kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৪ নভেম্বর ২০১৯। ২৯ কার্তিক ১৪২৬। ১৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪১     

টেক্সটাইল সেক্টরে ফ্রি প্রশিক্ষণ মিলবে ভাতা ও চাকরি

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



টেক্সটাইল সেক্টরে ফ্রি প্রশিক্ষণ মিলবে ভাতা ও চাকরি

ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুরসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের টেক্সটাইল মিল বা ফ্যাক্টরি, স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং সেক্টরে বিনা মূল্যে প্রশিক্ষণ পাবে ৭৩ হাজার ৫০০ জন। ট্রেডভেদে পঞ্চম ও অষ্টম পাস হলেই করা যাবে আবেদন। কোর্স চলাকালে দেওয়া হবে ভাতা। প্রশিক্ষণ শেষে দক্ষতা দেখাতে পারলে মিলতে পারে চাকরিও। লিখেছেন ফরহাদ হোসেন

সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের স্কিল ফর এমপ্লয়মেন্ট ইনভেস্টমেন্ট প্রগ্রাম (সেইপ) এবং এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের (এডিবি) অর্থায়নে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) মাধ্যমে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, নরসিংদী, টাঙ্গাইল, নারায়ণগঞ্জ, হবিগঞ্জসহ আরো বেশ কিছু জেলার টেক্সটাইল মিল বা ফ্যাক্টরি, স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং সেক্টরের বিভিন্ন কারখানা এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে।

 

কেন এই প্রশিক্ষণ

বিটিএমএ-সেইপ প্রকল্পের সমন্বয়কারী (মনিটরিং অ্যান্ড ইভাল্যুয়েশন)

মো. হাবিবুল্লাহ বিলালী বলেন, ‘টেক্সটাইল মিল বা ফ্যাক্টরি, স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং সেক্টরের বিভিন্ন কারখানায় কাজের জন্য দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন হয়। তা ছাড়া এসব কারখানায় কাজের সুযোগ প্রতিনিয়ত বাড়ছে। কাজের সুযোগ বৃদ্ধি, দক্ষ কর্মীর চাহিদা পূরণ ও গুণগতমানের পণ্য তৈরি করতে এ প্রশিক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশে দক্ষ ও যোগ্য কর্মী তৈরি হয়। বিটিএমএ-সেইপ এ প্রকল্পের মাধ্যমে এপ্রিল ২০১৫ থেকে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত মোট ৭৩ হাজার ৫০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এর মধ্যে প্রথম পর্যায়ে ডিসেম্বর ২০১৮ পর্যন্ত ৩০ হাজার ৫০০ জনকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে। বাকিদের এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে ডিসেম্বর ২০২৩ পর্যন্ত।’

যোগ্যতা যা লাগবে

১৫ থেকে ৪০ বছর বয়সী পুরুষ বা নারীরা আবেদন করতে পারবেন। নিউ এনট্রেন্ট কোর্সের জন্য ন্যূনতম শিক্ষাগত যোগ্যতা পঞ্চম শ্রেণি পাস এবং আপস্কিলিং কোর্সের জন্য অষ্টম শ্রেণি পাস হতে হবে। অগ্রাধিকার পাবেন নারী, কম দক্ষ, উপজাতি ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর প্রার্থীরা। ভর্তির সময় জমা দিতে হবে শিক্ষাগত যোগ্যতার সনদ বা নম্বরপত্রের ফটোকপি, জাতীয় পরিচয়পত্র অথবা জন্মনিবন্ধনের ফটোকপি ও দুই কপি পাসপোর্ট আকারের ছবি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নিউ এনট্রেন্ট ও আপস্কিলিং—এই দুই ক্যাটাগরিতে প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি করা হবে। মোট ১২টি ট্রেডে এ প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নিউ এনট্রেন্ট কোর্সের মেয়াদ দেড় মাস ও আপস্কিলিং কোর্সের মেয়াদ এক মাস।

 

আবেদন ও বাছাই প্রক্রিয়া

বিটিএমএ-সেইপের নির্ধারিত ফরমে আবেদন করতে হবে। ভর্তি ফরম পাওয়া যাবে .িনঃসধংবরঢ়.ড়ত্ম.নফ ওয়েবসাইটে। ফরম সংগ্রহ করা যাবে বিটিএমএ-সেইপ প্রকল্পের (লেভেল ৮, ইউটিসি ভবন, ৮ পান্থপথ, কারওয়ান বাজার, ঢাকা) অফিস থেকেও। এ ছাড়া উল্লিখিত জেলার নির্দিষ্ট টেক্সটাইল মিল বা ফ্যাক্টরি, স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং সেক্টরের কারখানার অফিসেও ভর্তি ফরম পাওয়া যাবে। যে প্রার্থী টেক্সটাইল মিল বা ফ্যাক্টরি, স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং কারখানা থেকে ভর্তি ফরম সংগ্রহ করবে, সেখানেই ফরম জমা দিতে হবে। বাছাইয়ের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা ও দক্ষতা, কারখানায় কাজ করার মানসিকতা, শারীরিক যোগ্যতা, কাজ শেখার আগ্রহ, সাধারণ জ্ঞানের পরিধি ইত্যাদি বিষয় দেখা হবে।

 

মিলবে ভাতা ও চাকরি

মো. হাবিবুল্লাহ বিলালী জানান, কোনো ফি গুনতে হবে না। সফলতার সঙ্গে কোর্স সমাপ্তকারী নিউ এনট্রেন্টদের ৩৬০০ টাকা এবং আপস্কিলিংদের ২৪০০ টাকা যাতায়াত ও রিফ্রেশমেন্ট ভাতা দেওয়া হবে।

প্রশিক্ষণ শেষে কাজের মূল্যায়ন করে দেওয়া হয় প্রশিক্ষণ সনদ। দক্ষদের চাকরির সুযোগ করে দেওয়া হয় বিভিন্ন কারখানায়। সেইপ প্রকল্পের তথ্য অনুসারে জানা যায়, বিটিএমএ থেকে প্রশিক্ষণ নেওয়া ২৯ হাজার ১০০ জন বিভিন্ন কারখানায় কাজের সুযোগ পেয়েছেন।

 

ভর্তি তথ্য পাবেন যেখানে

বিভিন্ন সময় পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়। তাই নিয়মিত চোখ রাখতে হবে পত্রিকায়। তথ্য পাওয়া যাবে বিটিএমএ সদস্যভুক্ত টেক্সটাইল মিল বা ফ্যাক্টরিতে এবং স্পিনিং, উইভিং ও ডাইং কারখানাগুলোয়। www.btmaseip.org.bd ওয়েবসাইটেও পেতে পারেন দরকারি তথ্য।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা