kalerkantho

বুধবার । ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭ । ২৭  মে ২০২০। ৩ শাওয়াল ১৪৪১

ভাইভা বোর্ডের মুখোমুখি

‘ঢাকা কলেজের ভেতরে নীল সাইনবোর্ডে কী লেখা?’

মো. রবিউল ইসলাম, হিসাবরক্ষক, মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর, (সুরক্ষা সেবা বিভাগ, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়) রংপুর বিভাগ

৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২০ ০০:০০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



‘ঢাকা কলেজের ভেতরে নীল সাইনবোর্ডে কী লেখা?’

ঢাকা কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ২০১৪ সালে স্নাতক ও ২০১৫ সালে স্নাতকোত্তর করি। দুটিতেই ফার্স্টক্লাস ছিল। মাস্টার্স শেষ করার পর সরকারি চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে শুরু করি। অনার্স চলাকালে টিউশনি করায় চাকরির পড়াশোনার জন্য তেমন সময়-সুযোগ হয়ে ওঠেনি। পড়াশোনা শেষ করে বিসিএসসহ বিভিন্ন চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে থাকি। এ পর্যন্ত সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের ১৪টি প্রতিষ্ঠানে ভাইভা দিয়েছি। অনেক প্রতিষ্ঠানে চাকরিও হয়েছে।

 

♦ প্রথমবারের মতো চাকরির ভাইভা দিই বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশনে অ্যাকাউন্টস অফিসার পদে। ভাইভা বোর্ডে প্রথমে পঠিত বিষয় ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কিত প্রশ্ন জিজ্ঞেস করা হয়, খুব সহজেই উত্তর দিই। একপর্যায়ে বলা হয়—আরবিতে ১২ মাসের নাম বলো। আমি আটটি নাম বলার পর আর বলতে পারিনি। ‘তোমার জেলার কোনটি বিখ্যাত? এ ব্যাপারে কিছু বলো।’ বললাম—চিনি; দেখতে সাদা, খেতে সুস্বাদু। এ কথা শুনে ভাইভা বোর্ডের সবাই হেসে দিল। এরপর জিজ্ঞেস করেন ‘চিনি সাদা হয় কেন?’ তখন ভাইভা বোর্ডেরই একজন বলেছিল, ‘সে বিজ্ঞানের ছাত্র নয়’; পরে উত্তরটি তারা নিজে থেকেই বলে দিয়েছিল। তিক্ত এ ভাইভার কথা মনে হলে আজও আমার হাসি পায়।

 

♦ জীবনের দ্বিতীয় ভাইভা দিই সমাজসেবা অধিদপ্তরের ফিল্ড সুপারভাইজর পদে। ভাইভা বোর্ডের একজন এক্সটার্নাল প্রশ্ন করেছিলেন—নূর হোসেন দিবস কবে? সে কিভাবে মারা যায়?  উত্তরে বলেছিলাম—১০ নভেম্বর, হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের স্বৈরাচারী শাসনব্যবস্থার বিরুদ্ধে সংগঠিত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলন চলাকালে পুলিশের গুলিতে নিহত (১৯৮৭ সালে) হন। জানতে চাওয়া হয়, ‘সমাজকে আপনি কিভাবে উপকার করতে পারেন? অধিদপ্তর এবং পরিদপ্তরের মধ্যে পার্থক্য কী?’ নিজের মতো করে গুছিয়ে বলার চেষ্টা করলাম। এরপর পর্যায়ক্রমে প্রশ্ন করা হয়—

অধিদপ্তরের প্রধান এবং পরিদপ্তরের প্রধানকে কী বলা হয়?

—মহাপরিচালক এবং পরিচালক।

যুক্তফ্রন্ট সরকারের বঙ্গবন্ধু কোন মন্ত্রী ছিলেন? —কৃষি, সমবায় ও বনমন্ত্রী।

তোমার জেলার বিখ্যাত মানুষের নাম বলো? —খুরশীদ আলম, দিলরুবা খানম, ফাতেমা-তুজ-জোহরা...

 

♦ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাবরক্ষক পদের ভাইভায় সবার প্রথমেই প্রশ্ন করা হয়—তোমার নামে বিখ্যাত কে আছে? বলেছিলাম—বিখ্যাত একজন কমেডিয়ান আছে। মন্ত্রণালয়ের বিভাগ কয়টি? বলেছিলাম দুটি—‘জননিরাপত্তা’ এবং ‘সুরক্ষা সেবা’ বিভাগ।

ভাইভা বোর্ডের একজন এক্সটার্নাল জিজ্ঞেস করেছিলেন—‘ছয় দফা দাবি কবে, কোথায় ঘোষণা করা হয়?’ উত্তরে বলেছিলাম—৫ ও ৬ ফেব্রুয়ারি ১৯৬৬, লাহোরে। ‘বর্তমানে কতজন সেক্টর কমান্ডার জীবিত আছেন? মোট সেক্টর কমান্ডার কতজন ছিলেন?’—৪ জন, মোট সেক্টর কমান্ডার ছিলেন ১৯ জন। এ ছাড়া পদবিসহ সাতজন বীরশ্রেষ্ঠর নাম ও বঙ্গবন্ধু সম্পর্কিত সব প্রশ্নের সাবলীল উত্তর দিয়েছিলাম।

ভাইভা খুব ভালো হয়েছিল। ভাইভায় সব প্রশ্নের সঠিক উত্তর দিতে পেরেছি। ফলাফল প্রকাশের পর দেখি পাস করেছি।

২০১৯ সালের আগস্ট মাসে রংপুর মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরে জয়েন করি।

 

ঢাকা কলেজের ভেতরে নীল সাইনবোর্ডে কী কী লেখা আছে?’ বললাম—১৮৪১ সাল ও ইংরেজিতে Know thyself। আবার প্রশ্ন—‘উক্তিটি কার? সেখানে আর কী কী লেখা আছে?’ বললাম—সক্রেটিসের। এ ছাড়া আর কিছুই লেখা নেই। প্রশ্নকর্তা বললেন—তুমি ক্লাস করোনি, ফাঁকি দিয়েছ। না হলে জানতে সেখানে আরো কিছু লেখা আছে। চলে আসার সময় আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘চাকরিটা পেলে করবে?’

 

♦ সোনালী ব্যাংকে অফিসার পদে ভাইভায় অনুমতি নিয়ে রুমে প্রবেশ করার পরপরই ভাইভা বোর্ডের একজন প্রশ্ন করেন—বাংলাদেশ ব্যাংকের কাজ কী? কেন ব্যাংকে কাজ করতে চান? আমি ঝটপট উত্তর দিয়েছিলাম। তাঁরা আমার উত্তরে সন্তুষ্ট হয়েছিলেন। ব্যাংকে কী কী ডেস্ক থাকে? মুদ্রানীতি কতবার প্রণয়ন করা হয়? কোন মাস থেকে কোন মাসকে অর্থবছর ধরা হয়?

বোর্ডে আরেকজন জিজ্ঞেস করেন, ‘ঢাকা কলেজের ভেতরে নীল সাইনবোর্ডে কী কী লেখা আছে?’ বললাম—১৮৪১ সাল ও ইংরেজিতে Know thyself। আবার প্রশ্ন—‘উক্তিটি কার? সেখানে আর কী কী লেখা আছে?’ বললাম—সক্রেটিসের। এ ছাড়া আর কিছুই লেখা নেই। প্রশ্নকর্তা বললেন—তুমি ক্লাস করোনি, ফাঁকি দিয়েছ। না হলে জানতে সেখানে আরো কিছু লেখা আছে। চলে আসার সময় আমাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, ‘চাকরিটা পেলে করবে?’ পরে চাকরিটা পেলেও আর যোগ দেওয়া হয়নি।

 

♦ এ ছাড়া রূপালী ব্যাংক ও রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে অফিসার পদে ভাইভা দিয়ে চাকরি হয়; কিন্তু যোগ দেওয়া হয়নি। নৌপরিবহন অধিদপ্তরের ট্রাফিক সুপারভাইজর পদে, বাংলাদেশ ইস্পাত ও প্রকৌশল করপোরেশনের অ্যাকাউন্টস অফিসার পদে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অ্যাকাউন্টস অফিসার, প্রাণী সম্পদ অধিদপ্তরের উচ্চমান সহকারী পদসহ সরকারি অনেক চাকরির ভাইভায় অংশ নিয়েছি।

 

নতুনদের বলব, ভাইভা বোর্ডে সবার মধ্যেই একটা ভীতি কাজ করে। মনে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বিনয়ের সঙ্গে সঠিক উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে বোর্ডের সন্তুষ্টি অর্জন করতে পারলেই কাঙ্ক্ষিত ফল আশা করা যাবে। কোনোভাবেই ভুল তথ্য দেওয়া যাবে না। কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে সেটা বিনয়ের সঙ্গে বলতে হবে।

 

শ্রুতলিখন : আব্দুন নুর নাহিদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা