kalerkantho

রবিবার । ২০ অক্টোবর ২০১৯। ৪ কাতির্ক ১৪২৬। ২০ সফর ১৪৪১                

৮৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে জনবল নেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে ৮৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে জনবল নেওয়া হবে। আবেদন করার শেষ তারিখ ৩০ অক্টোবর ২০১৯। বিস্তারিত লিখেছেন জুবায়ের আহম্মেদ

৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



৮৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে জনবল নেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী

আবেদনের যোগ্যতা

 

বয়স : ১ জুলাই ২০২০ তারিখে ১৭ থেকে ২১ বছর এবং সশস্ত্র বাহিনীতে কর্মরত প্রার্থীদের জন্য ১৮ থেকে ২৩ বছর। উচ্চতা : পুরুষ প্রার্থীদের জন্য ১.৬৩ মিটার (৫ ফুট ৪ ইঞ্চি) এবং মহিলা প্রার্থীদের জন্য ১.৫৭ মিটার (৫ ফুট ২ ইঞ্চি)। ওজন : পুরুষের জন্য ৫৪ কিলোগ্রাম (১২০ পাউন্ড) আর মহিলাদের জন্য ৪৭ কিলোগ্রাম বা ১০৩ পাউন্ড। পুরুষের ক্ষেত্রে বুকের মাপ স্বাভাবিক ০.৭৬ মিটার এবং প্রসারণ ০.৮১ মিটার। মহিলাদের ক্ষেত্রে স্বাভাবিক ০.৭১ মিটার এবং প্রসারণ ০.৭৬ মিটার। উচ্চতা ও বয়স অনুসারে সশস্ত্র বাহিনীর জন্য নির্ধারিত স্কেলের অতিরিক্ত ওজন হলে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন।

 

শিক্ষাগত যোগ্যতা

মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট বা সমমানের পরীক্ষায় যেকোনো একটিতে জিপিএ ৫ ও অন্যটিতে জিপিএ ৪.৫০ পেয়ে উত্তীর্ণ। আর ইংরেজি মাধ্যমের প্রার্থীদের ক্ষেত্রে ‘ও’ লেভেলের ছয়টি বিষয়ের মধ্যে তিনটিতে ‘এ’ গ্রেড, তিনটিতে ‘বি’ গ্রেড এবং ‘এ’ লেভেলের দুটি বিষয়েই ন্যূনতম ‘বি’ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ অথবা ‘ও’ লেভেলের ছয়টি বিষয়ের মধ্যে  দুটিতে ‘এ’ গ্রেড, তিনটিতে ‘বি’ গ্রেড ও একটিতে ‘সি’ গ্রেড এবং ‘এ’ লেভেলের দুটি বিষয়ের মধ্যে একটিতে ‘এ’ গ্রেড ও একটিতে ‘বি’ গ্রেড পেয়ে উত্তীর্ণ। প্রার্থীকে জন্মসূত্রে বাংলাদেশের নাগরিক এবং অবিবাহিত হতে হবে। 

 

অনলাইনে আবেদন

https://joinbangladesharmy.army.mil.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে Home Page-এর ওপরে ডান কোনায় APPLY NOW-তে ক্লিক করে ৮৪তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদি কোর্সে  আবেদন করতে হবে।  আবেদনকারী প্রার্থীরা Trust Bank t-cash, VISA/Master Card, Bkash, Rocket ইত্যাদির মাধ্যমে এক হাজার টাকা (অফেরতযোগ্য) আবেদন ফি প্রদান করতে পারবেন।  আবেদনপ্রক্রিয়ায়ই ওয়েবসাইটে বর্ণিত পদ্ধতি অনুসরণ করে আবেদন করা যায় এবং তাত্ক্ষণিকভাবে প্রাথমিক সাক্ষাৎকারের কল-আপ লেটার পাওয়া যায়। অনলাইনে আবেদন করতে কোনো ধরনের অসুবিধা হলে +৮৮০১৮৮৫০২২০২২ নম্বরে সরাসরি যোগাযোগ করতে পারবেন।

 

প্রার্থী নির্বাচন পদ্ধতি

প্রার্থী নির্বাচন করা হবে পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক মৌখিক পরীক্ষা, লিখিত পরীক্ষা,  আইএসএসবি পরীক্ষা, চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা নেওয়ার মাধ্যমে।

প্রাথমিক মৌখিক পরীক্ষা : প্রাথমিক নির্বাচনী (স্বাস্থ্য ও মৌখিক) পরীক্ষা আগামী ১১ থেকে ২০ নভেম্বর ২০১৯ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন সেনানিবাসে অনুষ্ঠিত হবে। কোনো প্রার্থী পরীক্ষার দিন উপস্থিত হতে অপারগ হলে বর্ণিত সময়ের মধ্যে যেকোনো দিন উপস্থিত হয়ে ওই পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পারবে। তবে পরীক্ষার তারিখ পরিবর্তনের বিষয়টি আগে নিজ নিজ পরীক্ষাকেন্দ্রে জানাতে হবে।

লিখিত পরীক্ষা : প্রাথমিক নির্বাচনী পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের বাংলা, ইংরেজি, সাধারণ গণিত এবং সাধারণ জ্ঞান বিষয়ে সাক্ষাৎকারপত্রে উল্লিখিত স্থানে অংশগ্রহণ করতে হবে। লিখিত পরীক্ষা হবে আগামী ২৯ নভেম্বর ২০১৯। ফলাফল ৫ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

আইএসএসবি পরীক্ষা : লিখিত পরীক্ষায় যোগ্য প্রার্থীদের ঢাকা সেনানিবাসে অবস্থিত আইএসএসবির নিকট পরীক্ষা/সাক্ষাৎকারের জন্য নির্ধারিত তারিখে উপস্থিত হতে হবে। সাক্ষাৎকারের তারিখ আইএসএসবির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে।

চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষা : আইএসএসবি পরীক্ষা চলাকালীন প্রার্থীদের চূড়ান্ত স্বাস্থ্য পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে।

চূড়ান্ত নির্বাচন ও যোগদান নির্দেশিকা : উপরোক্ত সব পরীক্ষায় যোগ্যতা অর্জন সাপেক্ষে শূন্য আসনের অনুকূলে মেধাক্রম অনুযায়ী প্রার্থীদের সেনা সদর, এজি শাখা, পিএ পরিদপ্তর কর্তৃক চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত ঘোষণা এবং পরবর্তী সময়ে যোগদানের নির্দেশিকা প্রদান করা হবে। 

 

বিএমএ প্রশিক্ষণ

ক্যাডেটরা একাডেমিতে তিন বছরের প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন।  বিএমএ প্রশিক্ষণকালীন প্রশিক্ষণের পাশাপাশি এমআইএসটিতে ইঞ্জিনিয়ার ডিগ্রি (ইইসিই, সিএসই, এমই, সিই) ও বিইউপিতে (আইআর, অর্থনীতি, পদার্থ, বিবিএ) স্নাতক (সম্মান) বিষয়ে পড়াশোনা করবেন। প্রশিক্ষণ শেষে লেফটেন্যান্ট কমিশন পাবেন। চতুর্থ বছরে বিএমএ/এমআইএসটিতে অবস্থান করে অফিসার হিসেবে স্নাতক (সম্মান)/ইঞ্জিনিয়ার সম্পন্ন করবেন।

 

সুযোগ-সুবিধা

সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্যান্য সুবিধাসহ সশস্ত্র বাহিনীর বেতনক্রম অনুযায়ী ক্যাডেটরা বেতন ও ভাতা প্রাপ্ত হবেন। পরবর্তী সময়ে কমিশনপ্রাপ্তির পর লেফটেন্যান্টের বেতন-ভাতা ও অন্যান্য আনুষঙ্গিক সুবিধাপ্রাপ্ত হবেন।  প্রশিক্ষণের বিভিন্ন পর্যায়ে ও কমিশনপ্রাপ্তির পর মেধাবী ক্যাডেট ও অফিসারদের প্রশিক্ষণের জন্য বিদেশ গমনের সুযোগ। এ ছাড়া উচ্চতর শিক্ষা, বাসস্থান, চিকিৎসা, সন্তানদের অধ্যয়নের সুযোগ-সুবিধা তো থাকছেই।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা