kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ আশ্বিন ১৪২৮। ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২১। ১৫ সফর ১৪৪৩

যেভাবে চাকরি পেলাম

জীবনের প্রথম নিয়োগ পরীক্ষায়ই চাকরি পেয়েছি

মো. রাসেল আহমেদ, অফিসার (ক্যাশ), সোনালী ব্যাংক লিমিটেড।

৩১ জুলাই, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



জীবনের প্রথম নিয়োগ পরীক্ষায়ই চাকরি পেয়েছি

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বিবিএ-এমবিএ করেছি। বিবিএ পড়াশোনার শেষের দিকে এসে চাকরির প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। প্রস্তুতি শুরু বা বই কেনার আগে প্রথমেই ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষা পদ্ধতি ও সিলেবাস সম্পর্কে জেনে নিয়েছি। ব্যাংকের পরীক্ষার ধাপ তিনটি (প্রিলিমিনারি/এমসিকিউ-১০০, লিখিত-২০০ ও ভাইভা)। প্রস্তুতির শুরুতে ব্যাংক জবের বইসহ বিষয়ভিত্তিক (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও কম্পিউটার) কয়েকটি বই ও প্রশ্ন ব্যাংক সংগ্রহ করি। এরপর প্রথমেই ধরি বিগত পরীক্ষার প্রশ্নসংবলিত প্রশ্ন ব্যাংক (বই)। একই সঙ্গে জব সলিউশন ও অন্যান্য বইও পড়তে থাকি। দিনে ছয় ঘণ্টার বেশি পড়া হয়নি।

বাংলার প্রস্তুতির জন্য নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ব্যাকরণ বইটিই ছিল যথেষ্ট। তবে বিষয়ভিত্তিক বাংলা বইও বাদ যায়নি। বিখ্যাত লেখকদের সব অধ্যায়ই ছিল আমার নখদর্পণে। বিগত বছরগুলোর প্রশ্ন দেখেই ধারণা পেয়েছি, কোন কোন লেখকের অধ্যায় গুরুত্বপূর্ণ, কোনগুলো থেকে কমবেশি প্রশ্ন আসে। আর প্রতিটি অধ্যায়ের পেছনে যে প্রশ্নগুলো দেওয়া থাকে, সব কটিই পড়েছি, মুখস্থ করার মতো করে পড়া।

ব্যাকরণ অংশের আলোচনা ও প্রশ্নগুলোর ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিয়েছি। কারণ এসব জায়গা থেকে পরীক্ষায় প্রশ্ন থাকার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

ব্যাকরণ অংশের জন্য বোর্ডের বইটিকেই বেশি প্রাধান্য দিয়েছি। বাংলার জন্য বিষয়ভিত্তিক দুটি প্রকাশনীর বই কিনেছিলাম। একটি বই শেষ করে আরেকটি পড়তাম। আমার মতে, একই বিষয়ের বই দুটি থাকলে পড়তে বিরক্তি লাগে না আবার রিভিশনও হয়ে যায়!

ইংরেজির প্রস্তুতির জন্য বাজারের প্রচলিত বইয়ের পাশাপাশি CLIFF’S TOEFL বইটিও অনুশীলন করি। ইংরেজি গ্রামারের বই থেকে শুধু গ্রামারের অংশ পড়লেই হবে, লিটারেচার অংশ না পড়লেও চলে। কারণ ব্যাংকে লিটারেচার তেমন আসে না। প্রতিটি Grammar অধ্যায়ের শেষে বিগত বছরের প্রশ্ন দেওয়া থাকে, সেগুলোর অনুশীলনে গুরুত্ব দিয়েছি। CLIFF’S TOEFL বইটির পুরোটা পড়ার দরকার হয় না। Grammar Review থেকে Mini Test 6 পর্যন্ত পড়লেই চলে। ভোকাবুলারির জন্য দুটি বই দেখেছি—ব্যাংক ভোকাবুলারি ও Word Smart। বাস্তবক্ষেত্রে প্রয়োগ করতে পারলে ভোকাবুলারি মনে রাখা খুব সহজ হয়ে যায়। এমন কিছু বন্ধু তৈরি করেছিলাম, যাদের সঙ্গে প্রায়ই ইংরেজিতে কথা বলা যেত। কথোপকথনে নতুন নতুন ভোকাবুলারি প্রয়োগ করতাম।

গণিতের প্রস্তুতিতে সপ্তম-দশম শ্রেণির বোর্ড বইয়ের অঙ্কগুলো অনুশীলন করি। এর সঙ্গে ছিল গণিতের প্রস্তুতিমূলক দুটি বই। Quantitative Aptitude by Dr. R S Agarwal বই থেকে নির্বাচিত কয়েকটি অধ্যায়ের অঙ্ক অনুশীলন করেছি।

সাধারণ জ্ঞানের প্রস্তুতি নিয়েছি বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির বই থেকে। বইয়ের ‘বাংলাদেশ’ অংশে প্রাচীনকাল থেকে ১৯৭১ সাল পর্যন্ত সব কিছুই পড়ার চেষ্টা করেছি। আন্তর্জাতিক অংশে বাদ দেওয়ার কিছু নেই।

ব্যাংকের প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় সাম্প্রতিক বিষয় থেকে ভালোই প্রশ্ন আসে। 

কম্পিউটারের প্রস্তুতিতে বইয়ের পেছনে দেওয়া বিগত প্রশ্নগুলো খুব ভালো করে পড়েছি। মোবাইল, কম্পিউটার আর প্রযুক্তি সম্পর্কে বেসিক ধারণা থাকলে অনেক প্রশ্নের উত্তর এমনিতেই দেওয়া যায়!

লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিত দিয়ে ২০০ নম্বরের প্রশ্ন সাজানো থাকে। বিবিএ-এমবিএ ইংলিশ ভার্সনে পড়ার কারণে ইংরেজিতে ভালো দক্ষতা ছিল। বিবিএ পড়ার সময় প্রচুর ইংরেজি সিনেমা দেখতাম, যা আমার ইংরেজি দক্ষতা বাড়াতে ম্যাজিকের মতো কাজ করেছে। তাই ইংরেজি Passage, Translation, Focus Writing নিয়ে বেগ পেতে হয়নি। কিছু গুরুত্বপূর্ণ Focus Writing-এর তথ্য কিছু ফেসবুক গ্রুপ থেকে সংগ্রহ করে পরে নিজের মতো করে লিখেছি।

গণিত আসে পাঁচ থেকে সাতটির মতো প্রশ্ন। প্রিলিমিনারি প্রস্তুতির সময় যখন বোর্ড বই, ব্যাংক জবের গণিত বই, Agarwal Math থেকে অঙ্ক করি, তখনই মোটামুটি লিখিত প্রস্তুতি হয়ে যায়। লিখিত পরীক্ষার আগে সেগুলো আবার একটু দেখে নিলাম। পাশাপাশি আগের বছরের প্রশ্নগুলোও সমাধান করেছি।

গণিতে কিছুটা দুর্বলতা থাকায় গণিতের উত্তর শেষ দিকে দিয়েছিলাম। ইংরেজি ও বাংলা ফোকাস রাইটিংয়ে টপিকের সঙ্গে মিলিয়ে বিভিন্ন উক্তি দিতে পারলে ভালো হয়।

জীবনের প্রথম ব্যাংকের নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিয়ে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষায় পাস করে ভাইভার ডাক পেয়েছি। ভাইভা দেওয়ার আগে নিজের দুর্বল ও শক্ত দিক বিশ্লেষণের পাশাপাশি সম্ভাব্য সব প্রশ্নের কথা মাথায় রেখেছি। নিজের এলাকা, বিশ্ববিদ্যালয়ে আমার পঠিত বিষয়, ব্যাংকসংশ্লিষ্ট বিষয়াদি, চলতি ঘটনা (ওই সময় জাতীয় বাজেট ঘোষণা হয়েছিল, এ ব্যাপারে ভাইভায় বেশ কিছু প্রশ্নও করা হয়), বাংলাদেশের ইতিহাস, বিশ্বব্যাংক ইত্যাদি বিষয়বস্তুর ওপর আগে থেকেই প্রস্তুত ছিলাম। আমার এমবিএ থিসিস থেকেও প্রশ্ন করা হয়েছিল।

শ্রুতলিখন : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন



সাতদিনের সেরা