kalerkantho

বুধবার । ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৮ ডিসেম্বর ২০২১। ৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৩

নমুনা ভাইভা

জেলারের চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে কেন?

মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক (জেনারেল), বাংলাদেশ ব্যাংক

২৮ আগস্ট, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জেলারের চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে কেন?

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর করেছি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক (জেনারেল) পদের এই ভাইভা ছিল আমার চাকরিজীবনের পঞ্চম ভাইভা। ভাইভা বোর্ডে ১০ মিনিটের মতো ছিলাম, সেখানে চেয়ারম্যানসহ চারজন ছিলেন। তখন আমি ডেপুটি জেলার পদে যোগ দিয়ে বনিয়াদি প্রশিক্ষণে ছিলাম। তাই মাথা ন্যাড়া ছিল। এ কারণে ভাইভা বোর্ডে কিছুটা অস্বস্তি বোধ হচ্ছিল

 

আমি : May I come in sir?

চেয়ারম্যান : Yes, come in. Sit down.

আমি : আসসালামু আলাইকুম। ধন্যবাদ স্যার।

চেয়ারম্যান : আপনার তো সব রেজাল্ট দেখছি ভালোই। কিন্তু মাস্টার্সে ২.৯৪ (সিজিপিএ) কেন?

আমি : স্যার, আমার মাস্টার্স পরীক্ষা আর ৩৬তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষা প্রায় একই সময়ে হওয়ায় আমি বিসিএস লিখিত নিয়ে কনসেন্ট্রেড করেছিলাম। তাই মাস্টার্সে রেজাল্ট খারাপ হয়েছে।

চেয়ারম্যান : বিসিএস! বিসিএস তো অনেক দিতে পারবেন; কিন্তু তাই বলে মাস্টার্স পরীক্ষা খারাপ করবেন?

আমি : স্যার, আমার ব্যক্তিগত ও পারিবারিক প্রয়োজনে দ্রুত একটি চাকরির প্রয়োজন ছিল। যে কারণে চাকরির পড়াটাই প্রায়রিটি দিয়েছিলাম।

চেয়ারম্যান : তো চাকরি পেয়েছ?

আমি : জি স্যার। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে ডেপুটি জেলার হিসেবে কর্মরত আছি। বর্তমানে কারা প্রশিক্ষণ একাডেমিতে বনিয়াদি প্রশিক্ষণ চলছে।

চেয়ারম্যান ও অন্যান্য : ইন্টারেস্টিং! আপনি তো জেলার সাহেব? কবে জয়েন করেছেন?

আমি : ৪ নভেম্বর ২০১৮।

চেয়ারম্যান : কুমিল্লা কারাগার কবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে?

আমি : ১৭৯২ সালে।

চেয়ারম্যান : প্যারোল কী?

আমি : কয়েদি বা হাজতি আসামিকে শর্তাধীনে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য মুক্তি প্রদান করাকে প্যারোলে মুক্তি বলে। প্যারোলে জামিন বা মুক্তি দেওয়া হয় খুবই সাময়িক সময়ের জন্য। আসামিকে পুলিশের হেফাজতে যেতে দেওয়া হয় এবং উদ্দেশ্য শেষ হলে ওই পুলিশ প্রহরায় আবার তাকে জেলে পাঠানো হয়। ফৌজদারি কার্যবিধিতে প্যারোলে জামিন বলে কোনো কথা উল্লেখ নেই। অন্তর্বর্তীকালীন জামিন হিসেবে ধারা ৪৯৮-এর ব্যাখ্যায় প্যারোলে মুক্তির বিধান নিহিত আছে। যেমন—কোনো আসামির পিতা, মাতা বা কোনো নিকটাত্মীয় মারা গেলে তাকে জানাজায় অংশগ্রহণের জন্য প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

চেয়ারম্যান : কারাগার কত প্রকার?

আমি : তিন প্রকার।

চেয়ারম্যান : খালেদা জিয়া কোথায় আছেন?

আমি : বিশেষ কারাগার।

চেয়ারম্যান : কারাগার কোন মন্ত্রণালয়ে?

আমি : স্বরাষ্ট্র।

চেয়ারম্যান : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কয়টা বিভাগ?

আমি : স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দুটি বিভাগ—জননিরাপত্তা ও সেবা সুরক্ষা বিভাগ। কারাগার সেবা সুরক্ষা বিভাগের অধীন।

চেয়ারম্যান : জেলারের চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে কেন আসবেন?

আমি : প্রথমত বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়ার্কিং এনভায়রনমেন্ট খুব ভালো। সহকারী পরিচালক থেকে নির্বাহী পরিচালক পর্যন্ত হওয়ার সুযোগ পাওয়া যাবে। বৈধ আর্থিক সুবিধা বাংলাদেশ ব্যাংকে অনেক ভালো। এ ছাড়া পোস্টিং বিভাগীয় শহরে। ১০-৬টা অফিস। কিন্তু জেলার পদের দায়িত্বে ২৪ ঘণ্টাই ওয়ার্কিং স্টেশনে অবস্থান করতে হয়। প্রমোশন খুব ধীর, একটা পর্যায়ে প্রমোশন ব্লক।

(এমন আরো কয়েকটা প্রশ্ন ছিল। ভাইভায় মোটামুটি ভালোই জমিয়ে ফেলেছিলাম)

চেয়ারম্যান : আপনার সাবজেক্ট তো দেখছি জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং? (বিষয়সংশ্লিষ্ট চার-পাঁচটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। আমিও মোটামুটি সব প্রশ্নের উত্তর করেছিলাম। তবে একটি প্রশ্নের জবাবে একজন স্যার বলেন—উত্তর হয়েছে, তবে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের জেনেটিকের স্টুডেন্টের মতো হয়নি।)

এক্সটার্নাল-১ : Fiscal Policy আর Monetary Policy কে করে?

আমি : সম্ভবত এখানে গুলিয়ে ফেলেছিলাম। (ফিসক্যাল পলিসি অর্থ মন্ত্রণালয় আর মনিটরি পলিসি বাংলাদেশ ব্যাংক প্রণয়ন করে)

এক্সটার্নাল-১ : অর্থ মন্ত্রণালয়ের কয়টা বিভাগ?

আমি : অর্থ মন্ত্রণালয়ের চারটি বিভাগ।

এক্সটার্নাল-২ : বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ কী?

আমি : নোট ইস্যু করা, মুদ্রানীতি প্রণয়ন, মুদ্রাবাজার নিয়ন্ত্রণ, ঋণের শেষ আশ্রয়স্থল বা ঋণ নিয়ন্ত্রণ করে। নিকাশঘর হিসেবে কাজ করে। সরকারের ব্যাংক হিসেবে তহবিল ও সম্পদ সংরক্ষণ, আর্থিক লেনদেন সম্পাদন, ব্যাংক ও আর্থিক সংস্থার সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখে এবং সরকারের আর্থিক নীতিমালা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করে। এ ছাড়া বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ সংরক্ষণ, ব্যাংক তালিকাভুক্তিকরণ, স্বর্ণমান সংরক্ষণসহ বিভিন্ন ধরনের কাজ করে থাকে।

চেয়ারম্যান : টাঁকশাল কী এবং এটা কোথায়?

আমি : টাঁকশাল হলো টাকা উৎপাদন (তৈরি) ও প্রবর্তনকেন্দ্র বা কারখানা। এটি গাজীপুরে।

এক্সটার্নাল-৩ : বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নাম কী?

আমি : ফজলে কবির! (‘নামের আগে কি জনাব বলা যেত না’ বলে একজন স্যার মন্তব্য করেন)।

এক্সটার্নাল-২ : পুরনো ছেঁড়া ও বাতিল নোট কী করা হয়?

(এ প্রশ্নের উত্তর যথাযথ দিতে পারিনি। সঠিক উত্তর হবে—পুরনো ছেঁড়া ও বাতিল নোট বাংলাদেশ ব্যাংক পুড়িয়ে ধ্বংস করে।)

চেয়ারম্যান : ওকে ছেড়ে দেন।

আমি : ধন্যবাদ স্যার, আসসালামু আলাইকুম।

    

     শ্রুতলিখন : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন



সাতদিনের সেরা