kalerkantho

শনিবার । ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৭। ২৮ নভেম্বর ২০২০। ১২ রবিউস সানি ১৪৪২

যেভাবে চাকরি পেলাম

নিয়োগ পরীক্ষার আগে হ্যান্ডনোট কাজে দিয়েছিল

মো. মাসুদুর রহমান সজীব, সহকারী পরিচালক (ব্যাচ-২০১৮), বাংলাদেশ ব্যাংক

২৪ অক্টোবর, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



নিয়োগ পরীক্ষার আগে হ্যান্ডনোট কাজে দিয়েছিল

২০০১ সালে ষষ্ঠ শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায় তিন বিষয়ে অকৃতকার্য হয়েছিলাম। স্কুলজীবনে সব বিষয়ে প্রথমবারের মতো পাস করি অষ্টম শ্রেণির বার্ষিক পরীক্ষায়। সেই আমি ২০০৫ সালে কুমিল্লার হোমনার রামকৃষ্ণপুর কেকেআরকে হাই স্কুল থেকে এসএসসি পরীক্ষায় ব্যবসায় শিক্ষা শাখা থেকে ৪.৮৮ এবং ২০০৭ সালে রামকৃষ্ণপুর কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় ৪.৯০ পাই।

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে বিবিএ প্রগ্রামে (অ্যাকাউন্টিং অ্যান্ড ইনফরমেশন সিস্টেমস) ভর্তি হই ২০০৭-০৮ শিক্ষাবর্ষে। টিউশনি ও কোচিংয়ে ক্লাস নিতে গিয়ে প্রথম দিকে আমার একাডেমিক ফলাফল খারাপ হতে থাকে। পরে পড়াশোনায় বাড়তি মনোযোগ দিই। বিবিএ প্রগ্রামের পরীক্ষা শেষে ইন্টার্নশিপ করার সময় চাকরির প্রস্তুতি নিতে থাকি। চাকরির প্রস্তুতির জন্য একটি সাধারণ জ্ঞানের বই, ব্যাংক নিয়োগ গাইড ও আইবিএ ভর্তির গাইড কিনে পুরোদমে পড়া শুরু করি। পাশাপাশি ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন সম্পর্কে ধারণা নেওয়ার জন্য বিগত বছরের প্রশ্নসংবলিত দুটি বই কিনে সমাধান করতে থাকি। চাকরির প্রস্তুতি ও সাধারণ জ্ঞানমূলক মাসিক পত্রিকা পড়ার অভ্যাসটা আগে থেকেই ছিল। জানতাম, চাকরি পেতে হলে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। এমবিএ করার পর পড়াশোনায় আরো মনোযোগী হই। তাই বাংলা, ইংরেজি ও গণিতের জন্য আরো কিছু বই সংগ্রহ করি। ভালো প্রস্তুতির জন্য Manhattan GMAT এবং QUANTITIVE APTITUDE by R. S. Aggarwal বই দুটির গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়গুলো পড়েছিলাম। একই সঙ্গে indiabix.com ও examveda.com ওয়েবসাইট থেকে অনুশীলন করতাম। বাসায় পড়তাম, বাইরে গেলে মোবাইল ফোনে ভোকাবুলারি পড়তাম। প্রচুর গুগল সার্চ করতাম, পরীক্ষায় আসে এ রকম দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানার জন্য তাদের ওয়েবসাইট ভিজিট করতাম। ইংরেজি, বাংলা ও আইটির জন্য আলাদা হ্যান্ডনোট করেছিলাম। সময় পেলেই হ্যান্ডনোটগুলোতে চোখ বোলাতাম। প্রতিটি পরীক্ষার আগে দ্রুত রিভিশন দেওয়ার জন্য হ্যান্ডনোটগুলো কাজে দিয়েছিল। একটি বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংকে ট্রেইনি অফিসার পদে প্রথম চাকরি পেয়ে যাই। তার পরও প্রস্তুতি যথারীতি চালিয়ে যাই। কিছুদিন পর দেশের প্রথম সারির তিনটি বেসরকারি ব্যাংকে এমটিও পদে চাকরি হয়। আমার পছন্দের একটি ব্যাংকে ২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে যোগদান করি। এসব ব্যাংকে কাজ করতে গিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থা কেন্দ্রীয় ব্যাংক (বাংলাদেশ ব্যাংক) সম্পর্কে আরো বেশি জানতে পারি। নিজের অজান্তেই সেখানে চাকরি পাওয়ার স্বপ্ন উঁকি দিতে শুরু করে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সহকারী পরিচালক পদে আবেদন করি। ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রিলিমিনারি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হই। আমার আত্মবিশ্বাস বেড়ে গেল, মনে হলো পারব!

লিখিত পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি ও গণিত অংশ থেকে প্রশ্ন আসে। তবে পরীক্ষায় মূলত প্রতিদ্বন্দ্বিতা হয় গণিত অংশে পাওয়া নম্বরের হেরফেরে। তাই গণিতে বাড়তি গুরুত্ব দিলাম। গণিতের প্রস্তুতিতে প্রথমে নবম-দশম শ্রেণির সাধারণ গণিত বইটি সমাধান করলাম। তারপর ব্যাংক নিয়োগের বিগত সব লিখিত পরীক্ষার গণিত অংশ হাতে-কলমে সমাধান করতে শুরু করলাম। এর মধ্যে না পারা অঙ্কগুলো একটি আলাদা খাতায় নোট করলাম। প্রস্তুতি পাকাপোক্ত করতে এক বন্ধুর পরামর্শে রাজধানীর নীলক্ষেত থেকে নব্বইয়ের দশকের একটি গণিত বই সংগ্রহ করে সমাধান করতে শুরু করলাম। ইংরেজি ও বাংলা অংশে ফোকাস রাইটিং/রিপোর্ট রাইটিং/বিভিন্ন আবেদনপত্র বিষয়ে প্রস্তুতির জন্য পরীক্ষায় আসতে পারে—এ রকম ৫০-৬০টি টপিকের প্রতিটির ৮-১০টি তথ্য আলাদা একটি খাতায় নোট করেছিলাম। সময়-সুযোগ পেলেই খাতাটায় চোখ বোলাতাম। এ ছাড়া দুটি (ইংরেজি ও বাংলা) খবরের কাগজ নিয়মিত পড়তাম এবং সেখান থেকে প্রতিদিন একটি প্রতিবেদন বা সম্পাদকীয় ভাষান্তর করার চেষ্টা করতাম। এতে অনুবাদ অংশের প্রস্তুতি নেওয়া সম্ভব হয়েছিল। লিখিত পরীক্ষার আগে যথেষ্ট সময় পেয়েছিলাম, যা পুরোপুরি কাজে লাগিয়েছিলাম।

২০১৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে লিখিত পরীক্ষা হয়েছিল। পরীক্ষা খুব ভালো দিয়েছিলাম। পরে মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিই। মৌখিক পরীক্ষার জন্য কোনো বই পড়িনি; শুধু ওয়েবসাইটে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং অন্যান্য দেশি-বিদেশি আর্থিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে ধারণা নিয়েছি। বিভিন্ন চাকরিপ্রার্থীর ভাইভা অভিজ্ঞতা সম্পর্কে জেনেছি। যেকোনো পরিস্থিতিতে গুছিয়ে কথা বলার দক্ষতা আগে থেকেই ছিল। ভাইভা হয়েছিল ২০১৭ সালের নভেম্বরে। ভাইভা ভালো হয়েছিল। চূড়ান্ত ফলাফলে উত্তীর্ণ হই।

চাকরিপ্রার্থীদের উদ্দেশে বলব, প্রতিনিয়ত নিজের জানাশোনা বা দুর্বলতার ঘাটতি পূরণ করে নিজেকে তৈরি করুন। পড়াশোনা-প্রস্তুতি কার্যকর পদ্ধতিতে করুন।

শ্রুতলিখন : এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা