kalerkantho

বিআরটিসির দরকার ৩০২ চালক

অস্থায়ী ভিত্তিতে বাস-ট্রাক চালক (অপারেটর গ্রেড-সি) পদে ৩০২ জনকে নিয়োগ দেবে রাষ্ট্রীয় পরিবহন সংস্থা বিআরটিসি। ২৫ জুলাই বাংলাদেশ প্রতিদিনে (পৃষ্ঠা-৭) এসংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি প্রকাশিত হয়েছে। আবেদনের শেষ তারিখ ২০ আগস্ট। পরীক্ষাপদ্ধতি, প্রস্তুতিসহ অন্যান্য তথ্য জানাচ্ছেন ফরহাদ হোসেন

৭ আগস্ট, ২০১৯ ০০:০০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বিআরটিসির দরকার ৩০২ চালক

যোগ্যতা : শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম বা সমমানের পাস। ২৫ জুলাই ২০১৯ তারিখে বয়স সর্বোচ্চ ৩২ বছর। বৈধ ড্রাইভিং লাইসেন্স এবং গাড়িচালনায় কমপক্ষে ২ বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। যানবাহনের প্রাথমিক মেরামত, রুটিন রক্ষণাবেক্ষণ, খুচরা যন্ত্রাংশ সম্পর্কে জানাশোনাসহ পরিযান বিধি এবং মহাসড়ক সম্পর্কে জ্ঞান থাকতে হবে।

আবেদন যেভাবে : আবেদন লিখতে হবে সাদা কাগজে হাতে বা কম্পিউটারে। আবেদনে প্রার্থীর যাবতীয় তথ্য সংযোজন করতে হবে। তিন কপি পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবি, জাতীয় পরিচয়পত্র/জন্ম নিবন্ধন, শিক্ষাগত যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা, চারিত্রিক ও নাগরিক সনদ গেজেটেড কর্মকর্তা কর্তৃক সত্যায়িত করে এবং ড্রাইভিং লাইসেন্সের দুই সেট ফটোকপি সংযুক্ত করে দিতে হবে ‘চেয়ারম্যান, বিআরটিসি, পরিবহন ভবন, ২১, রাজউক এভিনিউ, ঢাকা-১০০০’ বরাবরে। ১৫০ টাকার ব্যাংক ড্রাফট অথবা পে-অর্ডারও (অফেরতযোগ্য) এর সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। ২০ আগস্ট ২০১৯ পর্যন্ত চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি), পরিবহন ভবন, ২১, রাজউক এভিনিউ, ঢাকা ১০০০—এই ঠিকানায় আবেদন জমা দেওয়া যাবে। আবেদনপত্রের খামের ওপর পদের নাম, নিজ জেলার নাম এবং মুক্তিযোদ্ধা বা অন্য যেকোনো কোটা থাকলে তা উল্লেখ করতে হবে।

পরীক্ষার বিষয়াদি : বিআরটিসির মিরপুর বাস ডিপোর ম্যানেজার (অপারেশন)

মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম জানান, বাস ও ট্রাকচালক নিয়োগে কালার ভিশন টেস্ট, লিখিত, ড্রাইভিং টেস্ট এবং মৌখিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। মোট ১০০ নম্বর থাকে। প্রার্থীদের ড্রাইভিং লাইসেন্স সঠিক কি না এবং লাইসেন্স পাওয়ার পর দুই বছর পূর্ণ হয়েছে কি না—এসব তথ্য বিআরটিএ থেকে যাচাই করার পর যোগ্য প্রার্থীদের বাছাই পরীক্ষার প্রবেশপত্র দেওয়া হয়। প্রবেশপত্রে পরীক্ষার ধরন, পরীক্ষার কেন্দ্র, তারিখ ও সময় উল্লেখ থাকবে। প্রথমে নেওয়া হবে কালার ভিশন টেস্ট। উত্তীর্ণ হলে একই দিনে বসতে হবে ৪০ নম্বরের লিখিত পরীক্ষায়। লিখিত পরীক্ষায় প্রাথমিক শ্রেণির বাংলা, অঙ্ক, ইংরেজি, সাধারণ জ্ঞানসহ গাড়িচালনার প্রাথমিক নিয়ম-কানুন বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়। লিখিত পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলে দিতে হবে রোড টেস্ট, এল টেস্ট ও র‌্যাম্প টেস্ট বিষয়ে ৫০ নম্বরের ড্রাইভিং টেস্ট বা ব্যাবহারিক পরীক্ষা। সবশেষে নেওয়া হবে ১০ নম্বরের ভাইভা।

পরীক্ষার প্রস্তুতি : বিআরটিসি, মিরপুর বাস ডিপোর বাসচালক মো. ফয়সাল হোসেন জানান, বিআরটিসির বাস বা ট্রাকচালক হতে চাইলে গাড়িচালনায় দক্ষ হতে হবে। প্রাথমিক শ্রেণির বাংলা, ইংরেজি ও অঙ্কের সঙ্গে লিখিত পরীক্ষায় সব প্রশ্নই করা হয় মোটরযান সম্পর্কিত বিষয়ে। মৌখিক পরীক্ষায় মোটরগাড়ি চালনা, রক্ষণাবেক্ষণ, সিগন্যাল, মোটরযান বিধিমালা ইত্যাদি বিষয়ের প্রাথমিক দিকগুলো সম্পর্কে কতটুকু ধারণা আছে কর্তৃপক্ষ তা জানতে চায়। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে বলেন, সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন আসে সিগন্যাল, ট্রাফিক আইন, ট্রাফিক সাইন, গাড়িচালনার নিয়ম-কানুন বিষয়ে। নিয়োগ পরীক্ষার প্রস্তুতির জন্য গাড়ির যন্ত্রাংশ, সিগন্যাল, মোটরযান বিধি, র‌্যাম্পে ওঠানামা, বিকন বা ঝিকঝাক বাতিসংক্রান্ত বিষয়গুলোর খুঁটিনাটি সম্পর্কে ধারণা থাকতে হবে। এ ছাড়া গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ, প্রাথমিক মেরামত, খুচরা যন্ত্রাংশের ব্যবহারের বিষয়গুলো জানা থাকতে হবে। ড্রাইভিং টেস্ট বা ব্যাবহারিক পরীক্ষায় নিয়োগ কর্তৃপক্ষ প্রার্থীর গাড়িচালনায় দক্ষতা যাচাই করেন। ড্রাইভিংয়ে প্রশিক্ষণের ওপর বিআরটিসির গাইড বইটি প্রার্থীদের সহায়ক হতে পারে।

প্রশিক্ষণ ও বেতন-ভাতা : প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত হওয়ার পর বিআরটিসি কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, গাজীপুরে ভারী যান চালনায় ১৫ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। নিয়োগপ্রাপ্ত একজন বাস বা ট্রাকচালক জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ১৬তম গ্রেডে ৯৩০০-২২৪৯০ টাকা বেতন এবং বিধি মোতাবেক অন্যান্য সুবিধা পাবেন।

মন্তব্য