kalerkantho

বুধবার । ১ বৈশাখ ১৪২৮। ১৪ এপ্রিল ২০২১। ১ রমজান ১৪৪২

জাহাজে চাকরির হাতছানি

মো. আরিফুল ইসলাম, চিফ ইঞ্জিনিয়ার, ভ্যানগার্ড মেরিটাইম লিমিটেড

২৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২১ ০০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জাহাজে চাকরির হাতছানি

♦ বাছাই পরীক্ষার প্রস্তুতি : মেরিন একাডেমির বাছাই পরীক্ষার প্রশ্ন খুব বেশি কঠিন হয় না। নির্দিষ্ট সিলেবাস না থাকলেও প্রস্তুতির জন্য সংশ্লিষ্ট বিষয়ের উচ্চ মাধ্যমিক ও মাধ্যমিক বইয়ের বেসিক ও গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো জানা থাকতে হবে। বিগত বছরের প্রশ্নপত্র দেখলে প্রশ্নের ধরন ও পদ্ধতি সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে। মেরিন একাডেমির ওয়েবসাইটে (https://macademy.gov.bd/admission-application) ৫০ থেকে ৫৫ ব্যাচের অর্থাৎ ২০১৩ থেকে ২০১৮ সালের বাছাই পরীক্ষার প্রশ্ন পাওয়া যাবে।

সাধারণ জ্ঞানে ভালো করতে দরকারি তথ্য সম্পর্কে আপডেট থাকার পাশাপাশি নিয়মিত পত্রিকা পড়বেন। গত চার-পাঁচ মাসের চাকরির নিয়োগ প্রস্তুতিবিষয়ক মাসিক পত্রিকাও সংগ্রহ করে পড়তে পারেন। অনেকে এই পরীক্ষার জন্য কোচিং সেন্টারমুখী হন। এমনটি না করে বাসায় নিজে নিজে ঠিকঠাক প্রস্তুতি নিলেও পরীক্ষায় ভালো করা যায়।

 

♦ কোর্স ও চাকরির ধাপ : মেরিন একাডেমি বা মেরিটাইম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে স্নাতক পর্যায়ে দুটি বিভাগ আছে। একটি মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং অন্যটি নটিক্যাল সায়েন্স।

মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং/নটিক্যাল সায়েন্স কোর্সে দুই বছর পড়াশোনা করে জাহাজের ইঞ্জিন/ডেক বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার/অফিসার হওয়া যাবে। এ ক্ষেত্রে প্রথমে শিক্ষানবিশ ইঞ্জিন ক্যাডেট/ডেক ক্যাডেট হিসেবে যোগ দিয়ে এক বছর ‘সি টাইম’ অতিবাহিত করতে হবে। এরপর দেশে কিংবা বিদেশে (সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, অস্ট্রেলিয়া ইত্যাদি) ‘সিওসি (সার্টিফিকেট অব কম্পটেন্সি) ক্লাস থ্রি’ পরীক্ষা দিয়ে পাস করে জাহাজে ফোর্থ ইঞ্জিনিয়ার (মেরিন)/থার্ড অফিসার (নটিক্যাল) হিসেবে চাকরি করা যাবে। এ ছাড়া মেরিন একাডেমিতে পড়াশোনা করলে এক বছর জাহাজের প্রশিক্ষণ শেষে আবার মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে এক বছর মেয়াদি বা সপ্তম ও অষ্টম সেমিস্টার সম্পন্ন করে বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সনদ অর্জন করা যাবে। জাহাজে ইঞ্জিন ও ডেক বিভাগের সবচেয়ে বড় পদ যথাক্রমে চিফ ইঞ্জিনিয়ার ও ক্যাপ্টেন (মাস্টার)।

 

♦  বিকল্প চাকরি ও মূল্যায়ন : মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং কিংবা নটিক্যাল সায়েন্সে পড়াশোনা করে জাহাজে চাকরি ছাড়াও দেশে পাওয়ার প্ল্যান্ট ও শিল্প-কলকারখানায় উচ্চ পদে চাকরি পাওয়া যায়। তবে এ ক্ষেত্রে অন্তত মাস কয়েক জাহাজে কাজের অভিজ্ঞতা থাকলে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে। এ ছাড়া বিএসসি ইন ইঞ্জিনিয়ারিং সনদধারীরা অন্য যেকোনো সরকারি-বেসরকারি চাকরির জন্যও আবেদন করতে পারবেন। টেকনিক্যাল ও ইঞ্জিনিয়ারিং চাকরিতে সার্টিফিকেটের পাশাপাশি কাজের অভিজ্ঞতা গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হয়।

 

♦ বেতনসীমা ও অসুবিধা : চাকরির শুরুতে একজন ইঞ্জিন ক্যাডেট বা ডেক ক্যাডেট দেশি জাহাজে ৩০০ মার্কিন ডলার এবং বিদেশি জাহাজে ২৫০ থেকে ৩০০ মার্কিন ডলার বেতন পান। চাকরির শুরুতে নবীন মেরিন ইঞ্জিনিয়ারদের বেশ কিছু অসুবিধার মুখোমুখি হতে হয়। কোর্স শেষ করে প্রথম দিকে (অভিজ্ঞতা না থাকায়) চাকরি পেতে কিছুটা সমস্যা হয়। জাহাজ মালিক কিংবা মেরিন এজেন্সির মালিকদের অধীনে কম বেতনে চাকরি করতে হয়। বিদেশি জাহাজে চাকরি হয়েছে কিন্তু ভিসা হয়নি, এমনও অনেক উদাহরণ আছে।

মন্তব্য