kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

যেভাবে চাকরি পেলাম

দরকারি পরামর্শ পেয়েছি চাচাদের কাছ থেকে

মো. সোহরাব হোসেন, ৩৬তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা), রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সারা দেশে প্রথম [প্রভাষক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, জয়পুরহাট সরকারি মহিলা কলেজ, জয়পুরহাট]

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দরকারি পরামর্শ পেয়েছি চাচাদের কাছ থেকে

বাড়ি জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর উপজেলার পূর্ণ গোপীনাথপুর গ্রামে। স্থানীয় স্কুল-কলেজে পড়াশোনা শেষ করে কোচিং ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ভর্তি পরীক্ষা দিই। ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হই। মাস্টার্সও করি রাষ্ট্রবিজ্ঞানে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনাকালীন আমার দুজন চাচা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা করে বিসিএস পরীক্ষা দিয়েছেন। পরীক্ষার সময় আমি তাঁদের মোবাইল, বই, মানিব্যাগ নিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকতাম। তাঁরা দুজনই পরে অ্যাডমিন ক্যাডার পান। অনার্স শেষ করে বিসিএসের জন্য কোনো কোচিংয়ে না গিয়ে নিজেই নিজের প্রস্তুতি-ছক সাজালাম। দরকারি বিভিন্ন পরামর্শ পেয়েছি চাচাদের কাছ থেকে। এমন দিনও গেছে সকালে পড়া শুরু করেছি, দুপুর হয়ে গেছে তখনো খেয়াল হয়নি যে সকালে নাশতা করিনি। রাত ১টা পর্যন্ত পড়ে শুয়ে যেতাম, সকাল ৬টায় ওঠে আবার পড়া শুরু করতাম।

পত্রিকা পড়তাম নিয়মিত। ইন্টারনেট থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য সংগ্রহ করার পাশাপাশি সমসাময়িক খবরগুলো নোট করে রাখতাম।

জীবনে প্রথম বিসিএস দিলাম ৩৪তম। প্রিলির পর লিখিত পরীক্ষায়ও টিকে যাই, ডাক পাই ভাইভার। ভাইভায় আমার বিষয়ের সব প্রশ্নের উত্তর ঠিকভাবে দিয়েছিলাম। কিন্তু চূড়ান্ত ফলে দেখলাম ‘ক্যাডারে হইনি, নন-ক্যাডার পেয়েছি’। খুব কষ্ট পেলাম, মনে জেদ তৈরি হলো। এরপর ৩৫তম বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করি। প্রতিদিন নিয়ম করে ইংরেজি ও গণিতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি, বিশেষ করে বেসিক ঠিক রাখার জন্য পঞ্চম থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত বোর্ড বইগুলো অনুশীলন করেছি। বাংলার জন্য নবম-দশম শ্রেণির ব্যাকরণ বইটি খুব ভালোভাবে রপ্ত করেছি। এ ছাড়া প্রফেসর, ওরাকলসহ বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের গাইড বই পড়েছি। চাকরির পরীক্ষাগুলোতে যাঁরা ইংরেজি ও গণিতে দক্ষ, দেখা যায় তাঁরাই এগিয়ে থাকেন।

৩৫তম বিসিএসে আবার প্রিলিতে টিকে অনেক পরিশ্রম করে লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পর ভাইভার জন্য প্রস্তুতি নিলাম। ভাইভা বোর্ড অনেক সময় নিয়েছিল, নিজের পঠিত বিষয় ও সমসাময়িক ঘটনার ওপর অনেক প্রশ্ন করেছিল, সেগুলোর সঠিক উত্তর দিয়েছিলাম। মনে হয়েছিল ভাইভা বোর্ড আমার ওপর সন্তুষ্ট। কিন্তু চূড়ান্ত ফলাফল আগের মতোই, নন-ক্যাডারে হয়েছে। পরবর্তী বিসিএসের (৩৬তম) জন্য প্রস্তুতি নেওয়া শুরু করলাম। আমরা ১০ জন ব্যাচমেট মিলে গ্রুপ স্টাডি করতে থাকি। সমসাময়িক বিষয় নিয়ে আলোচনা করি। আগের মতোই প্রিলি ও লিখিত দিয়ে ভালো নম্বর নিয়ে পাস করলাম। কিন্তু ভাইভা নিয়ে চিন্তায় পড়ে গেলাম।

ভাইভার জন্য ভালোভাবে প্রস্তুতি নিলাম। আমার মতে, নিজের পঠিত বিষয়, নিজ জেলা, বিভাগ, সাধারণ জ্ঞান, জাতীয়-আন্তর্জাতিক রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজব্যবস্থা মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জানা বিসিএস ভাইভার জন্য বেশ কার্যকর। ভাইভা বোর্ডে সঠিক উত্তর সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে।

 

ভাইভা বোর্ডে চেয়ারম্যান ছিলেন শাহ আব্দুল লতিফ স্যার। অনার্সের বিষয় থেকে আমাকে বেশ কয়েকটি প্রশ্ন করা হয়েছিল। ফার্স্ট চয়েস কী? সরকারের কোন কাজ তোমার পছন্দ আর কোন কাজ পছন্দ নয়? আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উত্তর দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভাইভায় খুব কম সময় ছিলাম। এ কারণে ভেবেছিলাম এবারও বোধ হয় ক্যাডার পাব না। ফল প্রকাশের পর দেখি, বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) রাষ্ট্রবিজ্ঞানে সারা দেশের মধ্যে আমিই প্রথম।

নতুনদের বলব, অনেক আগে থেকেই বিসিএসের প্রস্তুতি নেওয়ার দরকার নেই। তবে একাডেমিক পড়াশোনার পাশাপাশি প্রতিদিন বাংলা ও ইংরেজি পত্রিকা পড়তে হবে। ইংরেজি অবশ্যই অনুবাদসহ পড়তে হবে। দেশ-বিদেশের সাম্প্রতিক সময়ের ঘটনাগুলো খেয়াল রাখতে হবে। বেসিকের জন্য গণিতের বিষয়গুলো নিয়মিত চর্চার দরকার আছে। কেউ যদি টানা ছয় মাস ১২ থেকে ১৪ ঘণ্টা করে নিয়মিত পড়াশোনা করে, তাহলে সে সফল হবেই।

অনুলিখন : আব্দুন নুর নাহিদ

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা