল পরে  সংশোধনের সুযোগ থাকলেও এটা আপনাকে মানসিকভাবে দুশ্চিন্তায় রাখবে, যা পরীক্ষায় খারাপ করার ব্যাপারে প্রভাব ফেলতে পারে।

 

প্রার্থীর নিজের নাম, বাবার নাম, মায়ের নাম, জন্ম তারিখ ইত্যাদি তথ্য এসএসসি সার্টিফিকেট অনুযায়ী পূরণ করবেন।

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লিখিত নির্ধারিত ক্যাডারের ওজন ও উচ্চতার আবশ্যিক শর্তের সঙ্গে আপনার ওজন-উচ্চতা না মিললে সেই ক্যাডার পছন্দক্রমে রাখা ঠিক হবে না। এতে আপনার অন্য ক্যাডারে যাওয়ার যতটা সুযোগ থাকবে, পরে সেটিও নষ্ট হবে!

 

 

যেসব বিসিএস প্রার্থী বর্তমানে অন্য কোনো চাকরিতে কর্মরত আছেন, তাঁরা এই চাকরির তথ্য আবেদনে দেবেন কি না, এ নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে থাকেন। বিজ্ঞপ্তির নির্দেশনা অনুযায়ী— প্রজাতন্ত্রের কর্মে চাকরিরত প্রার্থীদের অবশ্যই নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়ে আবেদন করতে হবে এবং মৌখিক পরীক্ষার আগে অনাপত্তিপত্র (বর্তমান কর্মস্থলের) জমা দিতে হবে। তথ্য গোপন করলে পুলিশ ভেরিফিকেশনের সময় এ নিয়ে সমস্যা হতে পারে।

 

 

 

যে এলাকারই ভোটার হোন বা এনআইডিতে যে ঠিকানাই উল্লেখ থাকুক, পূর্বপুরুষ বংশপরম্পরায় বসবাস করছে বা নিজস্ব ভূমি আছে—এমন ঠিকানাই ‘স্থায়ী ঠিকানা’ হিসেবে ব্যবহার করবেন। তাহলে এলাকায় আপনাকে সহজেই শনাক্ত করা যাবে এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনে জটিলতা থাকবে না। বর্তমান ঠিকানা যেকোনোটি হতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে বাবার ঠিকানা ব্যবহার করাই ভালো।

 

 

আবেদন ফরমে এনআইডি নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক নয়। তবে মৌখিক পরীক্ষার সময় জাতীয় পরিচয়পত্র দেখাতে হবে। বিসিএস আবেদন ফরমের ‘স্বাক্ষর’ অংশে নতুন স্বাক্ষর অথবা জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) স্বাক্ষরের অনুরূপ স্বাক্ষর দিতে পারবেন। আবেদনের সময় দেওয়া স্বাক্ষরই বিসিএস নিয়োগ প্রক্রিয়ার শেষ পর্যন্ত ব্যবহার করতে হবে।

 

 

ডিগ্রি বা সাবজেক্ট অপশনে আপনার ডিগ্রি বা বিষয়ের নাম আদার্স-এ গিয়ে লেখার চেয়ে অপশন থেকে সামঞ্জস্যপূর্ণ বিষয় নির্বাচন করতে পারলে ভালো হয়। যেমন—যিনি হিসাববিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগে পড়াশোনা করেছেন, তিনি বিষয়ের নাম ‘হিসাববিজ্ঞান’ নির্বাচন করবেন। এতে আবেদন ফরমে আপনার জন্য নির্দিষ্ট টেকনিক্যাল/প্রফেশনাল ক্যাডার দেখাবে।

 

 

ক্যাডার চয়েসের সময় নিজের পছন্দের সঙ্গে আপনার পছন্দের ক্যাডারের জন্য আপনি কতটা উপযুক্ত (ভাইভা বোর্ডে এ বিষয়ে খুব গুরুত্ব দেওয়া হয়), সেটাও চিন্তা করুন। পররাষ্ট্র ক্যাডারে পদসংখ্যা খুব কম। পছন্দ হলে এটি প্রথমেই দিতে পারেন। অর্থাত্ চয়েসে যেটা যেখানে রাখলে ভালো, সেটা সেই ক্রমেই রাখবেন। অফিশিয়ালি সব ক্যাডারের মর্যাদা সমান; কিন্তু কাজের ক্ষেত্র অনুযায়ী সুযোগ-সুবিধা ভিন্ন ভিন্ন।

 

 

সম্প্রতি তোলা ৩০০x৩০০ পিক্সেলের রঙিন ছবি (ছবির সাইজ ১০০ কিলোবাইটের বেশি হতে পারবে না) এবং ৩০০x৮০ পিক্সেলের স্বাক্ষর (স্বাক্ষরের সাইজ ৬০ কিলোবাইটের বেশি হতে পারবে না) ব্যবহার করুন। কম্পিউটারের উইন্ডোজে থাকা পেইন্ট ইট সফটওয়্যার ব্যবহার করে বা ইন্টারনেট থেকে ইমেজ রিসাইজ করে নিতে পারবেন।

 

 

৪৪তম বিসিএসে প্রথমবারের মতো প্রার্থী ক্যাডার না পেলে কোন গ্রেডের নন-ক্যাডার চাকরি পেতে আগ্রহী সেটি আবেদন ফরমেই উল্লেখ করতে হয়। আগে চূড়ান্ত ফলাফল বা সুপারিশের পরে এসংক্রান্ত ফরম পূরণ করতে হতো।

এখানে যাঁরা এরই মধ্যে সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক সুপারিশকৃত গ্রেড-১০-এর চাকরিতে কর্মরত আছেন, তাঁরা শুধু গ্রেড-৯ (প্রথম শ্রেণি) নির্বাচন করবেন। বেকার ও অন্য প্রার্থীরা বোথ (প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণি) নির্বাচন করতে পারবেন।

 

 

নির্ভুল আবেদনের জন্য চাইলে আবেদন ফরমটি প্রিন্ট করে হার্ডকপি কলম দিয়ে পূরণের পর এটি দেখে দেখে চূড়ান্তভাবে অনলাইনে ফরম পূরণ করতে পারেন। আবেদন ফি জমা দেওয়ার পর আপনার ইউজার আইডি ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে রাখুন। অ্যাডমিট কার্ড ডাউনলোডসহ বিসিএসের পুরো প্রক্রিয়ায়ই এর দরকার হবে।

 

 



সাতদিনের সেরা