kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

করোনাকালে চাকরির প্রস্তুতি

করোনা পরিস্থিতির কারণে বিভিন্ন সেক্টরের মতো দেশের চাকরির বাজারেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে। চাকরির নিয়োগ পরীক্ষাগুলো স্থগিত হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বেশ কয়েকটি চাকরির নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তাই চাকরিপ্রার্থীদের বসে থাকারও সুযোগ নেই। সহকারী পুলিশ সুপার (৩৭তম বিসিএস) মো. দিদারুল ইসলাম ও কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে কর্মরত সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাহামুদুল হাসান পারভেজের সঙ্গে কথা বলে বিস্তারিত লিখেছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

৩০ মে, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



করোনাকালে চাকরির প্রস্তুতি

ছবি : কালের কণ্ঠ

রুটিন করে পড়াশোনা

 

করোনার এই পরিস্থিতির কারণে সারা দিনরাতই বাসায় থাকতে হচ্ছে। চাকরিপ্রার্থীদের জন্য প্রস্তুতি নেওয়ার এটা বড় সুযোগ। প্রস্তুতিকে আরো কার্যকর করতে পড়ালেখার জন্য একটা রুটিন বা পাঠ পরিকল্পনা করা যেতে পারে।

পড়ালেখার জন্য প্রতিদিন সাত-আট ঘণ্টা বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। সেখানে গণিত ও ইংরেজির জন্য চার ঘণ্টা। বাকি সময় অন্যান্য বিষয়ের জন্য রাখতে পারলে ভালো হয়। কেননা চাকরির পরীক্ষায় গণিত ও ইংরেজি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই দুটি বিষয়ই অন্য প্রার্থীদের থেকে আলাদা করে দেয়। ভোরবেলাই পড়াশোনা করার উপযুক্ত সময়। কেননা এই সময়ে পরিবেশটা নির্মল, শান্ত থাকে। তাই আপনি এই সময়ে পড়ালেখা করলে সহজেই মনে থাকবে।

 

ফেসবুক গ্রুপে আলোচনা

দেশের চাকরিপ্রার্থীদের প্রস্তুতির জন্য জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপে নিয়মিত বহু পোস্ট হয়। যাঁরা যে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ, তাঁরা সেসব বিষয় নিয়ে পোস্ট দেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন; কারো কোনো ব্যাপারে জানার থাকলে উত্তর দেন। চাকরির প্রস্তুতিবিষয়ক এসব ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে দূরদূরান্ত থেকে লাখ লাখ চাকরিপ্রার্থী অভিজ্ঞদের পরামর্শসহ বিভিন্ন বিষয় জানতে পারছেন। এসব গ্রুপ যোগ দিলে চাকরির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি, চাকরির পরীক্ষার নোটিশ, বিষয়ভিত্তিক আলোচনা, মোটিভেশনমূলক লেখা, চাকরি পাওয়ার গল্প, প্রস্তুতির কৌশল, ভাইভা অভিজ্ঞতাসহ বিভিন্ন বিষয় তাত্ক্ষণিকভাবে জানা যায়। প্রত্যন্ত অঞ্চলের যে ব্যক্তি  কখনো বিসিএস ক্যাডার, ব্যাংকারসহ প্রথম শ্রেণির অন্য চাকরিজীবীদের সরাসরি পরামর্শ নেওয়ার সুযোগ পাননি, তিনিও ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমে এই সুযোগটি পাচ্ছেন। এসব গ্রুপে নিয়মিত বিষয়ভিত্তিক মডেল টেস্টও হয়। প্রতিনিয়ত অনেকেই এসব গ্রুপের মডেল টেস্টে অংশগ্রহণ করে থাকেন। চাকরির প্রস্তুতির উল্লেখযোগ্য গ্রুপ হলো—

BCS Preliminary Campaigner,

Banking Career Preparation,

Bangladesh Bank Exam Aid (BBEA),

BCS Preliminary Analysis,

BCS : Our Goal,

অনুবাদ চর্চা,

Banking Career in Bangladseh (BCB),

Bankers Selection Guide (BSG), Bangladseh Bank Recruitment Guide (BBRG),

Zakir BCS Special,

Sub-inspector written & viva campainer, অনুবাদ চর্চা,

প্রাইমারি-নিবন্ধন-সকল জব ইত্যাদি।

 

অনলাইনে প্রস্তুতি

চাকরির নিয়োগ পরীক্ষায় ইংরেজি, গণিত, মানসিক দক্ষতা ও কম্পিউটারের প্রস্তুতির জন্য দেশি-বিদেশি বিভিন্ন জনপ্রিয় ওয়েবসাইট রয়েছে। এসব ওয়েবসাইটে যেমন প্রস্তুতি নেওয়া যায়, তেমনি পরীক্ষা দিয়ে নিজেকে যাচাইয়ের সুযোগও রয়েছে। পরীক্ষা দেওয়ার পর ব্যাখ্যাসহ উত্তরপত্র দেখা যায়। ফলে ভুলগুলো সহজে শুধরে নেওয়া যায়। পরীক্ষার পর কতগুলো প্রশ্ন সঠিক হয়েছে, কতগুলো ভুল হয়েছে; ভুল প্রশ্নের উত্তর কী হবে—সেসব জানা যাবে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন-উত্তর, প্রস্তুতিমূলক পরামর্শও পাওয়া যাবে। জনপ্রিয় কয়েকটি বিদেশি ওয়েবসাইট হলো : sawaal.com, indiabix.com, examveda.com, majortests.com, gyanjosh.com, gmatclub.com, competoid.com, affairscloud.com প্রভৃতি। এ ছাড়া বাংলাদেশিও বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট রয়েছে। তা হলো : www.model-test.com, jobtestbd.com, www.bcsstudy.com/test, mcqstudybd.com, bcsstudy.com প্রভৃতি। এসব ওয়েবসাইটের বেশির ভাগেরই ইউটিউব চ্যানেল আছে। সেখান থেকেও প্রস্তুতি নেওয়া যেতে পারে।

 

জনপ্রিয় বেশ কয়েকটি ফেসবুক গ্রুপ রয়েছে। এসব গ্রুপে নিয়মিত বহু পোস্ট হয়। যাঁরা যে ক্ষেত্রে অভিজ্ঞ, তাঁরা সেসব বিষয় নিয়ে পোস্ট দেন, নিজেদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন; কারো কোনো ব্যাপারে জানার থাকলে উত্তর দেন

 

অনুবাদে দক্ষ হোন

বিসিএস, ব্যাংকের চাকরিসহ যেকোনো চাকরির পরীক্ষায় অনুবাদ এসে থাকে। কিন্তু অনেকেই অনুবাদে অদক্ষ। তাই আপনি যদি অনুবাদে দক্ষ হতে পারেন, তাহলে অন্য প্রার্থীদের থেকে কিছুটা হলেও এগিয়ে থাকবেন বলাই যায়। প্রতিদিন অনলাইনে ইংরেজি পত্রিকার এডিটরিয়াল অনুবাদ করতে পারেন। অনুবাদ করতে প্রথম দিকে হয়তো কিছুটা সমস্যায় পড়তে পারেন। মানসম্মত অনুবাদ না-ও হতে পারে; কিন্তু আপনি যদি নিয়মিত অনুবাদ করতে থাকেন তাহলে কয়েক মাসের মধ্যে আপনার অনুবাদে সাবলীলতা, দক্ষতা চলে আসবে। আর এই দক্ষতা আপনার পরবর্তী সময় ব্যাংকের লিখিত পরীক্ষাসহ বিভিন্ন চাকরির পরীক্ষায় দারুণ কাজে দেবে। অনুবাদ করে ফেসবুকের বিভিন্ন অনুবাদ বা ইংরেজি চর্চার গ্রুপে পোস্ট করতে পারেন অথবা পরিচিত কেউ অনুবাদে দক্ষ থাকলে তাঁকে মেসেঞ্জার কিংবা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠিয়ে চেক করে নিতে পারেন।

 

বিকল্প পরিকল্পনা রাখুন

আমাদের সামনের দিনগুলো অনেকটাই  অনিশ্চিত। আমরা কখনোই বলতে পারি না, আগামীকাল কী ঘটবে। এ জন্য বুদ্ধিমানের কাজ হবে এ-প্ল্যান, বি-প্ল্যান ঠিক করে রাখা। অর্থাত্ প্রথম লক্ষ্য, দ্বিতীয় লক্ষ্য নির্ধারণ করে রাখা। ধরুন, আপনার এ-প্ল্যান হলো বিসিএস ক্যাডার হওয়ার। বিসিএস তো একটা দীর্ঘমেয়াদি সময়ের ব্যাপার। তা ছাড়া এখানে প্রতিযোগিতাও অনেক বেশি। তাই  বি-প্ল্যানে অন্য কোনো লক্ষ্য রাখলে হতাশা আসবে না। তা ছাড়া দেশে করোনাভাইরাসে সৃষ্ট পরিস্থিতি থেকে কবে মুক্তি পাওয়া যাবে। তারও কোনো নিশ্চয়তা পাওয়া যাচ্ছে না। অন্যদিকে দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে চাকরির বাজারে আগুন লেগে যাওয়ার মতো অবস্থা হবে। কেননা এই সংকটে অনেকের চাকরি চলে যাচ্ছে। তাই বিকল্প এমন পরিকল্পনা করে রাখুন, যাতে এসব চাকরি না হলেও আপনি হতাশ না হয়ে পরিকল্পনামাফিক অন্য কিছু করতে পারেন।

 

গ্রুপ স্টাডি

গ্রুপ স্টাডি বা দলগত পড়াশোনা খুবই কার্যকর; কিন্তু করোনাভাইরাসের কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না। তবে আপনি চাইলে ঘরে বসেও গ্রুপ স্টাডি বা দলগত পড়াশোনা করতে পারেন। কয়েকজন বন্ধু বা সমমনা ব্যক্তি মিলে একটি ফেসবুক গ্রুপ খুলে ফেলুন।

আপনার যে বিষয়ে ভালো দখল আছে সে বিষয়ে লাইভে এসে আলোচনা করতে পারেন। গ্রুপের অন্য সদস্যরা কমেন্ট বক্সে প্রশ্ন করতে পারবেন। আপনি সেগুলোর উত্তর দেবেন। তারপর অন্য দিন আরেকজন গ্রুপে লাইভে এসে একই প্রক্রিয়ায় আলোচনা করতে পারেন। বেশ কয়েকটি ওয়েবসাইট ও অ্যাপস আছে  যার মাধ্যমে লাইভে একাধিক মানুষ আসা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো Zoom Cloud Meating। এই অ্যাপটি প্লেস্টোর থেকে নামিয়ে আপনার স্মার্টফোনে ইনস্টল করে নিতে পারেন। একসঙ্গে অনেকেই লাইভে এসে পরস্পরকে দেখে কথা বলতে পারবেন। এ ছাড়া আপনি Stream Yard ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলে আপনার ফেসবুক আইডির সঙ্গে যুক্ত করে দিলে এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমেও একাধিক মানুষ  একসঙ্গে লাইভে আসতে পারেন।

এ রকম আরো বেশ কয়েকটি অ্যাপস ও ওয়েবসাইট রয়েছে।

 

করোনায় যদি মারা যাই!

হয়তো অনেকে বলবেন, ‘করোনাভাইরাসে যদি মরে যাই তাহলে এত পড়াশোনা করে কী হবে?’ কিন্তু আপনি যদি বেঁচে যান, চাকরিপ্রার্থী হলে তো ঘুরেফিরে চাকরির পরীক্ষায়ই বসতে হবে! আবারও এসব বই-পুস্তক পড়তে হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে অনেক চাকরির পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তখন তাড়াহুড়া করে পড়ালেখা গুছিয়ে নেওয়ার সময় হবে না। তাই এ পরিস্থিতিতে ভেঙে না পড়ে নিজের প্রস্তুতির জন্য পাঠ পরিকল্পনা ঠিক করুন, আর সে অনুযায়ী এগোতে থাকুন। নিজেকে ব্যস্ত রাখার আরেকটি ভালো দিক হলো, পারিপার্শিক অবস্থার কারণে মানসিকভাবে অনেকেই ভেঙে পড়েছেন, এ অবস্থা থেকে অনেকটাই স্বাভাবিক থাকা যাবে।

 

করার আছে অনেক কিছু

এই সময়ে ফ্রি হ্যান্ডরাইটিং বা মুক্তহস্তে লেখার অভ্যাস করতে পারেন—বাংলা ও ইংরেজি উভয় মাধ্যমে। এগুলো চাকরির লিখিত পরীক্ষায় কাজে দেবে। অবসর সময়ে গল্প, উপন্যাস, অনুপ্রেরণামূলক বই পড়া যেতে পারে। শারীরিক চর্চা ও নিজ ধর্মের প্রার্থনার মাধ্যমে মন, শরীর ভালো রাখতে পারেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা