kalerkantho

রবিবার । ০৮ ডিসেম্বর ২০১৯। ২৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৬। ১০ রবিউস সানি ১৪৪১     

নার্সিংয়ে পড়ে কেউ বেকার নেই

ডিপ্লোমার পরপরই চাকরি মিলছে অনেকের স বিএসসি করলে ভালো পদ, বেশি মাইনে

২৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৭ মিনিটে



নার্সিংয়ে পড়ে কেউ বেকার নেই

ফটো ক্রেডিট : এসটিএস নার্সিং কলেজ

নার্স হতে গেলে প্রথম চ্যালেঞ্জ—নার্সিংয়ে ডিপ্লোমা। কোর্সের শেষ ছয় মাস ইন্টার্নশিপ করার সময়ই চাকরি হয়ে যায় অনেকের। সরকারি-বেসরকারি মেডিক্যালগুলোতেও চাকরির ক্ষেত্র দিন দিন বাড়ছে। নার্সিংয়ে ভর্তি-চাকরিসহ বিস্তারিত জানাচ্ছেন এম এম মুজাহিদ উদ্দীন

যেকোনো বিভাগ থেকে এইচএসসি পাস হলে ডিপ্লোমা কোর্সে (তিন বছর মেয়াদি) আর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এইচএসসি হলে বিএসসি (চার বছর মেয়াদি) কোর্সে ভর্তির আবেদন করা যাবে। ডিপ্লোমা শেষ করে বিএসসি করলে দুই বছরের কোর্স। কোর্সের শেষ ৬ মাস ইন্টার্নশিপ। অধিকাংশ মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতাল নিজেদের নার্সিং প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ হাসপাতালে ইন্টার্ন ও চাকরির সুযোগ করে দেয়।

ভর্তি পরীক্ষা হয় এমসিকিউ পদ্ধতিতে ১০০ নম্বরে, সময় ১ ঘণ্টা। পাস নম্বর ৪০। পাস করা শিক্ষার্থীরা মেধাতালিকার ভিত্তিতে ভর্তির সুযোগ পাবেন। 

ভর্তি পরীক্ষার নম্বরবণ্টন—

ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারি   ডিপ্লেমা-ইন-মিডওয়াইফারি : বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, গণিত ১০, সাধারণ বিজ্ঞান ২৫ এবং সাধারণ জ্ঞান ২৫ নম্বর।

বিএসসি-ইন-নার্সিং : বাংলা ২০, ইংরেজি ২০, গণিত ১০, বিজ্ঞান ৩০ (জীববিজ্ঞান, পদার্থ, রসায়ন) এবং সাধারণ জ্ঞান ২০ নম্বর।

 

বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতি

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র বাংলাদেশের (আইসিডিডিআরবি) স্টাফ নার্স মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন জানান, ডিপ্লোমা ও বিএসসি উভয় পর্যায়ে নার্সিংয়ে ভর্তি পরীক্ষায় বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞানের ওপর প্রশ্ন আসে। শুধু ব্যতিক্রম হচ্ছে বিজ্ঞান বিষয়ে। ডিপ্লোমায় সাধারণ বিজ্ঞান থেকে প্রশ্ন হয়, কারণ এই কোর্স সব বিভাগের (বিজ্ঞান, মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা) শিক্ষার্থীদের জন্য। আর বিএসসিতে সাধারণ বিজ্ঞানের পরিবর্তে পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন ও জীববিজ্ঞান বিষয়ে প্রশ্ন থাকে। বিষয়ভিত্তিক প্রস্তুতির জন্য বাজারের ভালো মানের ‘নার্সিং ভর্তি গাইড’ দেখতে পারেন। সেখান থেকে বিগত বছরের প্রশ্নপত্র দেখলে স্বচ্ছ ধারণা পাবেন।

বাংলা : প্রস্তুতি নিতে হবে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের পাঠ্য বই থেকে। তবে বেশির ভাগ প্রশ্ন আসে মাধ্যমিকের বই থেকে। মাধ্যমিকের বাংলা প্রথম পত্রের গদ্য-পদ্যগুলো ভালোভাবে পড়তে হবে। লেখক-সাহিত্যিকদের জীবনী ও তাঁদের লেখা বইয়ের নামও গুরুত্বপূর্ণ। এ ছাড়া টীকা, শব্দার্থ খেয়াল করে পড়তে হবে। ব্যাকরণ অংশের জন্য মুনীর চৌধুরী রচিত নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো দাগিয়ে দাগিয়ে পড়তে হবে। এ ছাড়া আগের বছরের বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষার প্রশ্ন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আগের বছরের প্রশ্নগুলো বুঝে বুঝে সমাধান করতে পারলে বাংলায় ভালো নম্বর তোলা সহজ হবে।

ইংরেজি : ইংরেজিতে দুই ধরনের প্রশ্ন আসে—গ্রামার আর ভোকাবুলারি। গ্রামার টপিকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো : Parts of speech, Correction, Right form of verbs, Voice, Narration, Transformation। আর ভোকাবুলারিভিত্তিক টপিকগুলোর মধ্যে আছে : Synonyms-Antonyms, Preposition, Translation, Proverb, Idioms and Phrases, Spelling, Group verb। এগুলো ছাড়াও বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ও মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার বিগত বছরের প্রশ্ন সমাধান করলে ভর্তি পরীক্ষায় ইংরেজি নিয়ে আর টেনশন করতে হবে না। 

সাধারণ জ্ঞান : শুরুতে বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্ন ও মেডিক্যালে ভর্তি পরীক্ষার বিগত বছরের প্রশ্নগুলো সমাধান করতে হবে। এ ছাড়া নিয়মিত পত্রিকা পড়লে সাধারণ জ্ঞানে আপডেট থাকা যাবে। সাধারণ জ্ঞানের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো হলো—পাকিস্তান শাসনামল ও স্বাধীনতা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু, বাংলাদেশের উপজাতি এবং সংস্কৃতি, বাংলাদেশের ভূ-প্রকৃতি, ভৌগোলিক অবস্থান, উপনাম, পূর্বনাম, ঐতিহাসিক স্থান ও স্থাপনা, নদ-নদী, জাতীয় বিষয়াবলি (পতাকা, প্রতীক, সংগীত, জাতির পিতা), আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ। আন্তর্জাতিক সীমারেখা, প্রণালি, মহাদেশভিত্তিক দেশ ও তাদের রাজধানী, গুরুত্বপূর্ণ শহর, বিখ্যাত সমুদ্রবন্দর ও সমুদ্রবন্দরবিহীন দেশ, বিমান সংস্থা, গোয়েন্দা সংস্থা, গেরিলা সংস্থা, আলোচিত যুদ্ধবিগ্রহ, বিরোধপূর্ণ সীমান্তবর্তী অঞ্চল, আলোচিত বিপ্লব, চুক্তি-সনদ-সম্মেলন। জাতিসংঘ, আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সদর দপ্তর। দ্বীপ, পর্বত, মরুভূমি, সাগর, জলপ্রপাত, আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক জোট, আঞ্চলিক অর্থনৈতিক জোট, রাজনৈতিক ও সামরিক জোট, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবস। আন্তর্জাতিক পুরস্কার ও সম্মাননা।

জীববিজ্ঞান : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিকের বইয়ের আগাগোড়া পড়তে হবে। গুরুত্বপূর্ণ টপিকগুলো হলো—কোষ ও কোষের গঠন, অণুজীব, উদ্ভিদের শরীরতত্ত্ব, টিস্যু ও টিস্যুতন্ত্র, উদ্ভিদের প্রজনন, শৈবাল ও ছত্রাক, কোষবিভাজন, কোষ রসায়ন, ব্রায়োফাইটা, টেরিডোফাইটা, নগ্নজীবী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ, জীবপ্রযুক্তি, জীবের পরিবেশ, বিস্তার ও সংরক্ষণ।

রসায়ন : মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের রসায়নের বইয়ের গুরুত্বপূর্ণ টপিক—রাসায়নিক পরিবর্তন, গুণগত রসায়ন, পর্যায়ভিত্তিক ধর্ম ও বন্ধন, কর্মমুখী রসায়ন, ল্যাবরেটরির নিরাপদ ব্যবহার। পরিবেশ রসায়ন, পরিমাণগত রসায়ন, অর্থনৈতিক রসায়ন, তড়িৎ রসায়ন, জৈব রসায়ন। এসব টপিকের ওপর প্রতিবছর একাধিক প্রশ্ন আসে। তাই এসব টপিক পড়লে পরীক্ষায় কমন পাওয়ার সম্ভাবনা বেশি।

পদার্থবিজ্ঞান : গুরুত্বপূর্ণ টপিক—ভৌতজগৎ ও পরিমাপ, ভেক্টর, গতিবিদ্যা, নিউটনীয় বলবিদ্যা, কাজশক্তি ও ক্ষমতা, মহাকর্ষ ও অভিকর্ষ, পদার্থের গাঠনিক ধর্ম, পর্যায়বৃত্তিক গতি, তরঙ্গ, আদর্শ গ্যাস ও গ্যাসের গতিতত্ত্ব, তাপগতিবিদ্যা, স্থির তড়িৎ, চলতড়িৎ, জ্যামিতিক আলোক বিজ্ঞান, ভৌত আলোক বিজ্ঞান। আধুনিক পদার্থবিজ্ঞান, পরমাণু মডেল ও নিউক্লীয় পদার্থবিজ্ঞান, তড়িৎ চৌম্বক ও আবেশ, সেমিকন্ডাক্টর জ্যোতির্বিজ্ঞান প্রভৃতি।

 

খরচাপাতি

সরকারি নার্সিং কলেজ ও ইনস্টিটিউটে নামমাত্র খরচ।

আর বেসরকারি নার্সিং প্রতিষ্ঠানে খরচ কেমন—নির্ভর করছে কোথায় পড়বেন তার ওপর। ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং সায়েন্স অ্যান্ড মিডওয়াইফারির জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে এক থেকে দুই লাখ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়। আর বিসিএস-ইন-নার্সিংয়ে কোর্সের মেয়াদ (দুই কিংবা চার বছর) ও প্রতিষ্ঠানভেদে গুনতে হবে এক লাখ ৮০ হাজার থেকে চার লাখ টাকা। ভর্তির সময় খেয়াল রাখতে হবে, প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ নার্সিং ও মিডওয়াইফারি কাউন্সিলের (বিএনএমসি) অনুমোদিত কি না। 

 

ভর্তি চলছে

২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে সরকারি-বেসরকারি নার্সিং ও মিডওয়াইফারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ডিপ্লোমা-ইন-নার্সিং সায়েন্স এবং ডিপ্লোমা-ইন-মিডওয়াইফারি এবং বিএসসি-ইন-নার্সিং কোর্সের ভর্তি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। অনলাইনে আবেদন করা যাবে ২৯ নভেম্বর পর্যন্ত।

নার্সিং কলেজ, ইনস্টিটিউটের তালিকা ও ভর্তির বিস্তারিত জানা যাবে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তর ও বিএনএমসির ওয়েবসাইটে—

www.dgnm.gov.bd I www.bnmc.gov.bd|

 

পাস করেই চাকরি

সরকারিভাবে নার্স নিয়োগ হয় সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) পরীক্ষার মাধ্যমে। রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের সিনিয়র স্টাফ নার্স জুয়েল রানা বলেন, ‘সরকারি কিংবা বেসরকারি পর্যায়ের ভালো নার্সিং কলেজ বা ইনস্টিটিউট থেকে পাস করলে বেকার বসে থাকতে হয় না। কোথাও না কোথাও চাকরি মিলে যায়। আমাদের সময় পিএসসির পরীক্ষায় মোট ২০০ নম্বর (এমসিকিউ ১০০, ভাইভা ১০০) ছিল। এমসিকিউতে নার্সিং-সংক্রান্ত টেকনিক্যাল প্রশ্ন ৫০ নম্বরের আর ৫০ বিষয়ভিত্তিক (বাংলা, ইংরেজি, গণিত, সাধারণ জ্ঞান ও দৈনন্দিন বিজ্ঞান)।’

 

সুযোগ সুবিধা

প্রতিষ্ঠান, চাকরির স্তর ও অভিজ্ঞতাভেদে নার্সদের বেতন ১৬ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

যাঁদের আইসিইউতে ডিউটি পড়ে, তাঁরা তুলনামূলক বেশি মাইনে পান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র স্টাফ নার্স মারজানা মুসতাঈন জানান, ‘২০১৬ সাল থেকে সরকারি নার্স নিয়োগ হচ্ছে পিএসসির মাধ্যমে। বর্তমানে সরকারি পর্যায়ের সিনিয়র স্টাফ নার্সরা দ্বিতীয় শ্রেণির কর্মকর্তা। অভিজ্ঞ ও বিএসসি করা নার্সরা সহজেই প্রমোশন পান।’

‘স্টাফ নার্স’ হিসেবে কর্মজীবন শুরু করার পর পরবর্তী সময়ে প্রমোশন পেয়ে সিনিয়র স্টাফ নার্স, নার্সিং সুপারভাইজর, নার্সিং সুপারিনটেনডেন্ট, মেট্রন নার্স/নার্স ম্যানেজার পর্যন্ত হতে পারেন। এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানভেদে নার্সরা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা