kalerkantho

শনিবার । ৫ আষাঢ় ১৪২৮। ১৯ জুন ২০২১। ৭ জিলকদ ১৪৪২

যেভাবে চাকরি পেলাম

‘কম বই, বেশি পড়া’ নীতি ফলো করেছি

৩৮তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডার হয়েছেন মো. জান্নাতুল নাইম। তাঁর চাকরি পাওয়ার গল্প শুনেছেন মুজাহিদ উদ্দীন

৮ মে, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘কম বই, বেশি পড়া’ নীতি ফলো করেছি

এইচএসসির পর ভর্তি হই জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগে বিবিএ প্রগ্রামে। এখান থেকেই এমবিএ করি। ২০১৩ সালে এমবিএ শেষ করলেও চাকরির প্রস্তুতি নিতে শুরু করি ২০১৬ সালে।

২০ দিনের প্রস্তুতি নিয়ে ৩৭তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় অংশ নিই। এই পরীক্ষার নন-ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছিলাম। পরে ৩৮তম বিসিএসের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম বেশ সময় নিয়ে।

৩৭তম বিসিএস লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় যে ভুলগুলো করেছি, ৩৮তম বিসিএসে সেগুলো সংশোধনের চেষ্টা করেছি।

 

প্রিলিমিনারির প্রস্তুতিতে মুখস্থ করার চেয়ে বেশি বেশি অনুশীলনে গুরুত্ব দিয়েছি। তা ছাড়া বাসায় নমুনা প্রশ্ন দেখে টেস্ট দেওয়ার কারণে প্রিলি পরীক্ষার হলে বুঝেশুনে উত্তর দিতে পেরেছি।

প্রস্তুতির শুরুতে বিগত বিসিএসের প্রশ্নগুলো ব্যাখ্যাসহ পড়েছি। এর ফলে দুটি উপকার হয়েছে। প্রথমত, কোন কোন বিষয়বস্তু ভালোভাবে পড়তে হবে, সেগুলো সহজেই বাছাই করতে পেরেছি। একটি খাতায় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বস্তু ও অধ্যায়ের নাম লিখে নিয়ে সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পড়ার চেষ্টা করেছি।

ফলে গোটা বই পড়ে সময় নষ্ট করতে হয়নি। দ্বিতীয়ত, পরীক্ষায় বিগত বছরের অনেক প্রশ্নই রিপিট হয়, চর্চা থাকায় এগুলো নির্ভুলভাবে উত্তর করা যায়।

‘বেশি বেশি বই, কম কম পড়া’র চেয়ে ‘কম কম বই, বেশি বেশি পড়া’ নীতি অনুসরণ করেছি। প্রথমে এক সেট বই কিনেছি। এরপর বারবার বইগুলো রিভাইস দিতাম। যে তথ্যগুলো ভুলে যেতাম সেগুলো মার্ক করে রাখতাম। পরে রিভিশন দেওয়ার সময় শুধু মার্ক করা অংশটুকুই পড়তাম। ফলে রিভিশন দ্রুত দিতে পারতাম। নির্ধারিত বইয়ের বাইরের কোনো সূত্র থেকে দরকারি কোনো তথ্য-উপাত্ত পেলে সেগুলো বইয়ের এ সম্পর্কিত অধ্যায়ে লিখে রাখতাম।

অর্থনৈতিক সমীক্ষা ও গুরুত্বপূর্ণ সাম্প্রতিক তথ্যাবলি নোট করে পড়ার চেষ্টা করেছি; এগুলো লিখিত পরীক্ষায়ও কাজে লেগেছে।

কিছু কিছু বিষয়ের ওপর প্রিলিতে এমনভাবে প্রস্তুতি নিয়েছি, যাতে লিখিত পরীক্ষায়ও সেগুলোতে ভালো করা যায়। এই পদ্ধতি অনুসরণ করে বেশ উপকার পেয়েছি। কোচিং সেন্টারে ইংরেজি, গণিতের ক্লাস নিতাম, তাই এগুলোর পেছনে বেশি সময় দিতে হয়নি। তবে জিআরইয়ের বাছাই করা ভোকাবুলারি ও ভোকাবুলারি বই থেকে নিয়মিত চর্চা করেছি। চর্চার ক্ষেত্রে ‘মনোলগ’ (নিজের সঙ্গেই কথা বলা) পদ্ধতি খুব কার্যকর। পড়া ও রিভিশনের ক্ষেত্রে আমি ম্যারাথন অ্যাপ্রোচ (কোনো বিষয় পড়া শুরু করলে শেষ করে ওঠা) ফলো করেছি।

ইংরেজি খবর ও নিবন্ধ পড়ার অভ্যাস থাকার কারণে ভোকাবুলারি, বাক্য গঠন, ট্রান্সলেশন ইত্যাদি নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা করতে হয়নি।

 

৩৮তম বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় ইংরেজি প্রশ্নের প্যাসেজ অংশটি খুব জটিল ছিল, যা অনেকেই ঠিকঠাক লিখতে পারেননি। তবে যাঁরা নিয়মিত ইংরেজি পত্রিকা পড়েছেন, তাঁদের জন্য প্যাসেজটির উত্তর করা কঠিন হয়নি।

 

লিখিত পরীক্ষায় প্রতিটি প্রশ্নোত্তরের জন্য সময় ব্যবস্থাপনা কেমন হবে, তা পরীক্ষার আগেই ঠিক করে রেখেছিলাম। ভাইভার উত্তরে সুন্দর উপস্থাপন ও ইতিবাচক মনোভাব প্রকাশের জন্য প্রস্তুত ছিলাম। ৩৮তম বিসিএসের সব পরীক্ষায় ভালো করে শেষতক অ্যাডমিন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হলাম।



সাতদিনের সেরা