kalerkantho

রবিবার । ১৭ শ্রাবণ ১৪২৮। ১ আগস্ট ২০২১। ২১ জিলহজ ১৪৪২

যেভাবে চাকরি পেলাম

অবশেষে চাকরি পেলাম গুগলে

সাদ মুহাম্মদ জুনায়েদ, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, গুগল

১২ জুন, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অবশেষে চাকরি পেলাম গুগলে

মনিপুর হাই স্কুল থেকে গোল্ডেন এ-প্লাস পেয়ে এসএসসি পাস করি ২০১২ সালে। এরপর নটর ডেম কলেজে ভর্তি হতে চেয়েছিলাম। ওখানে ভর্তির সুযোগ না পাওয়াটা ছিল জীবনের প্রথম ধাক্কা! শেষমেশ ভর্তি হই মনিপুর কলেজে। তখন থেকেই মনে মনে ভালো কিছু করার জেদ।

২০১৪ সালে এইচএসসি পাস করার পর যেখানেই ভর্তি পরীক্ষা দিয়েছি, সেখানেই টিকেছি। বুয়েটে মেধাতালিকায় ৭২তম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ২৬তম, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৫তম আর এমআইএসটিতে ১৯তম হয়েছিলাম। এরপর বুয়েটে কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশলে (সিএসই) ভর্তি হই।

ভর্তির পর প্রগ্রামিং নিয়ে ঘাঁটাঘাঁটি শুরু করি। শুরুটা হয়েছিল একজন লেখকের বাংলা প্রগ্রামিংয়ের বই দিয়ে। বুয়েটে সব সময় একটা কনটেস্ট প্রগ্রামিংয়ের ধারা ছিল। প্রথম থেকেই প্রগ্রামিং কনটেস্টের নেশায় পড়ে যাই। তবে বেশি কঠিন এলগরিদম বা ডাটা স্ট্রাকচার রিলেটেড প্রবলেম সলভিং প্রাথমিক অবস্থায় এড়িয়ে যেতাম। নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আত্মবিশ্বাসী হওয়ার পেছনে দুজন স্যার ভূমিকা রেখেছেন। এর পর থেকে বিভিন্ন কনটেস্টে সফলতা আসতে থাকে। ২০১৯ সালে রানার্স আপ হয়ে আমাদের কনটেস্ট লাইফ শেষ হয়।

২০২০ সাল থেকে শুরু করি চাকরির প্রস্তুতি। করোনার কারণে কোনো জায়গা থেকে ডাক পাচ্ছিলাম না। প্রথম চাকরির ভাইভার ডাক পাই সিঙ্গাপুরের ওয়ার্ক অ্যাপ্লিকেশন থেকে। নিজের কোডিং স্কিলের কারণে এই চাকরি পাওয়ার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী ছিলাম; কিন্তু ইন্টারভিউতে সিস্টেম ডিজাইন নলেজ ও কমিউনিকেশন স্কিলে ধরা খেয়ে যাই! চাকরিটা মিস হলো। এরপর আরো অনেক জায়গায় আবেদন করি। পাশাপাশি ডিজাইন প্যাটার্ন, নেটওয়ার্কিং, ডাটাবেইস ও অপারেটিং সিস্টেম নিয়ে পড়াশোনা করি। এর সঙ্গে কমিউনিকেশন স্কিল বাড়ানোরও চেষ্টা করি। বন্ধুদের সঙ্গে অনেক মক ইন্টারভিউ বা নমুনা সাক্ষাৎকার দিই।

করোনা পরিস্থিতি ও অল্প অভিজ্ঞতার কারণে মাইক্রোসফট, ফেসবুক, বুকিং, ব্লুমবার্গের মতো জায়ান্ট কম্পানিগুলো আমাকে ‘না’ করে দেয়। এর কিছুদিন পরই ডাক পাই সিঙ্গাপুরের বাইটড্যান্স থেকে। ইন্টারভিউটা খুব ভালো হয়। তারা ভালো অফার করে। কিন্তু পরে দেখলাম, এটি ফ্রেশার বা নতুন গ্র্যাজুয়েটদের পদ। তাই প্রফেশনাল পদ বাছাই করে আবার আবেদন করি। কিন্তু এইবারের পারফরম্যান্স আগেরবারের মতো টপ লেভেলে ছিল না, তাই বাদ পড়ে যাই। এদিকে অ্যামাজনেও (স্কটল্যান্ড) ইন্টারভিউ দিই, চাকরি হয়নি।

সাউথ ইস্ট এশিয়ায় টপ ই-কমার্স সাইট শপিতে ইন্টারভিউ দিয়ে এন্টিফ্রড টিমে ডাক পাই। ওখানে চাকরির অফারটা বেশ ভালো ছিল। ফ্লাইটও বুকিং দিয়ে ফেলেছিলাম। কিন্তু হঠাৎ করে করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় সিঙ্গাপুরে প্রবেশ বন্ধ করে দেওয়া হয়। আর যেতে পারলাম না।

সবশেষে ইন্টারভিউ দিই গুগলে। গুগলে বাছাই প্রক্রিয়া বেশ জটিল ও সময়সাপেক্ষ। চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে প্রাথমিক ইন্টারভিউ দেওয়ার জন্য ডাক আসে। প্রাথমিক ইন্টারভিউতে বর্তমান চাকরির অবস্থা, গুগলে কেন চাকরি করতে চাই—এসব তারা জানতে চেয়েছে। এর পরের ধাপের অনলাইন ইন্টারভিউটা ছিল ৪৫ মিনিটের। এই ইন্টারভিউতে আমাকে কোডিং সমস্যার সমাধান করতে হয়েছিল। এর পরের সপ্তাহে অনসাইটে যাওয়ার সুযোগ পাই, যা মূলত পাঁচটি ইন্টারভিউয়ের কম্বিনেশন। যেখানে চারটি কোডিং ও একটি বিহেভিয়র সম্পর্কিত ইন্টারভিউ হয়। আমার আগের ইন্টারভিউর অভিজ্ঞতাগুলো অনেক কাজে দিয়েছিল। ঈদের পর গুগল থেকে চাকরির অফার পেয়ে যাই।

বিশ্বের বড় বড় টেক জায়ান্টে চাকরিতে আগ্রহীদের উদ্দেশে বলব, বেশি বেশি প্রবলেম সলভিং, কোডিং ও ইংরেজি কমিউনিকেশন দক্ষতা অর্জন করতে হবে। নিয়মিত কোডিং অনুশীলনের পাশাপাশি যত বেশি সম্ভব বিভিন্ন প্রগ্রামিং কনটেস্টে অংশ নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে।

অনুলিখন : জুবায়ের আহম্মেদ



সাতদিনের সেরা