kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

৩৮তম বিসিএসে (প্রশাসন) প্রথম রুহুল আমিন শরিফ

বিসিএসের প্রস্তুতিতে গাইড বই পড়িনি, কোচিংও করিনি

১১ জুলাই, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিসিএসের প্রস্তুতিতে গাইড বই পড়িনি, কোচিংও করিনি

৩৮তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে প্রথম স্থান অর্জন করেছেন রুহুল আমিন শরিফ। এটাই তাঁর প্রথম বিসিএস। কিভাবে প্রস্তুতি নিয়েছেন, দৈনন্দিন পড়াশোনার রুটিন কেমন ছিল, প্রার্থীদের ব্যাপারে পরামর্শ কী—এসব নিয়ে তাঁর সঙ্গে কথা বলেছেন গোলাম মোর্শেদ সীমান্ত। আজ ছাপা হলো প্রথম পর্ব

 

১। কবে থেকে চাকরির প্রস্তুতি শুরু করেন? সুনির্দিষ্টভাবে বিসিএসের জন্য কখন থেকে প্রস্তুতি নিয়েছেন?

—আসলে বিসিএসের জন্য সব বন্ধ রেখে বা ঘটা করে প্রস্তুতি কখনোই নেওয়া হয়নি। ছোটবেলা থেকেই পরিকল্পনামাফিক পড়াশোনার চেষ্টা করতাম। দৈনন্দিন জীবনের নিয়মের মধ্যেই আমার প্রস্তুতি চলেছে। সেই সঙ্গে শিক্ষকতারও অভিজ্ঞতা রয়েছে। মাধ্যমিকের বিজ্ঞান, গণিত, ইংরেজি এবং উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণির ইংরেজি, পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, গণিত ও জীববিজ্ঞান পড়াতাম। শিক্ষার্থীদের শেখাতে গিয়ে আমার নিজের একটা অনুশীলন হয়ে যেত, যা বিসিএস প্রস্তুতিতে বড় ভূমিকা রেখেছে। বিসিএসে পরীক্ষায় যে বিষয়বস্তু থেকে বেশি প্রশ্ন করা হয় অর্থাৎ ইংরেজি গ্রামার, বাংলা ব্যাকরণ, প্রযুক্তি ও বিজ্ঞানভিত্তিক প্রশ্ন; সেসব প্রশ্ন পরীক্ষার হলে দেখার পর অনেকটা নিশ্চিন্তে উত্তর করেছিলাম।

 

২। সাধারণ অবস্থায় ও পরীক্ষার আগের কয়েক মাস দৈনন্দিন পড়াশোনার রুটিন কেমন ছিল?

—সাধারণ অবস্থার কথা বলতে গেলে এককথায়—আমার কোনো রুটিন ছিল না। পড়া যতক্ষণ শেষ না হতো ততক্ষণ পড়তাম। কখনো দিনে দুই ঘণ্টা পড়েছি আবার কখনো দশ ঘণ্টাও পড়েছি। সব সময় বুঝে পড়ার চেষ্টা করতাম। পড়া মুখস্থ করতাম না। ছোটবেলা থেকেই কম সময়ে বেশি পড়া বুঝে ফেলার অভ্যাস ছিল! ছাত্রাবস্থায় টিউশনি করতাম, চাকরির প্রস্তুতিতে সেটা বেশ কাজে দিয়েছে। বিসিএস সিলেবাস পর্যবেক্ষণ করে দেখেছি, বেশির ভাগ প্রশ্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বই থেকে আসে। বিসিএসের সিলেবাস দেখে মনে হয়েছে, যেসব বিষয়ে আমি টিউশনি করাতাম, সেসব বিষয়ের অনেক কিছুই বিসিএসের সিলেবাসে রয়েছে।

বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা দেওয়ার পরপরই লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করি।

বিগত লিখিত পরীক্ষার ফল বিশ্লেষণ করে দেখলাম সাধারণ বিজ্ঞান আর ইংরেজিতে বেশির ভাগই খারাপ করেন। কিন্তু এই দুই বিষয়ে আমার ভালোই দখল ছিল। এ ছাড়া জাতীয়, আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ে ছাত্রজীবন থেকেই জানার আগ্রহ ছিল। বিসিএসের জন্য স্বাভাবিকভাবেই প্রস্তুতি নিয়েছি, তবে পরীক্ষার দশ দিন আগে পুরোদমে পড়াশোনা করেছি। প্রস্তুতির জন্য কোচিং বা কোনো গাইড বই অনুসরণ করিনি। যে বিষয়বস্তু নিয়ে পড়েছি বা জানার দরকার মনে করেছি, সেটার খুঁটিনাটি সব কিছু জানার চেষ্টা করেছি।

 

৩। জীবনে কোথায় কোথায় চাকরির আবেদন করেছেন? কোথায় কেমন পরীক্ষা হয়েছে, কোথায় কোন কোন ধাপে টিকেছেন বা চাকরি পেয়েছেন? কেমন অভিজ্ঞতা হয়েছে?

—আমার চাকরি দেওয়ার অভিজ্ঞতা একেবারেই কম। আমি শুধু দুটি চাকরির কথা ভেবেছি—একটি বিসিএস, আরেকটি ব্যাংক। এর বাইরে চাকরির পরীক্ষা দেওয়া হয়নি। ২০১৮ সাল থেকে সম্মিলিত ব্যাংক নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নিই। ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকে চাকরি শুরু করি। বর্তমানে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের দ্বিতীয় কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছি নোয়াখালীর হাতিয়া শাখায়। এর মধ্যেই সম্প্রতি ৩৮তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফল পাই অর্থাৎ সুপারিশপ্রাপ্ত হই। সংখ্যার হিসাবে বলতে গেলে জীবনে সর্বোচ্চ দশটি নিয়োগ পরীক্ষায় আবেদন করেছি। আর এটাই জীবনের প্রথম বিসিএস।

 

৪। আপনি জীবনে শুধু দুই ধরনের চাকরির কথা ভেবেছেনএকটি বিসিএস, আরেকটি ব্যাংক। এর বাইরে চাকরির পরীক্ষা না দেওয়ার কারণ কী?

—আসলে এই দুই ধরনের চাকরির প্রতি আমার আগ্রহ ছিল। ছোটবেলা থেকেই ইচ্ছা ছিল—দেশের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা যায় এমন কোনো পেশায় যুক্ত হওয়া, তাই প্রথম লক্ষ্য বিসিএস। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর বড় ভাইয়ের পরামর্শে সমন্বিত ব্যাংক পরীক্ষা অংশ নিয়েছিলাম।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা